ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ আশুলিয়া থানার মুন্সি রাকিবের বিরুদ্ধে
আশুলিয়া প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২১ মে ২০২৬, ১৯:২৫
আশুলিয়া থানার মুন্সি এ এস আই রাকিবের বিরুদ্ধে ঘুষ লেনদেন এবং মামলা বানিজ্যর অভিযোগ উঠেছে।
জানা যায় মুন্সি রাকিব আশুলিয়া থানায় মুন্সির দায়িত্ব থাকার সুবাদে এই অঞ্চলের মানুষের সাথে তার একটা সুসম্পর্ক গড়ে উঠেছে। আর সেই সুযোগ কে কাজে লাগিয়ে হাতিয়ে নিচ্ছেন লাখ লাখ টাকা।
পুলিশের চাকরিতে উচ্চতার একটা বিষয় থাকলেও এ এস আই রাকিবের উচ্চতা নিয়ে রয়েছে নানা গুঞ্জন। তার আচার-আচরণে বিরক্ত তার সহকর্মীরাও।সেবাগ্রহীতাদের সাথে প্রতিনিয়ত তিনি খারাপ আচরণ করেন।
অনুসন্ধানে উঠে আসে মুন্সি রাকিবের ঘুষ বানিজ্যর সব তথ্য। থানার মুন্সি হওয়ার সুবাদে তার কাছে থাকে সব গুরুত্বপূর্ণ নথি আর সেই সুযোগ তিনি কাজে লাগিয়ে হাতিয়ে নিচ্ছেন অবৈধ অর্থ। অভিযোগ আছে অধিক টাকার বিনিময়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পরিবর্তন করা তার কাছে মামুলি বেপার। যে কোন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তন করতে তিনি নেন মোটা অংকের ঘুষ। সি আর মামলা থেকেই মুন্সি রাকিবের মাসে লাখ লাখ টাকা ঘুষ নেন।
সুমন নামের একজন বলেন, আমার ভাইয়ের একটা মামলার অগ্রগতি নাই বলে মুন্সি রাকিব অফিসার পরিবর্তন করে দিবে তার জন্য এক লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন।পরে তাকে কিছু টাকা দেওয়া হয়।টাকার বিনিময়ে সিআর মামলার অফিসার নির্ণয় করে দেন মুন্সি রাকিব।
এছাড়াও পুলিশ ক্লিয়ারেন্সের ক্ষেত্রেও তিনি মানুষের থেকে মোটা অংকের ঘুষ নিয়ে থাকেন।
তপন নামের একজন বলেন, আমার একটা পুলিশ ক্লিয়ারেন্সের জন্য তিনি ২০ হাজার টাকা দাবি করেন।
পাসপোর্ট ক্লিয়ারেন্সের জন্যও এ এস আই রাকিবের বিরুদ্ধে ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে।
আশুলিয়া থানার একজন রাইটার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বলেন,মুন্সি রাকিবের আচরণ খুবই খারাপ। বিশেষ করে কেউ মামলা করতে গেলে তাদের সাথে খারাপ আচরণ করেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আশুলিয়া থানার এক অফিসার বলেন,মুন্সি রাকিব তো বে সাইজ সে কিভাবে পুলিশের চাকরি পেলো।
তিনি আরও বলেন, সিআর যে সব মামলা হয় সেটা সে একা একা ওসিকে ভুল বুঝিয়ে, সমান হারে বন্টন না করে তার পছন্দের দুই তিনজন দিয়ে সেখান থেকে মোটা অংকের ঘুষের টাকা নেন।
আরও জানা যায়, কোর্টে যে মামলা গুলো হয় বিশেষ করে জমিজমা সংক্রান্ত, অন ফোরটি ফাইভ সহ সকল মামলার থেকে মুন্সি রাকিব নিয়ে থাকেন ঘুষের টাকা। একজনের পক্ষ নিয়ে মোটা অংকের অর্থ হাতিয়ে নেন তিনি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন পুলিশ সদস্য বলেন,পাসপোর্ট ক্লিয়ারেন্স থেকে সরকার জমা নেয় ১৫০০ টাকা আর আবেদন করতে লাগে ৩০০ কিন্তু এ এস আই রাকিব সেখানে নেয় ৩ হাজার থেকে ৩৫০০ টাকা করে।প্রতি মাসে ১ শত থেকে ২ শত পাসপোর্ট ক্লিয়ারেন্স দিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন মুন্সি রাকিব।
নবিল নামের একজন অভিযোগ করে বলেন মুন্সি রাকিব আমার একটি মামলা থেকে পাঁচ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করে পরে তাকে ২ লাখ টাকা দেওয়া হয়।মুন্সি রাকিব ওসিকে ম্যানেজ করার কথা বলে টাকা নেন।
জানা যায়, আশুলিয়া থানার সাবেক অফিসার ইনচার্জ রুবেল হাওলাদারকে ব্যবহার করে মুন্সি রাকিব হাতিয়ে নিয়েছেন লাখ লাখ ঘুষের টাকা।
এছাড়াও রয়েছে মামলা বানিজ্যর ভয়ংকর সব অভিযোগ মুন্সি রাকিবের বিরুদ্ধে।
অভিযোগের বিষয়ে এ এস আই মুন্সি রাকিব মুঠোফোনে বলেন,আপনি থানায় আসেন কথা বলবো। থানায় যাওয়ার পরে তিনি বলেন, আমি এই বিষয় নিয়ে কোনও কথা বলবো না।আমাদের স্যারেরা কথা বলবেন।
এই বিষয়ে জানতে ঢাকা জেলা এসপি শামীমা ইয়াসমিন এর মুঠোফোনে একাধিকবার কল দিলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

logo-2-1757314069.png)
