এক-এগারোর নেপথ্যে চাঞ্চল্যকর তথ্য, তালিকায় প্রভাবশালী নাম
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২৯ মার্চ ২০২৬, ১১:৩০
আপডেট: ২৯ মার্চ ২০২৬, ১১:৩১
দুই অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী ও শেখ মামুন খালেদকে জিজ্ঞাসাবাদে এক-এগারোর পটভূমি ও সেসময় অনেকের ভূমিকা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে এসেছে বলে দাবি করেছেন তদন্ত সংশ্লিষ্টরা। এসব তথ্যের ভিত্তিতে তৎকালীন উচ্চপদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কয়েকজন ব্যক্তির তালিকা করে তাদের ভূমিকা খতিয়ে দেখছে পুলিশসহ গোয়েন্দা ইউনিটগুলো।
রোববার (২৯ মার্চ) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী ও শেখ মামুন খালেদকে জিজ্ঞাসাবাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ডিবির কর্মকর্তাদের সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
ডিবির অভিযানে অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে গত ২৩ মার্চ রাতে বারিধারা ডিওএইচএস এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন পল্টন থানার একটি মানব পাচার মামলায় তাকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেয় ডিবি পুলিশ। অন্যদিকে, অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল শেখ মামুন খালেদকে ২৫ মার্চ দিবাগত রাতে মিরপুর ডিওএইচএস এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে বৃহস্পতিবার তাকে মিরপুরে ফল ব্যবসায়ী দেলোয়ার হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেয় ডিবি পুলিশ।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, এক-এগারোতে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের তালিকায় সাবেক সেনাপ্রধান মইন ইউ আহমেদ, মেজর জেনারেল (অব.) এ টি এম আমিন এবং চাকরিচ্যুত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল চৌধুরী ফজলুল বারীসহ সাবেক কয়েকজন সামরিক কর্মকর্তা এবং বেসামরিক কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির নাম রয়েছে। মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী ২০০৭ সালে এক-এগারোর সময় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নবম ডিভিশনের জিওসি ছিলেন। শেখ মামুন খালেদ প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) সাবেক মহাপরিচালক। এক-এগারোর সময় তিনি ছিলেন প্রভাবশালী।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সূত্রে জানা যায়, তাকে জিজ্ঞাসাবাদে উঠে এসেছে, তৎকালীন রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক ড. ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদের নেতৃত্বাধীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে সরিয়ে সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের প্রক্রিয়াটি ছিল সমন্বিত একটি উদ্যোগ। ইয়াজউদ্দিনকে প্রধান উপদেষ্টার পদ থেকে সরে দাঁড়াতে চাপ দেওয়া হয়েছিল। ঘটনার দিন ইয়াজউদ্দিনের বাসভবনে একটি চা-চক্রে তাকে সরিয়ে ড. ফখরুদ্দীন আহমদের নেতৃত্বে নতুন তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের বিষয়ে সামরিক বাহিনীর শীর্ষপর্যায়ে সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়। আরও জানা যায়, ওই বৈঠকে উপস্থিত ব্যক্তিদের অনেককেই নজরদারিতে রাখা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী দাবি করেছেন, ২০০৭ সালের ১২ জানুয়ারি ফখরুদ্দীন আহমদের নেতৃত্বে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের আগে বিষয়টি দুই প্রধান রাজনৈতিক নেত্রীকে জানানো হয়েছিল। সে সময় সরকারের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত, গ্রহণে তখনকার সেনা কমকতাদের প্রত্যক্ষ প্রভাব ছিল এবং অনেক ক্ষেত্রে সিদ্ধান্তের খসড়া তাদের পক্ষ থেকে নির্ধারিত হতো। তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সূত্রে আরও জানা যায়, রাজনৈতিক নেতা, ব্যবসায়ীসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের বিষয়ে তৎকালীন সেনা কর্মকর্তারা সিদ্ধান্ত নিতেন। খালেদা জিয়া ও শেখ হাসিনাকে গ্রেপ্তারের আগে বিষয়টি দুটি প্রভাবশালী রাষ্ট্রকে জানানো হয়েছিল তাদের সংসদ ভবন এলাকায় বিশেষ কারাগারে রাখার সিদ্ধান্তও সে সময় সেনা কর্মকর্তাদের পরামর্শে নেওয়া হয়েছিল।

logo-2-1757314069.png)
