পাহাড়ধসে ১০ জনের প্রাণহানি, বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ০৬ জুলাই ২০২৬, ২২:১৫
উখিয়ার তিনটি রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবির, কক্সবাজার পৌর এলাকা ও পেকুয়ায় পৃথক স্থানে পাহাড়ধসে ১০ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। নিহতদের মধ্যে আটজন রোহিঙ্গা।
এরমধ্যে পাঁচজনই শিশু রয়েছেন। রোববার (৫ জুলাই) দিবাগত রাতে প্রথম পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটে উখিয়ার ১৫ নং জামতলী রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ডি-৬ ব্লকে রাত দেড়টার দিকে।
পাহাড়ের বিশাল একটি অংশ ধসে পড়ে মোহাম্মদ কামাল হোসাইনের বসতঘরের ওপর মুহূর্তেই মাটিচাপা পড়ে পুরো পরিবার। উদ্ধারকারীরা ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে কামাল হোসাইন (৪৪), তাঁর স্ত্রী হুমায়রা বেগম (৩৯) এবং চার বছরের ছেলে মোহাম্মদ আনাসের লাশ উদ্ধার করেন। আহত অবস্থায় পরিবারের আরও কয়েকজনকে হাসপাতালে পাঠানো হয়। রাত দুইটার দিকে কুতুপালংয়ের ৭ নং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড়ধসে একরাম (৭) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়। রাত সাড়ে ৩টার দিকে বালুখালী ১১ নং ক্যাম্পে আরেকটি পাহাড়ধসে একই পরিবারের চারজন-উম্মে হাবিবা (২৭), তানজিনা আক্তার (১৩), মোহাম্মদ রিহান (৫) ও হারুনুর রশিদ (৩) প্রাণ হারান।
ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা ডলার ত্রিপুরা নিশ্চিত করেছেন, উখিয়ার তিনটি ক্যাম্পে পৃথক পাহাড়ধসে মোট আটজন রোহিঙ্গার মৃত্যু হয়েছে। তাদের লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। একই রাতে কক্সবাজার পৌরসভার ১২ নং ওয়ার্ডের ছাত্তারঘোনা এলাকায় পাহাড়ধসে চাপা পড়ে আলী আকবর নামে এক ব্যক্তি নিহত হন। আহত হন একই পরিবারের আরও দুই সদস্য। স্থানীয়রা তাঁদের উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক আলী আকবরকে মৃত ঘোষণা করেন। এছাড়া পেকুয়া উপজেলার টইটং ইউনিয়নে টানা ভারী বৃষ্টির কারণে পাহাড়ধসে মিনহাজ (৭) নামে এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। সোমবার বিকেল প্রায় ৫টার দিকে উপজেলার টইটং ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডের আলমের ঝিরি এলাকার খলিফা মুড়ায় এ হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত মিনহাজ স্থানীয় বাসিন্দা কলিম উল্লাহ ও রুবি আক্তারের ছেলে। স্থানীয় ইউপি সদস্য মঞ্জুর আলম জানান, কয়েক দিনের টানা ভারী বৃষ্টিতে পাহাড়ের একটি অংশ হঠাৎ ধসে পড়ে। এ সময় মিনহাজ মাটিচাপা পড়ে গুরুতর আহত হয়। স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করলেও ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। এ বিষয়ে পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বলেন, ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাকে (পিআইও) ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে পাহাড়ধসের ঝুঁকিতে থাকা এলাকাগুলোর বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে সতর্ক করা হচ্ছে। মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে জেলায় পাহাড়ধসে প্রাণহানির সংখ্যা দাঁড়ায় ১০ জনে। সর্বশেষ এই মর্মান্তিক ঘটনা কোনো বিচ্ছিন্ন দুর্ঘটনা নয়। তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২০২১ সাল থেকে ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত কক্সবাজারে পাহাড়ধসে অন্তত ৫৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ২০২১ সালে ১৩ জন, ২০২৪ সালে সর্বোচ্চ ২৭ জন এবং ২০২৫ সালে অন্তত ৯ জন প্রাণ হারান। চলতি বছরের জুলাইয়ের শুরুতেই রোহিঙ্গা ক্যাম্প, পেকুয়া ও কক্সবাজার শহরের পৃথক ঘটনায় প্রাণ গেছে আরও ১০ জনের।

logo-2-1757314069.png)
