Logo
×

অপরাধ ও আইন

রাজধানীতে অপরাধ দমনে জিরো টলারেন্স: ডিএমপি কমিশনার

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২০ মে ২০২৬, ১৩:৫৬

রাজধানীতে অপরাধ দমনে জিরো টলারেন্স: ডিএমপি কমিশনার

রাজধানীতে চাঁদাবাজি, ছিনতাই, মাদক, কিশোর গ্যাং, অনলাইন জুয়া ও সাইবার প্রতারণার বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে কাজ করার ঘোষণা দিয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, অপরাধী যেই হোক, তার রাজনৈতিক বা সামাজিক পরিচয় বিবেচনা করা হবে না।

বুধবার (২০ মে) রাজধানীতে আয়োজিত ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন ডিএমপির নতুন কমিশনার। দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিই ছিল তার প্রথম সংবাদ সম্মেলন।

তিনি বলেন, একটি নিরাপদ, অপরাধমুক্ত ও শান্তিময় রাজধানী গড়ে তুলতে ডিএমপি কাজ করছে। এ যাত্রায় গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ সহযোগীর ভূমিকা পালন করছে। ডিএমপি কমিশনার জানান, প্রায় তিন কোটি মানুষের এই নগরীতে ছিনতাই, মাদক, চাঁদাবাজি, কিশোর গ্যাং, অনলাইন জুয়া, সাইবার প্রতারণা ও হ্যাকিং বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসব অপরাধ দমনে গত ১ মে থেকে বিশেষ অভিযান শুরু করেছে ডিএমপি। সাইবার অপরাধ প্রতিরোধে ডিএমপির সাইবার ইউনিটকে আরও শক্তিশালী করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি। ডিবি কার্যালয়ে স্থাপিত ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব সম্প্রতি আইসিটি মন্ত্রণালয়ের স্বীকৃতি পেয়েছে। এটি সাইবার সুরক্ষা আইনের মামলার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন কমিশনার। রাজধানীর যানজট নিরসনে প্রযুক্তিনির্ভর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার ওপর জোর দিয়ে মোসলেহ উদ্দিন আহমদ বলেন, গুরুত্বপূর্ণ সড়কে এআইভিত্তিক ক্যামেরা বসানো হয়েছে এবং ভিডিও ফুটেজের ভিত্তিতে ই-প্রসিকিউশন চালু করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, নাগরিকদের অনলাইনে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার সুবিধা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ‘হ্যালো ডিএমপি’ এবং হোটেল বর্ডার ইনফরমেশন সিস্টেম চালু করা হয়েছে।

আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে রাজধানীর নিরাপত্তায় বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানান ডিএমপি কমিশনার। তিনি বলেন, পশুর হাট, ঈদের জামাত, শপিংমল ও আবাসিক এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হবে। বাস টার্মিনাল, রেলস্টেশন ও লঞ্চঘাটে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। অতিরিক্ত ভাড়া আদায় ও অতিরিক্ত যাত্রী বহনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বড় অঙ্কের অর্থ লেনদেনে পুলিশের সহায়তা নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ঈদকে কেন্দ্র করে অজ্ঞান পার্টি, মলম পার্টি, ছিনতাইকারী ও জাল নোট চক্র ঠেকাতে ডিবি ও থানা পুলিশকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে। ডিএমপি কমিশনার বলেন, ঢাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা শুধু পুলিশের একার পক্ষে সম্ভব নয়। চাঁদাবাজি ও মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। তিনি নাগরিকদের যেকোনো অপরাধের তথ্য দ্রুত পুলিশকে জানাতে এবং প্রয়োজনে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে গণমাধ্যমের প্রতি পুলিশের গঠনমূলক সমালোচনার পাশাপাশি ভালো কাজগুলোও তুলে ধরার আহ্বান জানান তিনি।