শাহবাগ থানার ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন, সকল পক্ষকে শান্ত থাকার আহ্বান
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৫৫
শাহবাগ থানায় শিক্ষার্থীদের ওপর আক্রমণের ঘটনায় ৬ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী ৩ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা এবং সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে শান্ত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) দিবাগত রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ উপ-পরিচালক ফররুখ মাহমুদের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এতে বলা হয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের এক শিক্ষার্থী ফেসবুকে অশালীন পোস্ট করেছে এমন অভিযোগকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে তদন্তের জন্য সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের আবাসিক শিক্ষক ড. মো. আনোয়ার হোসেনকে আহ্বায়ক এবং সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের আবাসিক শিক্ষক জাওয়াদ ইবনে ফরিদকে সদস্য সচিব করে তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির অন্য সদস্য হলেন আইসিটি বিশেষজ্ঞ ও সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. মোসাদ্দেক খান। এরইমধ্যে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ ও আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে। এছাড়াও তদন্ত কমিটিকে আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নির্দেশ দিয়েছে।
এদিকে, ক্যাম্পাসের উদ্ভূত পরিস্থিতিতে রাতে প্রভোস্ট স্ট্যান্ডিং কমিটির এক জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় হলের সৌন্দর্য ও সার্বিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থে হলের অভ্যন্তরে সব ধরনের দেয়াল লিখন ও গ্রাফিতি অঙ্কন থেকে বিরত থাকার জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে ধৈর্য ধারণের আহ্বান জানিয়ে বলেছে, বিষয়টি যথাযথ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা হবে। একই সঙ্গে আইন নিজের হাতে তুলে না নেওয়ার জন্যও সকলের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ রক্ষার স্বার্থে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সহনশীলতা প্রদর্শনের জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। অন্যদিকে, শাহবাগ থানায় শিক্ষার্থীদের ওপর আক্রমণের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুব কায়সারকে আহ্বায়ক করে ছয় সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির বাকি সদস্যরা হলেন সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক ড. শান্টু বড়ুয়া, ড. মো. মোসাদ্দেক খান, ড. রফিকুল ইসলাম, রেজাউল করিম সোহাগ ও আমজাদ হোসেন। কমিটিকে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
এর আগে, শাহবাগ থানায় হাতাহাতিতে জড়ায় ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার কন্যা জায়মা রহমানকে নিয়ে ফেসবুকে আপত্তিকর পোস্ট দেওয়া নিয়ে ঘটনার সূত্রপাত। সাইবার বুলিংয়ের অভিযোগে বৃহস্পতিবার থানায় মামলা করতে যায় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। একই সময়ে সেখানে হাজির হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রশিবির ও ডাকসুর কয়েকজন প্রতিনিধি। কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে দু'পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়। এ ঘটনায় দুপক্ষই নিজেদের ওপর হামলার অভিযোগ তোলেন। এ নিয়ে ক্যাম্পাসে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

logo-2-1757314069.png)
