Logo
×

অর্থ ও বাণিজ্য

নতুন গভর্নর কি সত্যিই ঋণখেলাপি?

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০০:০৮

নতুন গভর্নর কি সত্যিই ঋণখেলাপি?

দেশের ১৪তম গভর্নর হিসেবে ব্যবসায়ী মো. মোস্তাকুর রহমানের নিয়োগের পর থেকেই আর্থিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা। সামাজিক মাধ্যমে কেউ তাকে ‘ঋণখেলাপি’ আখ্যা দিচ্ছেন, আবার কেউ বলছেন—আইনের চোখে এখন আর সেই তকমা প্রযোজ্য নয়। তাহলে বাস্তবতা কী?

পুরোনো খেলাপি ঋণের ইতিহাস কি এখনও তাকে প্রশ্নের মুখে রাখে, নাকি পুনঃতফসিলের মাধ্যমে বদলে গেছে তার অবস্থান? মোস্তাকুর রহমান তৈরি পোশাক খাতের একজন উদ্যোক্তা। তিনি বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সদস্য এবং নারায়ণগঞ্জভিত্তিক হেরা সোয়েটার্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট বিভাগ থেকে জানা গেছে, মোস্তাকুর রহমান মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক লিমিটেডে তার মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের নামে ৮৯ কোটি ২ লাখ টাকার একটি ঋণ একসময় খেলাপি হয়ে পড়েছিল। গত বছরের এপ্রিলে তিনি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিশেষ সুবিধার আওতায় ওই ঋণ খেলাপিমুক্ত হতে পুনঃতফসিলের আবেদন করেন। পরে ২ শতাংশ ডাউন পেমেন্ট পরিশোধের মাধ্যমে বিশেষ বিবেচনায় ঋণটি ১০ বছরের জন্য পুনঃতফসিলের সুযোগ পান। যদিও তিনি দুই বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ ১৫ বছরের জন্য পুনঃতফসিল চেয়েছিলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংক তা অনুমোদন না করে ১০ বছরের সীমা নির্ধারণ করে।

ব্যাংকিং বিধি অনুযায়ী, নির্ধারিত ডাউন পেমেন্ট দিয়ে ঋণ পুনঃতফসিল অনুমোদিত হলে এবং গ্রাহক শর্ত মেনে চললে তাকে আর খেলাপি হিসেবে শ্রেণিভুক্ত করা হয় না। সেই হিসেবে বর্তমানে আইনগতভাবে মোস্তাকুর রহমানকে ঋণখেলাপি বলা যাবে না। তবে এখানেই থেমে নেই বিতর্ক।

বিশেষ পুনঃতফসিলের ক্ষেত্রে অনেক ঋণগ্রহীতা অতিরিক্ত অর্থ, জরিমানা বা সুদ গুনতে হয়—এমন অভিযোগ দীর্ঘদিনের। সে ক্ষেত্রে নতুন গভর্নর কোনো বিশেষ সুবিধা পেয়েছেন কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। যদিও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি; কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, তিনি ন্যূনতম ২ শতাংশ ডাউন পেমেন্ট দিয়েই ১০ বছরের পুনঃতফসিল সুবিধা পেয়েছেন। উল্লেখ্য, দেশে ব্যবসায়িক ক্ষতি ও আর্থিক সংকটে পড়া প্রতিষ্ঠানগুলোকে পুনরুজ্জীবিত করতে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে বিশেষ ঋণ পুনর্গঠন নীতিমালা চালু করে বাংলাদেশ ব্যাংক। সেই নীতিমালার আলোকে একাধিক প্রতিষ্ঠান পুনঃতফসিলের সুযোগ পেয়েছে। তবে আর্থিক খাতের সর্বোচ্চ পদে থাকা ব্যক্তির ক্ষেত্রেই স্বচ্ছতা ও সমতার প্রশ্নটি স্বাভাবিকভাবেই বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে।