Logo
×

অপরাধ ও আইন

ডিজিএফআইয়ের সাবেক প্রধান মামুন পাঁচ দিনের রিমান্ডে

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২৮ মার্চ ২০২৬, ০০:২৮

ডিজিএফআইয়ের সাবেক প্রধান মামুন পাঁচ দিনের রিমান্ডে

মিরপুর মডেল থানার দেলোয়ার হোসেন হত্যা মামলায় প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) সাবেক মহাপরিচালক লে. জেনারেল (অব.) শেখ মামুন খালেদের পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. ছিদ্দিক আজাদের আদালত শুনানি শেষে এই আদেশ দেন। শুনানি চলাকালে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ওমর ফারুক ফারুকী বলেন, তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে ক্যান্টনমেন্টের বাসা থেকে এক কাপড়ে বের করে দেন এই মামুন খালেদ। যার কারণে শেখ হাসিনার কাছ থেকে তিনি অনেক সুযোগ-সুবিধা নেন।

এ ছাড়া জুলাই অভ্যুত্থানের সময় হত্যার অভিযোগ ছাড়াও অন্যান্য অভিযোগের বিষয়ও তুলে ধরেন তিনি। অন্যদিকে নিজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেন মামুন খালেদ। শুনানি চলাকালে আদালতের অনুমতি নিয়ে আসামি মামুন খালেদ বলেন, ‘এক-এগারোর সময় আমি কুমিল্লায়। সেই সময়ের সঙ্গে যারা জড়িত, তারা সবাই অ্যারেস্ট।

আমি সে সময় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর তারেক সাহেবের জামিনে সরাসরি ভূমিকা পালন করেছি। জলসিড়ি প্রকল্পের টাকার যে অভিযোগ সেটি হচ্ছে, ‘নজরুল সাহেব’ নামের একজনের এক হাজার ৫০০ কোটি টাকা উদ্ধারের দায়িত্ব আমাকে দেন। আমি শুধু উদ্ধারের কাজে ছিলাম। আয়নাঘরের বিষয়ে দু-তিন বার হেয়ারিং দিয়েছি, আমার সময়কালে কোনো অভিযোগ নেই। জুলাইয়ে ১৮ সেপ্টেম্বর ইউকে থেকে ফিরে দেশে থেকে যাই।’ অবসরের পরবর্তী সময় সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘বিইউপির প্রতিষ্ঠাতা ভিসি ছিলাম। জুলাই আন্দোলনের সময় সেখানকার শিক্ষার্থীরা উৎসাহিত  হয়। এমনকি এই মামলার অভিযোগে যে জায়গার কথা বলা হয়েছে, ওখানে যাওয়ার কোনো প্রশ্নই আসে না। কারণ আমি ডিওএইচএসের বাইরে যাইনি।

২৪ সালে আমার কথামতো কে গুলি করবে? তখন আমি সিভিলিয়ান।’ আদালত সূত্রে জানা গেছে, গতকাল আসামি মামুনকে আদালতে হাজির করা হয়। এরপর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও ডিবি পুলিশের উপপরিদর্শক কফিল উদ্দিন তাঁর সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। আবেদনে রিমান্ডের প্রয়োজন বিষয়ে তিনটি কারণ উল্লেখ করা হয়। এজাহারনামীয় আসামি গ্রেপ্তার ও অজ্ঞাতনামা আসামিদের সঠিক নাম, ঠিকানা সংগ্রহ, মামলার মূল রহস্য উদঘাটন এবং ঘটনায় ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধার—এসব কারণে রিমান্ড প্রয়োজন বলে  জানানো হয়। এ ছাড়া রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, আসামি শেখ মামুন খালেদের নির্দেশে অজ্ঞাতনামা ৫০০ বা ৭০০ জন আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠনের সন্ত্রাসীরা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমন, নিপীড়নের জন্য দেশীয় অস্ত্রসহ বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্রে সজ্জিত হয়ে বিভিন্ন দিক থেকে নির্বিচারে এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। যার ফলে ভিকটিম দেলোয়ার হোসেন গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলে লুটিয়ে পড়েন। পরবর্তী সময়ে ভিকটিম দেলোয়ার হোসেন মৃত্যুবরণ করেন। সন্দিগ্ধ আসামি মামুন মামলার ঘটনায় জড়িত থাকার বিষয়ে প্রাথমিক তদন্তে পর্যাপ্ত তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। মামলার ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটন, সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে শেখ মামুন খালেদের নিবিড়ভাবে পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড একান্ত প্রয়োজন। ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ওমর ফারুক ফারুকী রিমান্ডের পক্ষে শুনানি করেন। পিপি ফারুকী আরো বলেন, ছাত্র আন্দোলনে আসামি মামুন খালেদের নির্দেশে হামলা চালানো হয়। সেখানে দেলোয়ার নামের একজন নিহত হন। এই আসামির আগের রাজনৈতিক ইতিহাস সবাই জানেন। এক-এগারোর  কুশীলবদের তিনি একজন। তখন তিনি ডিজিএফআইয়ে কর্মরত ছিলেন। সে সময় আসামি  ব্যবসায়ী রাজনৈতিক নেতাদের বন্দি করে কোটি টাকা হাতিয়ে নেন এবং হেনস্তা করেন। পরবর্তী সময়ে হাসিনাকে ক্ষমতায় আনতে যাঁরা সহযোগিতা করছিলেন তার মধ্যে তিনি একজন। যার পুরস্কারস্বরূপ তিনি ডিজিএফআই প্রধান হন। তারপরে তিনি আয়নাঘর তৈরি করেন। যেখানে গান পাউডার দিয়ে মানুষ পুড়িয়ে মারাসহ নানা অপরাধ করেছেন। পাশাপাশি ডিজিএফআইকে রাজনৈতিকীকরণের কুশীলব তিনি। জলসিড়ি প্রকল্পের কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন তিনি। যার কারণে এরই মধ্যে আদালত তাঁর স্ত্রীসহ তাঁকে বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন। এ জন্য তদন্তের স্বার্থে তাঁকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হোক। অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী মোরশেদ হোসেন শাহীন ও নজরুল ইসলাম রিমান্ড বাতিল ও জামিন চেয়ে আবেদন করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালতে জামিন নামঞ্জুর করে রিমান্ডের আদেশ দেন।