Logo
×

অপরাধ ও আইন

ইবিতে শিক্ষিকাকে ছুরিকাঘাতে হত্যার পরে আত্নহননের চেষ্টা কর্মচারীর

Icon

নাজমুস সাকিব, ইবি প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৪ মার্চ ২০২৬, ২২:৩৩

ইবিতে শিক্ষিকাকে ছুরিকাঘাতে হত্যার পরে আত্নহননের চেষ্টা কর্মচারীর

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনাকে নিজ কক্ষে ছুরিকাঘাতে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত এক কর্মচারী পরে নিজ গলায় ছুরি চালিয়ে আত্মহননের চেষ্টা করেন। বুধবার (৪ মার্চ) বিকেল ৪টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের থিওলজি অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদ ভবনের ২২৬ নম্বর কক্ষে এ ঘটনা ঘটে।


ঘটনার খবর পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি ও ইবি থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে রক্তাক্ত অবস্থায় দুজনকে উদ্ধার করে প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেলে নেয়। অবস্থার অবনতি দেখা দিলে পরে তাদের কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক ইমাম হোসাইন শিক্ষিকা আসমা সাদিয়া রুনাকে মৃত ঘোষণা করেন।


প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বেতন সংক্রান্ত বিরোধ ও অন্য বিভাগে স্থানান্তরকে কেন্দ্র করে কর্মচারী ফজলুর রহমান সমাজকল্যাণ বিভাগের চেয়ারম্যান ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনার সাথে এ ঘটনা ঘটতে পারে। 


ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী জানান, কয়েকবার ‘বাঁচাও’ বলে চিৎকার শুনতে পেয়ে দ্বায়িত্বরত আনসার সদস্যের সাথে তারা ওপর তলায় যান। সেখানে গিয়ে সংশ্লিষ্ট কক্ষের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ অবস্থায় দেখতে পেয়ে বাইরে থেকে ডাকাডাকি করেন। সাড়া না মেলায় উপস্থিতরা মিলে দরজা ভেঙে কক্ষে প্রবেশ করেন এবং শিক্ষিকাকে রক্তাক্ত অবস্থায় মেঝেতে উপুড় হয়ে পড়ে থাকতে দেখেন। এ সময় অভিযুক্ত ব্যক্তিকে নিজের গলায় ছুরি চালিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করতে দেখেন তারা।


কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. ইমাম হোসাইন জানান, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে হাসপাতালে আনার আগেই তার অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন ছিল। তার গলা, হাতে পায়ে ছুরির আঘাতের ক্ষত পাওয়া গেছে।


ইবি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাসুদ রানা বলেন, আমরা ঘটনা জানতে পেরে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হই। পরে ঐ কক্ষ থেকে দুইজনকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতাল পাঠাই। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক শিক্ষককে মৃত্যু ঘোষণা করেন। আরেকজন ওটিতে চিকিৎসাধীন আছেন। 


প্রক্টর প্রফেসর ড. শাহীনুজ্জামান বলেন, আমরা পুলিশ প্রশাসনকে নিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হই। এসময় একজনের নিথর দেহ ও একজনকে নড়াচড়া অবস্থায় উদ্ধার করি। পরে দ্রুত কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে পাঠালে জানতে পারি কর্তব্যরত চিকিৎসক শিক্ষককে মৃত ঘোষণা করেন। 


এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ বলেন, এ ধরনের ঘটনা ঘটতে পারে, তা বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের কোনো সদস্যের কল্পনাতেও ছিল না। আমরা সবাই গভীরভাবে মর্মাহত ও শোকসন্তপ্ত। এই হত্যাকাণ্ডের অবশ্যই বিচার হবে। যিনি এ ঘটনা ঘটিয়েছেন, তিনি নিজেও আত্মহত্যার জন্য প্রস্তুত ছিলেন বলে প্রতীয়মান হয়। প্রশাসনের সহযোগিতায় অবশ্যই হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদঘাটন করা হবে।