গর্তে পড়া অর্থনীতি টেনে তোলার সংগ্রামে লিপ্ত সরকার
প্রাক-বাজেট আলোচনা অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:৪৬
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, ‘আমরা একটি কঠিন সময় পার করছি। বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার ও অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে অনিয়ম দুর্নীতি ও জালিয়াতির কারণে গর্তে পড়া অর্থনীতি টেনে তোলার সংগ্রামে লিপ্ত বর্তমান সরকার। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতিতে সৃষ্ট বিভিন্ন ধরনের সংকট। এই পরিস্থিতিতে বিগত সময়ের পৃষ্ঠপোষকতার রাজনীতি থেকে বেরিয়ে অর্থনীতির গণতন্ত্রায়নের দিকে এগোচ্ছে বিএনপি সরকার।
জাতীয় বাজেট নিয়ে প্রাক-বাজেট আলোচনায় এসব কথা বলেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আমরা দায়িত্ব নিয়ে প্রথমেরই বঞ্চিত মানুষদের সাপোর্ট দেওয়ার কার্যক্রম হাতে নিয়েছি। ফ্যামিলি কার্ড, হেলথ কার্ড এই সাপোর্টের অংশ। এর মাধ্যমে আমরা অর্থনীতিতে সরাসরি অন্তর্ভূক্ত নন এমন ব্যক্তিদের সুবিধা দিয়ে তাদের ক্ষমতায়নের চেষ্টা করছি।
‘যে কামার-কুমার বা তাঁতীরা এত সৃজনশীল কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত হয়েও অর্থনীতিতে বড় ধরনের কোনো অবদান রাখতে পারছে না, তাদের জন্য আমরা কিছু করতে চাই। এটাকে আমরা বলছি ক্রিয়েটিভ ইকোনমি,’ যোগ করেন অর্থমন্ত্রী। এসময় অর্থমন্ত্রী ‘সিরিয়াস ডিরেগুলেশন’-এর কথাও স্মরণ করিয়ে দেন। যা তিনি জাতীয় নির্বাচনের আগে থেকেই বলে আসছেন। তিনি অতীতেও এ বিষয়ে বলেছেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে অর্থনীতির অনেক খাতেই সিরিয়াস ডিরেগুলোশন বাস্তবায়ন করবে। প্রাক-বাজেট আলোচনায় তিনি বলেন, ‘আমরা ব্যবসা-বাণিজ্যকে সহজ করতে চাই। এখানে একটি রেস্টুরেন্ট করতে অনেকগুলো লাইসেন্স নিতে হয়। এভাবে কোনো ব্যবসা হয় না। আমরা চাই এই কাজটি সহজ করে আনতে।’ এক প্রশ্নের জবাবে পুঁজিবাজারের বড় ধরনের উন্নয়নের আশাবাদ ব্যক্ত করে আমির খসরু বলেন, সরকার বেসরকারি খাত থেকে উচ্চ সুদে ঋণ নেওয়ার পক্ষপাতি না। অতীতে যারা এধরনের ঋণ নিয়েছে তারা অনেক বড় বোঝা রেখে গেছেন। সরকারের ঋণের জন্য ব্যাংকের বিকল্প হিসেবে পুঁজিবাজারকে কিভাবে কাজে লাগানো যায় সে বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, এটা সম্ভব হলে উচ্চ সুদ পরিশোধ না করে আমরা সেই টাকা শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে ব্যয় করতে পারবো। তিনি আরও বলেন, অতীতে পুঁজিবাজারের পতনের কারণে ব্যবসায়ীরা ব্যাংক ঋণের দিকে ঝুঁকে পড়ে। তবে সেখানে অনেক বেশি সুদ দিতে হয়। ব্যাংকগুলোও স্বল্পমেয়াদী আমানত সংগ্রহ করে দীর্ঘমেয়াদী অর্থায়নে গিয়ে বিপদে পড়ে। অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমরা এটা থেকে বের হতে চাই। আমরা চেষ্টা করছি পুঁজিবাজারের বড় ধরনের উন্নয়ন ঘটাতে। এটা সামনে দেখতে পাবেন।
গ্যামলিংয়ের কারণে এই বাজারকে ক্যাসিনো মনে করে অনেক ভালো কোম্পানি, একারণে তারা পুঁজিবাজারে আসতে আগ্রহী না। এখানে ভালো প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী ছাড়া পুঁজিবাজার সামনে এগোবে না। আমরা চেষ্টা করছি। সামনে একটি বড় পরিবর্তন এই খাতে দেখতে পাবেন।’ বিদেশে সরকারি কাজে পুঁজিবাজার থেকে ঋণ নেওয়ার উদাহরণ দিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘বাইরের দেশে মিউনিসিপালের কাজ করতে তারা পুঁজিবাজার থেকে টাকা তোলে। আমরা এই ব্যবস্থা করতে পারলে সরকারের তহবিল থেকে সুদ পরিশোধের চাপ কমবে। সেই অর্থ আমরা অগ্রাধিকার খাতে ব্যয় করতে পারবো।

logo-2-1757314069.png)
