Logo
×

জেলার খবর

ইবির জিয়া হলে সিট জটিলতা, প্রভোস্টের মেয়াদ শেষ হলেও মেলেনি সমাধান

Icon

ইবি প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৬ মে ২০২৬, ১৪:২৭

ইবির জিয়া হলে সিট জটিলতা, প্রভোস্টের মেয়াদ শেষ হলেও মেলেনি সমাধান

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শহীদ জিয়াউর রহমান হলে আবাসিক সিট বরাদ্দকে কেন্দ্র করে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। এতে হল প্রশাসনের পক্ষ থেকে একাধিকবার আশ্বাস দেওয়া হলেও এখনো কোনো সুরাহা মেলেনি। ফলে বরাদ্দ পাওয়া অনেক শিক্ষার্থী নির্ধারিত সিট বুঝে না পেয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। এদিকে গত বৃহস্পতিবার (১৪ মে) হলটির প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. আব্দুল গফুর গাজীর দায়িত্বের মেয়াদও শেষ হয়েছে।


জানা যায়, গত বছরের ১৩ ডিসেম্বর আবাসিকতার জন্য আবেদন আহ্বান করে কর্তৃপক্ষ। গত ২৬ এপ্রিল মেধা ও একাডেমিক ফলাফলের ভিত্তিতে ২০২০-২১ থেকে ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের ৮৫ জন শিক্ষার্থীকে সিট বরাদ্দ দেওয়া হয়। তবে বরাদ্দ প্রকাশের পর থেকেই শুরু হয় নানা জটিলতা। অভিযোগ ওঠে, অনেক কক্ষে আগে থেকেই অননুমোদিত ও অন্য হলের শিক্ষার্থীরা অবস্থান করায় বৈধভাবে সিট পাওয়া শিক্ষার্থীরা কক্ষে উঠতে পারছেন না।


এছাড়া রাজনৈতিক প্রভাব থাকা কিছু শিক্ষার্থীর কক্ষে সিট খালি থাকলেও সেখানে নতুন করে বরাদ্দ দেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ রয়েছে। এর প্রেক্ষিতে গত ৯ মে হল প্রভোস্টের কক্ষে তালা লাগিয়ে বিছানা পেতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন তিন শিক্ষার্থী। এদিন অবস্থান নেওয়া এক শিক্ষার্থী আবু বকর বলেন, “৩২৫ নম্বর কক্ষে সিট বরাদ্দ পেয়েছি। ওই কক্ষেই আগে থেকে একজন ছিল। পরে আবারও নতুন তিনটি সিট বরাদ্দ দেওয়ায় আমি আর সিট পাচ্ছি না। হলে সিট পেয়ে গত মাসে আমি মেসের সিট ছেড়ে দিয়েছি। এখন হলে উঠতে না পেরে থাকার জায়গাও পাচ্ছি না। এছাড়া ছয় দিন পর প্রভোস্টের মেয়াদ শেষ হলে পরবর্তী প্রশাসন সিট দেবে কিনা, সেটিও জানি না।”


ঘটনার পর গত ১০ মে হল প্রশাসন একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে। সেখানে বলা হয়, হল অফিসের স্টাফদের ভুল তথ্যের কারণে সিট বরাদ্দে জটিলতা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনার কথাও জানানো হয়। এছাড়া পুনরায় তথ্য যাচাই-বাছাই করে বৈধ আবাসিক শিক্ষার্থীদের তালিকা হালনাগাদ করার ঘোষণা দেওয়া হয়। এর আগ পর্যন্ত সিট বরাদ্দসংক্রান্ত সব কার্যক্রম স্থগিত রাখা হয়েছে।


প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, কোনো শিক্ষার্থী নিজের নির্ধারিত সিটে অন্য হলের শিক্ষার্থী বা গেস্ট রাখলে তার বরাদ্দ বাতিল করা হবে। পাশাপাশি অন্য হলের শিক্ষার্থীদের দ্রুত হল ছাড়ার নির্দেশও দেওয়া হয়।


তবে প্রজ্ঞাপন জারির পরও বাস্তবে কোনো পরিবর্তন না আসায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। তাদের অভিযোগ, প্রশাসন শুধু আশ্বাস দিলেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেয়নি। গেস্ট ও সিট এক্সচেঞ্জ বন্ধে প্রশাসনের সাম্প্রতিক নোটিশ নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন শিক্ষার্থীরা। তাদের দাবি, নোটিশ জারি হলেও এখনো অনেক বহিরাগত ও অন্য হলের শিক্ষার্থী হলে অবস্থান করছেন।


এদিকে বরাদ্দ পাওয়া সিটে উঠতে না পেরে এক শিক্ষার্থী সিট বাতিল ও টাকা ফেরতের আবেদন করেছেন। আবেদনকারী ওই শিক্ষার্থী জানান, তিনি ২১৬ নম্বর সিট বরাদ্দ পেলেও সেখানে আগে থেকেই অন্য একজন অবস্থান করছেন। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করেও কোনো সমাধান না পাওয়ায় শেষ পর্যন্ত তিনি সিট ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তিনি বলেন, “আমি ব্যক্তিগতভাবে কোনো ঝামেলা পছন্দ করি না। এত সমস্যার মধ্যে হলে থাকার চেয়ে বাইরেই ভালো আছি।”


নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, “আমার মনে হয় না স্যার এসব বিষয়ে গুরুত্ব দিয়েছেন। শুধু সিট সমস্যা নয়, রিডিং রুমের নষ্ট ফ্যান, ডাইনিংয়ের জন্য ফ্রিজ কেনাসহ আরও কিছু কাজ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু কোনো কিছুরই সমাধান হয়নি।”


এ বিষয়ে হল প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. আব্দুল গফুর গাজী বলেন, “হলের স্টাফরা আমাকে যে তথ্য দিয়েছে, তার ভিত্তিতেই সিট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই তথ্যে গড়মিল থাকায় সমস্যার সৃষ্টি হয়। এজন্য সিট বরাদ্দের কার্যক্রম স্থগিত রেখে পুনরায় যাচাই-বাছাই করে তালিকা হালনাগাদের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।”


মেয়াদ শেষ হলেও সমস্যার সমাধানে অগ্রগতি না হওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “সব কাজ তো আর একসঙ্গে সম্পন্ন করা সম্ভব হয় না। পরবর্তী প্রশাসন এসে বিষয়গুলো সমাধান করবে। এছাড়া ৫ আগস্টের পর শিক্ষার্থীরা যে যার মতো হলে উঠে গেছে। আমি দায়িত্ব পাওয়ার পর হলের আবাসিক শিক্ষার্থীদের কোনো পূর্ণাঙ্গ তালিকা বা ডকুমেন্টও পাইনি।” এ সময় হল প্রশাসনের কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীর অদক্ষতার অভিযোগও তোলেন তিনি।