Logo
×

অপরাধ ও আইন

হাদির হত্যাকারী ফয়সালের ৫৩ ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধের আদেশ

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৮ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:২৭

হাদির হত্যাকারী ফয়সালের ৫৩ ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধের আদেশ

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদের নামে থাকা ৫৩টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। এসব অ্যাকাউন্টে মোট জমা আছে ৬৫ লাখ ৫০ হাজার ২৪৬ টাকা।

সিআইডি পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার ঢাকা মহানগর দায়রা জজ সাব্বির ফয়েজ এ আদেশ দেন। সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী রিয়াজ হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডি পুলিশের এসআই আব্দুল লতিফ এসব ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করার আবেদন করেন। আবেদনে বলা হয়, ঢাকার পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট রোডে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরীফ ওসমান বিন হাদিকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদসহ তার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মানিলন্ডারিং সংশ্লিষ্ট অভিযোগের অনুসন্ধান চলছে।

অনুসন্ধানকালে সন্দেহভাজন অভিযুক্ত মো. ফয়সাল করিম মাসুদ এবং তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির নামে থাকা এসব হিসাব বিশ্লেষণে উল্লেখযোগ্য সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে। আবেদনে আরও বলা হয়, প্রাথমিক অনুসন্ধানে ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে খুন, সন্ত্রাস, সন্ত্রাসী কার্যক্রমে অর্থ জোগান এবং সংঘবদ্ধ অপরাধে সম্পৃক্ততার প্রাথমিক প্রমাণ মিলেছে। এসব অপরাধ মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের আওতাভুক্ত সম্পৃক্ত অপরাধ হিসেবে গণ্য। এ অবস্থায় মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ (সংশোধনী ২০১৫)–এর ১৪ ধারার বিধান অনুযায়ী হিসাবগুলো অবরুদ্ধ করা এবং একই আইনের ১৭(২) ধারার বিধান অনুসারে হিসাবসমূহে স্থিত অর্থ রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করা একান্ত প্রয়োজন। অন্যথায় অভিযোগ নিষ্পত্তির আগেই এসব অর্থ বেহাত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এদিকে হাদি হত্যা মামলায় ফয়সাল করিম মাসুদ ও সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পিসহ মোট ১৭ জনকে আসামি করে মঙ্গলবার অভিযোগপত্র দিয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। তাদের মধ্যে বর্তমানে ১১ জন গ্রেপ্তার রয়েছেন। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার শফিকুল ইসলাম জানান, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর এবং ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পির ‘পরিকল্পনাতেই’ শরীফ ওসমান বিন হাদিকে হত্যা করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘পতিত (আওয়ামী লীগ) সরকারের বিরুদ্ধে হাদি সোচ্চার ছিলেন। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণেই তাকে হত্যা করা হয়েছে।’ এই মামলায় গ্রেপ্তার ১১ জন হলেন—ফয়সাল করিম মাসুদের বাবা মো. হুমায়ুন কবির ও মা মোসা. হাসি বেগম, স্ত্রী সাহেদা পারভীন সামিয়া, বান্ধবী মারিয়া আক্তার লিমা, শ্যালক ওয়াহিদ আহমেদ সিপু, রেন্ট-এ-কার ব্যবসায়ী মুফতি মো. নুরুজ্জামান নোমানী ওরফে উজ্জ্বল, সহযোগী মো. কবির, ভারতে পালাতে সহায়তাকারী সিবিউন দিউ ও সঞ্জয় চিসিম, কাউন্সিলর বাপ্পির বোনজামাই আমিনুল ইসলাম রাজু এবং সিপুর ঘনিষ্ঠ মো. ফয়সাল (ফয়সাল করিম মাসুদ নন)। অন্যদিকে তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পি, ফয়সাল করিম মাসুদ, মোটরসাইকেল চালক আলমগীর, ভারতে পাচারে সহায়তাকারী ফিলিপ, ফয়সালের বোন জেসমিন ও তার স্বামী মুফতি মাহমুদ পলাতক রয়েছেন।