Logo
×

অপরাধ ও আইন

মুছাব্বির হত্যার সিসিটিভি ফুটেজ: দেখা গেছে মাফলার পরা দুই খুনিকে

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৮ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:০৫

মুছাব্বির হত্যার সিসিটিভি ফুটেজ: দেখা গেছে মাফলার পরা দুই খুনিকে

রাজধানীর তেজগাঁওয়ে ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমান মুছাব্বিরকে গুলি করে হত্যার ঘটনা সিসিটিভি ফুটেজে পাওয়া গেছে। পুলিশ জানিয়েছে, আগে থেকেই ওত পেতে থাকা দুই ব্যক্তি চাদর ও মুখে মাফলার পরা অবস্থায় মুছাব্বিরকে গুলি করে পালিয়ে যায়।

ঘটনাটি ঘটে তেজগাঁও স্টার হোটেলের পাশের আহসানুল্লাহ মিশন রোডে। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, দুই ব্যক্তি সেখানে আগে থেকেই অবস্থান করছিল। মুছাব্বির তার সঙ্গে থাকা সুফিয়ান বেপারী মাসুদকে নিয়ে গলি দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় তাদের লক্ষ্য করে গুলি করা হয়। এতে দুজনই গুলিবিদ্ধ হন। পেটে গুলি লাগায় গুরুতর আহত মুছাব্বির মারা যান। অপরদিকে সুফিয়ান বেপারী মাসুদ ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

বুধবার (৭ ডিসেম্বর) রাতে ঢাকা মহানগর তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. ইবনে মিজান জানান, তেজগাঁওয়ের কারওয়ান বাজার এলাকার আহসানুল্লাহ মিশন গলিতে এ ঘটনা ঘটে। এতে আজিজুর রহমান মুছাব্বির নিহত হন এবং তার সঙ্গে থাকা মাসুদ আহত হন। পুলিশ জানায়, ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনায় দেখা গেছে, দুই হামলাকারী গায়ে চাদর ও মুখে মাফলার পরা অবস্থায় আগে থেকেই গলিতে ওত পেতে ছিলেন। মুছাব্বির ও মাসুদ গলি দিয়ে যাওয়ার সময় তারা গুলি চালায়। এরপর গুলি ছুড়ে দ্রুত দৌড়ে মূল সড়ক দিয়ে পালিয়ে যায় হামলাকারীরা। তবে সরাসরি গুলি ছোড়ার মুহূর্ত ফুটেজে স্পষ্ট নয়, কারণ গলিটি কিছুটা অন্ধকার।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (তেজগাঁও জোন) মো. ফজলুল করিম বলেন, দুই ব্যক্তি আগে থেকেই গলিতে ওত পেতে ছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে এটিকে একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে মনে হচ্ছে। পুলিশ জানায়, ঘটনাস্থল থেকে তিনটি গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়েছে। আহত ব্যক্তির সঙ্গে এখনও বিস্তারিত কথা বলা সম্ভব হয়নি। একইভাবে নিহতের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেও বিস্তারিত কথা বলা বাকি রয়েছে। হত্যাকাণ্ডের কারণ ও জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত চলছে এবং হত্যাকারীদের গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক ইউনিট কাজ করছে। রাত আনুমানিক সাড়ে ৮টার দিকে এই গুলির ঘটনা ঘটে। নিহত মুছাব্বির তিন ভাইবোনের মধ্যে সবার বড় ছিলেন। তিনি দুই মেয়ে ও এক ছেলের জনক। তাদের পৈতৃক বাড়ি পশ্চিম কারওয়ান বাজার এলাকায়। তার বাবার নাম খলিলুর রহমান।

নিহতের ছোট ভাই মাহাবুবুর রহমান আজমাইন জানান, তার বড় ভাই একজন ব্যবসায়ী ছিলেন। পানি সরবরাহ ও পিকআপভ্যানের ব্যবসা ছিল তার। পাশাপাশি পৈতৃক বাড়ি থেকেও ভাড়া পেতেন। তিনি স্ত্রী সুমি ও তিন সন্তানকে নিয়ে রাজধানীর অন্য একটি এলাকায়, সম্ভবত বনশ্রীতে বসবাস করতেন। তবে মাঝে মাঝে পশ্চিম কারওয়ান বাজারের বাড়িতেও থাকতেন। মোবাইলে এক প্রশ্নের জবাবে মাহাবুবুর রহমান আজমাইন বলেন, তার ভাইয়ের জীবননাশের কোনো হুমকির কথা তিনি জানতেন না। কারা বা কেন মুছাব্বিরকে হত্যা করেছে, সে বিষয়েও তিনি কিছু বলতে পারেননি। গুলির ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন মুছাব্বিরকে উদ্ধার করে পান্থপথের বিআরবি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানেই তিনি মারা যান বলে পুলিশ জানিয়েছে। একই ঘটনায় গুলিবিদ্ধ সুফিয়ান বেপারী মাসুদকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। এদিকে হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবিতে কারওয়ান বাজার সার্ক ফোয়ারার চত্বরে স্থানীয়রা প্রায় আধাঘণ্টা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। এ সময় চারপাশের এলাকায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।