ঈদযাত্রায় স্বস্তি ফেরাতে সৈয়দপুর কারখানায় প্রস্তুত ১২৭ কোচ, হস্তান্তর ১১১টি
নীলফামারী প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২১ মে ২০২৬, ২২:৪৪
আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে ঘরমুখো মানুষের নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক যাত্রা নিশ্চিত করতে নীলফামারীর সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায় পুরোদমে চলছে কোচ মেরামত ও পুনর্বাসনের কাজ। পশ্চিমাঞ্চল রেলের বহরে যুক্ত করার লক্ষ্যে ব্রডগেজ ও মিটারগেজ মিলিয়ে মোট ১২৭টি কোচ প্রস্তুত করা হচ্ছে। এর মধ্যে ১১১টি কোচ ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট ট্রাফিক বিভাগে হস্তান্তর করা হয়েছে। অবশিষ্ট ১৬টি কোচ আগামী ২৫ মে’র মধ্যে হস্তান্তর করা হবে বলে জানিয়েছে কারখানা কর্তৃপক্ষ।
রেলওয়ে সূত্র জানিয়েছে, ঈদ উপলক্ষে অতিরিক্ত যাত্রীচাপ মোকাবিলায় বিশেষ ট্রেন পরিচালনা এবং বিভিন্ন আন্তঃনগর ট্রেনে অতিরিক্ত বগি সংযোজনের পরিকল্পনা রয়েছে। সে লক্ষ্যেই দীর্ঘদিন অচল ও জরাজীর্ণ অবস্থায় থাকা কোচগুলো সংস্কার করে সচল করা হচ্ছে।
সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার ২৮টি শপে দিনরাত চলছে এই কর্মযজ্ঞ। নিয়মিত কর্মঘণ্টার পাশাপাশি অতিরিক্ত সময় কাজ করছেন শ্রমিক-কর্মচারীরা। কোচের কাঠামোগত সংস্কার, চাকার ট্রলি মেরামত, আসন পুনর্বিন্যাস, বৈদ্যুতিক সংযোগ, ওয়েল্ডিং এবং রংয়ের কাজ একযোগে সম্পন্ন করা হচ্ছে। বগি শপ, হেভি রিপেয়ারিং শপ, ক্যারেজ কনস্ট্রাকশন শপ ও পেইন্ট শপসহ বিভিন্ন ইউনিট সমন্বিতভাবে কাজ এগিয়ে নিচ্ছে।
তবে এই কার্যক্রম পরিচালনায় বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে জনবল সংকট। দেশের অন্যতম বৃহৎ এ রেলওয়ে কারখানায় অনুমোদিত জনবল ২ হাজার ৮৫৯ জন হলেও বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র ৬৬৪ জন। অর্থাৎ অনুমোদিত পদের প্রায় ৭৭ শতাংশই শূন্য। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশের ঘাটতিও রয়েছে। তারপরও ঈদযাত্রাকে গুরুত্ব দিয়ে সীমিত জনবল নিয়েই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার চেষ্টা চলছে।
কারখানার ক্যারেজ শপের ইনচার্জ প্রকৌশলী মমিনুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিন অচল থাকা কোচগুলোকে পুনরায় সচল ও যাত্রী পরিবহনের উপযোগী করে তোলা হচ্ছে। সীমিত জনবল নিয়ে শ্রমিকরা অত্যন্ত দক্ষতা ও আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করছেন। অনেক ক্ষেত্রে কয়েকজনের দায়িত্ব পালন করছেন একজন বা দুজন কর্মী। এরপরও নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী কাজ এগিয়ে চলছে।
সিডিউল শপের ইনচার্জ প্রকৌশলী রুহুল আমীন বলেন, ঈদে যাত্রীসেবার মানোন্নয়ন এবং পরিবহন সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যেই অতিরিক্ত কোচ প্রস্তুত করা হচ্ছে। এসব কোচ বহরে যুক্ত হলে যাত্রীদের চাপ সামাল দেওয়া সহজ হবে এবং ভোগান্তিও কমবে।
কারখানার শ্রমিক-কর্মচারীরাও জানান, ঈদযাত্রাকে নির্বিঘ্ন করতে তারা স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি কাজ করছেন। ছুটির দিন ও অতিরিক্ত সময়েও তারা দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন, যাতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সব কোচ প্রস্তুত করা সম্ভব হয়।
সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার বিভাগীয় তত্ত্বাবধায়ক (ডিএস) শাহ সুফী নুর মোহাম্মদ বলেন, পশ্চিম ও দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন রুটে ঈদযাত্রার অতিরিক্ত চাপ সামাল দিতে ১২৭টি কোচ রেলের বহরে যুক্ত করা হচ্ছে। শ্রমিক-কর্মচারীদের আন্তরিকতা ও পরিশ্রমের কারণেই সীমিত জনবল নিয়েও এ কাজ সফলভাবে এগিয়ে যাচ্ছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই অবশিষ্ট কোচ হস্তান্তর সম্পন্ন হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
রেলওয়ে কর্মকর্তাদের মতে, প্রতিবছর ঈদে ট্রেনে যাত্রীচাপ কয়েকগুণ বৃদ্ধি পায়। অতিরিক্ত এসব কোচ বহরে যুক্ত হলে উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের যাত্রীদের জন্য এবারের ঈদযাত্রা তুলনামূলক স্বস্তিদায়ক হবে এবং ট্রেনের আসনসংখ্যাও উল্লেখযোগ্য হারে বাড়বে।

logo-2-1757314069.png)
