Logo
×

জেলার খবর

প্রবাসের স্বপ্নভঙ্গ, চার মাস পর কফিনে ফিরলেন রমজান

Icon

জামালপুর প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২১ মে ২০২৬, ২২:৫৪

প্রবাসের স্বপ্নভঙ্গ, চার মাস পর কফিনে ফিরলেন রমজান

পরিবারের সুখের আশায় এক যুগ আগে ইরাকে পাড়ি জমিয়েছিলেন জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলার রমজান আলী। অসুস্থ বাবার সংসারের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়ে কঠোর পরিশ্রমে গড়ে তুলেছিলেন স্বপ্নের বাড়ি মা-বাবা মঞ্জিল। দেশে ফিরে নববধূকে নিয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনাও ছিল তার। কিন্তু সেই স্বপ্ন অপূর্ণ রেখেই সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান তিনি। 


বৃহস্পতিবার ( ২১ মে)  দুপুর ১২টা দিকে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের তদারকিতে রমজানের মরদেহ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছায়। শেষবারের মতো এক নজর দেখতে বাড়িতে ভিড় করেন স্থানীয়রা। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।


নিহত রমজান আলী (৩৫) জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলার আগপয়লা ঠেঙ্গেপাড়া এলাকার মো. রহিম বাদশার ছেলে। তিন ভাই-বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন মেঝো।


পরিবার ও স্থানীয়রা জানান, অসুস্থ বাবার সংসারের হাল ধরতেই প্রায় ১২ বছর আগে জীবিকার সন্ধানে ইরাকে পাড়ি জমান রমজান। দীর্ঘ প্রবাস জীবনে কঠোর পরিশ্রম করে পরিবারের জন্য নির্মাণ করেন একটি বাড়ি। বাবা-মায়ের প্রতি ভালোবাসা থেকে বাড়িটির নাম রাখেন মা-বাবা ভিলা। মাত্র আট মাস আগে প্রবাস থেকেই পরিবারের পছন্দে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে বিয়ে করেন তিনি। ৩ জানুয়ারি ইরাকে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান রমজান আলী। এরপর দীর্ঘ চার মাসেও দেশে আনা সম্ভব হয়নি তার মরদেহ। এতে অনিশ্চয়তা ও মানসিক কষ্টে দিন কাটছিল পরিবারের সদস্যদের।


পরে বিষয়টি নজরে আসে জেলা গণঅধিকার পরিষদের সাবেক সহ-সভাপতি আরিফুল ইসলাম তুহিনের। তিনি প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে মরদেহ দেশে আনার উদ্যোগ নেন।


লাশ ফেরতে বিষয়ে এ বিষয়ে আরিফুল ইসলাম তুহিন বলেন, দীর্ঘদিন মরদেহ দেশে না আসায় পরিবারটি অনেক কষ্টে ছিল। পরে বিষয়টি জানতে পেরে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করি। সবার সহযোগিতায় অবশেষে মরদেহ দেশে আনা সম্ভব হয়েছে।


ছেলের মৃত্যুতে শোকে ভেঙে পড়েছেন বাবা মো. রহিম বাদশা। অসুস্থ এই বৃদ্ধ ঠিকমতো কথাও বলতে পারছিলেন না। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, আমার ছেলেটা সংসারের জন্য বিদেশ গেছিল। আমার অসুখের পর সব দায়িত্ব ও-ই নিছিল। কত কষ্ট করে টাকা পাঠাইছে, বাড়ি করছে। ঈদে বাড়ি আসবো কইছিল কিন্তু লাশ হয়ে আসবো, এটা কোনোদিন ভাবি নাই।


মেলান্দহ উপজেলা নিবার্হী অফিসার জিন্নাতুল আরা বলেন, বিষয়টি আমি জানি না, আপনার মাধ্যমে জানতে পারলাম। উপজেলা পরিষদ থেকে লাশ দাফনের জন্য একটা প্রত্যায়ন নেওয়ার কথা সেটিও তারা করেনি।  তারা যদি আমাদের সাথে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


পরে দুপুর ৩টা দিকে বাড়ির উঠানে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে বাড়ির পাশেই দাফন করা হয় রমজান আলীকে।