সবজি-মুরগির দাম কমলেও মাছের বাজারে অস্থিরতা
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ১২:২৮
এক সপ্তাহের ব্যবধানে রাজধানীর বাজারগুলোতে সবজি ও মুরগির দাম কিছুটা কমলেও বেড়েছে মাছের দাম। বাজারে বিভিন্ন ধরনের সবজি কেজিতে ১০ থেকে ৪০ টাকা পর্যন্ত কমেছে। তবে প্রায় সব ধরনের মাছের দাম কেজিতে ২০ থেকে ৫০ টাকা বেড়েছে।
শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) রাজধানীর শেওড়াপাড়া ও তালতলা কাঁচাবাজার ঘুরে বিভিন্ন পণ্যমূল্যের এমন চিত্র দেখা গেছে। বাজার ঘুরে দেখা যায়, গ্রীষ্মকালীন সব ধরনের সবজি গত সপ্তাহের তুলনায় কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা কমেছে। এসব বাজারে বরবটি কেজিতে ২০ টাকা কমে ৮০ টাকা, বিভিন্ন ক্যাটাগরির বেগুন কেজিতে ১০ টাকা কমে ৭০-১২০ টাকা, কচুর লতি কেজিতে ২০ টাকা কমে ৮০ টাকা, করলা ৮০ থেকে ১০০ টাকা, ঢেঁড়স কেজিতে ৩০ টাকা কমে ৪০ থেকে ৫০ টাকা, পটল কেজিতে ২০ টাকা কমে ৮০ টাকা, কচুরমুখীর ১০০ থেকে ১২০ টাকা, সজিনা ৮০ থেকে ১০০ টাকা এবং ধুন্দল ৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
শেওড়াপাড়ায় সবজি বিক্রেতা মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, পাইকারি বাজারে সব ধরনের সবজি দাম প্রতি পাল্লায় (৫ কেজি) ৫০ থেকে ১০০ টাকা কমেছে। তিনি বলেন, সবজির সংকট নেই, জ্বালানি পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে সবজির দাম অনেক কমে আসবে। এসব বাজারে কাঁচামরিচ কেজিতে ৪০ টাকা কমে ৬০ থেকে ৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। পেঁপে ৫০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৪০ টাকা, দেশি শসা ৭০ থেকে ৮০ টাকা এবং হাইব্রিড ৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করতে দেখা গেছে। বাজারগুলোতে এক হালি লেবু ৩০ থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বাজারে দেশি ধনে পাতা ১৮০ টাকা এবং হাইব্রিড ধনেপাতা ১০০ থেকে ১২০ কেজি, পুদিনা পাতা ২০০ টাকা কেজি, কাঁচা কলা হালি বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকায়, চাল কুমড়া ৬০ টাকা পিস এবং ক্যাপসিকাম ৩০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। সোনালি মুরগি কেজিতে ৪০ টাকা কমে ৩৮০ টাকা এবং সোনালি হাইব্রিড মুরগি ৩৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। লাল লেয়ার ৩৩০ টাকা, সাদা লেয়ার ২৯০ টাকা, ব্রয়লার মুরগি ১৯০ টাকা এবং দেশি মুরগি ৬৯০ টাকা দরে করে বিক্রি হচ্ছে।
এসব বাজারে গরুর মাংস ৮০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে, গরুর কলিজা ৮০০ টাকা, গরুর মাথার মাংস ৪৫০ টাকা, গরুর বট ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা এবং খাসির মাংস কেজি প্রতি ১২০০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে। শীতকালীন শিম কেজিতে প্রকারভেদে ৭০ থেকে ৮০ টাকা, টমেটো প্রকারভেদে ৫০ থেকে ৬০ টাকা, দেশি গাজর ৫০ থেকে ৬০ টাকা, মুলা ৬০ টাকা, ফুল কপি বড় সাইজের প্রতি পিস ৬০ টাকা, বাঁধাকপি ৪০ টাকা এবং লাউ ৬০ থেকে ৭০ টাকা পিস বিক্রি হচ্ছে। এসব বাজারে লাল শাক আঁটি ১০ টাকা, লাউ শাক আঁটি ৩০ টাকা, কলমি শাক ২ আঁটি ২০ টাকা, পুঁই শাক ৩০ টাকা এবং ডাটা শাক দুই আঁটি ২০ টাকা, পালং শাক ২ আঁটি ৩০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। বাজারগুলোতে আলু ২৫ টাকা, দেশি পেঁয়াজ ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করতে দেখা গেছে।
তবে মাছের বাজারে অস্থিরতা দেখা গেছে। সব ধরনের মাছের দাম বেড়েছে। ৩০০ গ্রাম সাইজের ১ কেজি ইলিশ মাছ ১৪০০ টাকা থেকে ১৫০০ এবং ৫০০ গ্রামের ইলিশ ২০০০ থেকে ২২০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এক কেজি শিং মাছ চাষের (আকারভেদে) বিক্রি হচ্ছে ৪০০ থেকে ৬০০ টাকায়, দেশি শিং ১২০০ থেকে ১৪০০ টাকা, প্রতি কেজি রুই মাছের দাম বেড়ে (আকারভেদে) ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকায়, দেশি মাগুর মাছ ৯০০ থেকে ১২০০ টাকা, মৃগেল ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকায়, চাষের পাঙ্গাস ১৮০ থেকে ২০০ টাকায়, চিংড়ি প্রতি কেজি ৮০০ থেকে ১৪০০ টাকায়, বোয়াল মাছ প্রতি কেজি ৬০০ থেকে ৮০০ টাকায়, বড় কাতল ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকায়, পোয়া মাছ ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকায়, পাবদা মাছ ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকায়, তেলাপিয়া ২০০ টাকায়, কৈ মাছ ২০০ থেকে ২২০ টাকায়, মলা ৫০০ টাকা, বাতাসি টেংরা ১৪০০ টাকায়, টেংরা মাছ ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা, কাচকি মাছ ৫০০ টাকায় এবং পাঁচমিশালি মাছ ২২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। বাজারগুলোতে এক ডজন লাল ডিম বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৩০ টাকায়, হাঁসের ডিম ২০০ টাকায়, দেশি মুরগির ডিমের হালি ১০০ টাকা এবং সোনালি কক মুরগির ডিম হালি ৭০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে।

logo-2-1757314069.png)
