Logo
×

জেলার খবর

৬ কোটি কর আদায়ে দুর্বলতা, পিছিয়ে পড়ছে সৈয়দপুর পৌরসভার উন্নয়ন

Icon

নীলফামারী প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৬ মে ২০২৬, ২১:২৯

৬ কোটি কর আদায়ে দুর্বলতা, পিছিয়ে পড়ছে সৈয়দপুর পৌরসভার উন্নয়ন

নীলফামারীর প্রাচীন ও গুরুত্বপূর্ণ পৌরসভাগুলোর একটি সৈয়দপুর পৌরসভা। শিল্প ও ব্যবসাকেন্দ্রিক এ পৌরসভায় প্রায় ২৪ হাজার হোল্ডিং করদাতা থাকলেও নিয়মিত কর আদায় হচ্ছে মাত্র এক-তৃতীয়াংশ। ফলে প্রায় ৬ কোটি টাকার হোল্ডিং কর বকেয়া জমে থাকায় উন্নয়ন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলে জানিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ।


পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, ১৯৫৮ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে অনেক সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিমালিকানাধীন বাসাবাড়ির কর বছরের পর বছর বকেয়া রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পৌরসভার প্রধান রাজস্ব খাত হওয়া সত্ত্বেও হোল্ডিং কর আদায়ে দীর্ঘদিনের দুর্বলতার কারণে কাঙ্ক্ষিত নাগরিক সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না।


সৈয়দপুর পৌরসভার হোল্ডিং কর আদায় কর্মকর্তা সুজন শাহ জানান, শুধু সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছেই বকেয়া রয়েছে তিন কোটি টাকার বেশি। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বকেয়া রয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে সৈয়দপুর সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলীর (ইনচার্জ) দপ্তরের, যার পরিমাণ প্রায় ২ কোটি ৪৫ লাখ টাকা।


এছাড়া উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তার দপ্তরের কাছে ৪ লাখ ৬৯ হাজার ৩২০ টাকা, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা দপ্তরের (বহির্বিভাগ) কাছে ৪ লাখ ৫৭ হাজার ২১০ টাকা, সৈয়দপুর বিদ্যালয় স্বাস্থ্য কেন্দ্রের ১ লাখ ১৬ হাজার ৮৪ টাকা, মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের ২ লাখ ৩৪ হাজার ৫০০ টাকা এবং ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সৈয়দপুর কার্যালয়ের কাছে ২ লাখ ২৪ হাজার টাকা হোল্ডিং কর বকেয়া রয়েছে।


এছাড়াও সওজ বিভাগ, পানি উন্নয়ন বোর্ড, সরকারি কলেজ, সরকারি বিজ্ঞান কলেজ, উপজেলা শিক্ষা অফিস ও সৈয়দপুর বিমানবন্দরসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ কর বকেয়া পড়ে আছে। অন্যদিকে প্রায় ১৬ হাজার বাসাবাড়ির কর বকেয়ার পরিমাণ প্রায় তিন কোটি টাকার কাছাকাছি বলে জানিয়েছে পৌরসভা।


সৈয়দপুর পৌর কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি আবু তাহের বলেন, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও সাধারণ করদাতারা সময়মতো কর পরিশোধ করলে পৌরসভার নাগরিক সেবা আরও উন্নত করা সম্ভব হতো। অর্থ সংকটের কারণে অনেক উন্নয়ন কাজ বাস্তবায়ন করা যাচ্ছে না। তিনি দাবি করেন, নিয়মিতভাবে ৬ কোটি টাকা কর আদায় সম্ভব হলে প্রতি বছর অন্তত ৪০টি সড়ক নির্মাণ করা যেত।


তবে বর্তমান প্রশাসকের তদারকিতে আগের তুলনায় কর আদায়ের হার কিছুটা বেড়েছে বলেও জানান তিনি।


এ বিষয়ে সৈয়দপুর পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারাহ ফাতেহা তাকমিলা বলেন, বকেয়া হোল্ডিং কর আদায়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। পাশাপাশি কর পরিশোধে জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।