আধিপত্য ও হাট ইজারা নিয়ে দ্বন্দ্বে টিটন হত্যা: ডিবি
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ২২:০০
ঢাকার নিউমার্কেট এলাকায় শীর্ষ সন্ত্রাসী খন্দকার নাঈম আহমেদ ওরফে নাইমুর হাসান টিটন (৫৭) আধিপত্য ও হাট ইজারা নিয়ে দ্বন্দ্বে হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এই হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে বলেও জানিয়েছে তারা।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) বিকেলে ডিএমপির সদর দপ্তরে ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম এ কথা জানান। ইয়াবা ও গাঁজাসহ বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধার সংক্রান্ত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দিচ্ছিলেন তিনি। ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার বলেন, আপনারা জানেন, সে (টিটন) নিজেও একজন শীর্ষ সন্ত্রাসী ছিল। প্রাথমিকভাবে আমরা ধারণা করছি, এলাকার আধিপত্য বিস্তার নিয়ে এই হত্যাকাণ্ড হয়েছে। আমরা এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় কারা জড়িত, সে বিষয়ে তদন্ত করছি। খোঁজখবর নিচ্ছি, যারা দায়ী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, মোহাম্মদপুরের বসিলার গরুর হাট নিয়ে দ্বন্দ্ব ছিল। এই ঘটনায় পিচ্চি হেলাল ও কাইল্লা বাদলসহ অনেকের নাম উল্লেখ রয়েছে—এ বিষয়ে জানেন কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে শফিকুল ইসলাম বলেন, মামলা হয়েছে। বাদী যাদের নাম উল্লেখ করেছেন, আমরা কাজ করছি। আধিপত্য নিয়ে দ্বন্দ্ব ছিল। আপনারা জানেন সামনে কোরবানি, গরুর হাট নিয়েও দ্বন্দ্ব ছিল। এই হত্যাকাণ্ডে কারা জড়িত, সেটি উদঘাটন করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। হাট ইজারাকে কেন্দ্র করে হত্যাকাণ্ড আরও ঘটতে পারে—প্রতিরোধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করছি। হাটকে কেন্দ্র করে যেন কোনোভাবে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা না ঘটে, সেই বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ ও নজরদারি বাড়ানো হবে। বিদেশে বসে হত্যার নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে—এই বিষয়ে ব্যবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার বলেন, অতীতে এমন কর্মকাণ্ড অনেকেই করেছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এই ঘটনায় বিদেশে অবস্থানরত কারও সংশ্লিষ্টতা পেলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি যাদের এমন অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকার তথ্যপ্রমাণে দোষী সাব্যস্ত হবে, তাদের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলে চিঠি দেওয়া হবে। এটি একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। নিষিদ্ধ উগ্রবাদী সংগঠন ‘আকসা’র চার সদস্য গ্রেপ্তারের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এই ঘটনায় মামলা হয়েছে। আসামিদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। রিমান্ডে এলে জিজ্ঞাসাবাদ করে তাদের উদ্দেশ্য সম্পর্কে জানা যাবে। আমরা জেনেছি, তারা সন্ত্রাসী সংগঠন, তারা এত দিন বিভিন্নভাবে সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল।
উগ্রবাদীরা আসলেই মাথাচাড়া দিচ্ছে কি না, নাকি অন্য কোনো উদ্দেশ্য আছে—জানতে চাইলে তিনি বলেন, মাথাচাড়া দিচ্ছে, এমনটা বলব না। আমি শুধু বলব, যারা এসব কাজে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অতীতেও ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আগামীতে যারা জড়াবে, তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অতীত সরকারের সময়ে জঙ্গি নাটক সাজানো হতো—বর্তমানে কর্মকাণ্ডগুলো নিয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা জানতে চাইলে শফিকুল ইসলাম বলেন, কোনো আসামিকে ধরে নাটক সাজানোর কাজ পুলিশের না। পুলিশের কাজ হলো যে অপরাধী, তাকে আইনের আওতায় আনা। এই ব্যাপারে আমরা সজাগ রয়েছি।

logo-2-1757314069.png)
