Logo
×

জেলার খবর

হাজতখানায় সপরিবারে বিয়েবাড়ির ভূরিভোজ ২ আ. লীগ নেতার

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২০ জানুয়ারি ২০২৬, ২২:৪৮

হাজতখানায় সপরিবারে বিয়েবাড়ির ভূরিভোজ ২ আ. লীগ নেতার

সংগৃহীত ছবি

নোয়াখালী চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের অত্যন্ত সংবেদনশীল এলাকা হিসেবে পরিচিত হাজতখানার ভেতরে দুই শীর্ষ আওয়ামী লীগ নেতার সপরিবারে ভূরিভোজের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে জেলাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

সোমবার (১৯ জানুয়ারি) দুপুরে নারী হাজতখানার ভেতরে দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশের সহযোগিতায় এ ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ও সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আজম পাশা চৌধুরী রুমেল এবং হাতিয়া পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বঙ্গবন্ধু আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট ছাইফ উদ্দিন আহমদ হত্যা-বিস্ফোরকসহ বিভিন্ন মামলার আসামি হয়ে নোয়াখালী জেলা কারাগারে রয়েছেন।

সম্প্রতি জেলখানায় দুই নেতার কথাবার্তার পর কোম্পানীগঞ্জের যুবলীগ নেতা আজম পাশা চৌধুরী রুমেলের মেয়ে ফালিহা আজম চৌধুরী অর্থিকে হাতিয়া আওয়ামী লীগ নেতা অ্যাডভোকেট ছাইফ উদ্দিন আহমদের ছেলে ছাইম উদ্দিন সাকিবের সঙ্গে গত ৩০ ডিসেম্বর পারিবারিকভাবে বিয়ে দেন। পরে গত সোমবার (১৯ জানুয়ারি) দুই নেতাকে মামলায় হাজিরা করার জন্য আদালতে নিলে পুলিশের উপস্থিতিতে তাদের পরিবারের সদস্যরা হাজতখানার মধ্যে বেয়াইখানার আয়োজন করেন।

এ সময় নারী আসামিদের জন্য সংরক্ষিত ওই হাজতে আজম পাশা রুমেলের স্ত্রী খোদেজা আক্তার সুমি, মেয়ে ফালিহা আজম চৌধুরী অর্থি এবং অ্যাডভোকেট ছাইফ উদ্দিন আহমদের ছেলে ছাইম উদ্দিন সাকিবসহ আরো এক যুবক উপস্থিত ছিলেন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, আজম পাশা চৌধুরী রুমেলের বিরুদ্ধে কোম্পানীগঞ্জের ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাত কর্মীকে গুলি করে হত্যাসহ বিভিন্ন থানায় আরো একাধিক মামলা চলমান।

অন্যদিকে অ্যাডভোকেট ছাইফ উদ্দিন আহমদের বিরুদ্ধে হাতিয়া, চরজব্বর ও কবিরহাট থানায় বিস্ফোরকসহ পাঁচটি মামলা রয়েছে।

মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যরা গণমাধ্যমকে জানান, ওই কক্ষটি পোশাক পরিবর্তন, খাওয়া, নামাজসহ নারী আসামিদের বাচ্চাদের দুগ্ধপানের জন্য ব্যবহৃত হয়।

আদালতের নথি অনুযায়ী, ঘটনার দিন সোমবার পুলিশের সহকারী শহর উপ-পরিদর্শক (এটিএসআই) জাহেদুল ইসলামের নেতৃত্বে ওই হাজতখানার দায়িত্বে ছিলেন সহকারী শহর উপ-পরিদর্শক (এটিএসআই) কবির আহম্মদ ভূঁইয়া, কনস্টেবল বিল্লাল হোসেন (নম্বর ৬৩৬), মো. হাসান (৩৪০) ও সাইফুল ইসলাম (২২০)।

এ বিষয়ে এটিএসআই জাহেদুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, চিফ জুডিশিয়াল ও জজ আদালতের দুই হাজতখানায় দায়িত্বপ্রাপ্তদের ডিউটি বণ্টন করে আমি ওইসময় আদালতের কাজে ওপরে ছিলাম।

এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটে থাকলে আমি আন্তরিকভাবে দুঃখিত।

এদিকে এ ঘটনা জানার পর সবাইকে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছি জানিয়ে আদালতের পরিদর্শক (কোর্ট ইন্সপেক্টর) মো. সারওয়ার আলম বলেন, ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের কোনো অনিয়ম আদালতপাড়ায় না হয়, সেজন্য কঠোরভাবে সবাইকে সতর্ক করা হয়েছে।