Logo
×

অপরাধ ও আইন

সিলেটের ডিসি সারওয়ার আলমকে শোকজ

Icon

গোলাম হাফিজ সুফিয়ান, সিলেট প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৯:১৬

সিলেটের ডিসি সারওয়ার আলমকে শোকজ

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় সিলেটের গোলাপগঞ্জে গুলির আদেশ প্রদানকারী নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য তদন্ত কর্মকর্তাকে সরবরাহ না করায় সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারোয়ার আলমকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। এর আগে গত ৮ ফেব্রুয়ারি সিলেটের আমলি আদালত নম্বর-২–এর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সুদীপ্ত তালুকদার এ আদেশ দেন।

আদালত সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট দুপুরে গোলাপগঞ্জ উপজেলার ধারাবহর এলাকায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চলছিল। এ সময় পুলিশের গুলিতে তাজ উদ্দিন নামে এক ব্যক্তি নিহত হন। ঘটনার পর নিহতের স্ত্রী রুলী বেগম গোলাপগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় অভিযোগ করা হয়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গুলিতে তার স্বামী নিহত হয়েছেন।

পরবর্তীতে মামলার তদন্তভার দেওয়া হয় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)-কে। তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই পরিদর্শক নূর মোহাম্মদ গত বছরের ২২ এপ্রিল সিলেটের জেলা প্রশাসক এবং বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর শ্রীমঙ্গলের সেক্টর সদর দপ্তরের উপমহাপরিচালকের কাছে পৃথক দুটি আবেদন পাঠান। সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে নির্দিষ্ট তথ্য ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র চাওয়া হয়।

তবে নির্ধারিত তথ্য না পেয়ে তদন্ত কর্মকর্তা বিষয়টি আদালতকে অবহিত করেন। এর প্রেক্ষিতে গত বছরের ১৫ জুন আদালত জেলা প্রশাসক ও বিজিবির উপমহাপরিচালককে ১৫ দিনের মধ্যে চাহিত তথ্য সরবরাহের নির্দেশ দেন। পরে বিজিবি তথ্য দেয়। কিন্তু জেলা প্রশাসনের জুডিশিয়াল মুন্সিখানা শাখা থেকে গোলাপগঞ্জের সহকারী কমিশনার (ভূমি)-কে তথ্য পাঠাতে নির্দেশ দেওয়া হলেও এ বিষয়ে আর কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে আদালত সূত্র জানায়। পরবর্তীতে একাধিকবার তাগাদা দিয়েও আদালত তথ্য পায়নি।

গত ৮ ফেব্রুয়ারি জারি করা আদেশে আদালত উল্লেখ করেন, তদন্ত কর্মকর্তাকে প্রয়োজনীয় তথ্য না দেওয়ায় মামলার তদন্ত বিলম্বিত হচ্ছে। ২০২৪ সালের ২৯ আগস্ট মামলা দায়ের হলেও এখনো তদন্ত শেষ হয়নি। ফলে বিচারকাজও শুরু করা যাচ্ছে না। আদালতের মতে, দীর্ঘ সময় পরও চাহিত তথ্য ও কাগজপত্র সরবরাহ না করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ এবং তা আদালত অবমাননার শামিল।

নোটিশে বলা হয়েছে, আদালতের আদেশ অমান্য ও বিচারপ্রক্রিয়ায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির অভিযোগে কেন তার বিরুদ্ধে আইনগত বা বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে না—তা ১৫ দিনের মধ্যে লিখিতভাবে জানাতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জবাব না দিলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক মো. সারোয়ার আলম বলেন, আদালত শোকজ দিয়েছেন বলে শুনেছি। বিষয়টি আদালতে যথাযথভাবে উপস্থাপন করা হবে।