ফেসবুক পোস্টের পর দিল্লিতে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর রহস্যজনক মৃত্যু
জামালপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৪ মে ২০২৬, ২২:৩৪
ভারতের দিল্লিতে ফেসবুকে পোস্ট দেওয়ার পর মোস্তফা আহমেদ সাগর (২৫) নামে এক বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা করেছেন। পরিবারের দাবি, এটি আত্মহত্যা নাকি পরিকল্পিত হত্যা তা সঠিক তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
রবিবার (২৪ মে) নিহত সাগরের বাবা মোশারফ হোসেন মিন্টু বিষয়টি নিশ্চিত করেন ।
এর আগে শনিবার (২৩ মে) বিকেলে নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে একটি পোস্ট দেন সাগর। এরপরই দিল্লির ফরিদাবাদ এলাকায় তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয় বলে পরিবার থেকে জানা যায়।
নিহত সাগর জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার কড়ইচড়া ইউনিয়নের ঘুঘুমারি এলাকার বাসিন্দা মোশারফ হোসেন মিন্টুর ছেলে। তিনি ভারতের মানব রচনা ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব রিসার্চ অ্যান্ড স্টাডিজের কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন।
ফেসবুক পোস্টে সাগর বাবা-মায়ের কাছে ক্ষমা চেয়ে লেখেন- 'মা বাবা আমায় মাফ করিও। নিজেকে অনেক বাঁচানোর জন্য যুদ্ধ করলাম অবশেষে আজ আমি ক্লান্ত এবং চলে যাচ্ছি খোদার কাছে। ঘরে ফিরে হয়তো বিজয় উৎযাপন করতে পারলাম না, কি দূর্ভাগা আমি। দেশের জন্য কতটুকু করতে পেরেছি জানি না। আমি শুধু আপনাদের কাছে দোয়া চেয়ে গেলাম। ভুল করে থাকলে মাফ করবেন। জীবনে একটা চাওয়া খোদার কাছে প্রতিটা সময়ই চেয়েছি পেয়েও পায়নি। রাখার চেষ্টা করেও রাখতে পারিনি। আমি এতোটাই হতভাগা হয়ে জন্ম নিয়েছিলাম।
ভালো থাকুক ভালোবাসার মানুষটি, তার হাতে হয়তো হাত রেখে বেঁচে থাকার স্বপ্নটা পুরন হলো না। কতো করে বুঝিয়েছি হলোই না। তাকে কথা দিয়েছিলাম হয় তুমি নয় মৃত্যু। তাকে কথা দেওয়াটা পুরন করে তাকে মুক্তি দিলাম। তাকে কেউ দোষারোপ করবেন না, তাকে বাঁচতে দিয়েন আমার জন্য হলেও।আর হ্যাঁ আমাকে যেনো পোষ্ট-মর্ডান না করা হয়, কারণ সে কষ্ট পাবে। আমাকে পারলে ঝামেলাহীন দাফন করে দিয়েন।'
কবরের দেওয়ালে লিখে দিয়েন হতভাগা।
ভালো থেকে তুমি, তোমায় দেওয়া কথা পুরন করলাম। কান্না করবে না বুঝছো৷ তোমার কান্না আমার সহ্য হয় না৷ তুমি আমার জন্য দুআ কইরো। বিদায় প্রিয় মানুষ, বন্ধু, বাবা-মা।
সাগরের বাবা মোশারফ হোসেন মিন্টু বলেন, আমার ছেলে আত্মহত্যা করেছে নাকি তাকে হত্যা করা হয়েছে, সেটি আমি জানি না। আমি সঠিক তদন্ত ও বিচার চাই। একই সঙ্গে সরকারের কাছে অনুরোধ, দ্রুত আমার ছেলের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা হোক।
এদিকে সাগরের মা জানান, মৃত্যুর কয়েক ঘণ্টা আগেও ছেলের সঙ্গে তার কথা হয়েছিল। তিনি বলেন, আমি ওকে ফোন করে পরীক্ষার প্রস্তুতির কথা জিজ্ঞেস করি। তখন সবকিছু স্বাভাবিকই মনে হয়েছে। এরপর কীভাবে এমন ঘটনা ঘটলো, সেটার সত্য জানতে চাই।
এ বিষয়ে মাদারগঞ্জ উপজেলা নিবার্হী অফিসার (ইউএনও )সুমন চৌধুরী বলেন, বিষয়টি আমি ফেসবুকে দেখেছি। পরিবারের কেও আমাদের সাথে যোগাযোগ করেনি। প্রথমে পরিবারের এম্বাসীর সাথে যোগাযোগ করতে হবে। সেই ক্ষেত্রে পরিবার যদি না পারে তাহলে আমরা আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাবো।

logo-2-1757314069.png)
