Logo
×

জেলার খবর

মরুর দুম্বা এবার সৈয়দপুরে: কোরবানির বাজার ঘিরে নতুন সম্ভাবনা

Icon

নীলফামারী প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৭ মে ২০২৬, ১৫:৩৯

মরুর দুম্বা এবার সৈয়দপুরে: কোরবানির বাজার ঘিরে নতুন সম্ভাবনা

মরুভূমির আবহে বেড়ে ওঠা দুম্বা যে প্রাণী সাধারণত মধ্যপ্রাচ্যের বিস্তীর্ণ বালুকাভূমিতে বিচরণ করে সেই দুম্বাই এখন উত্তরাঞ্চলের মাটিতে মানিয়ে নিয়ে তৈরি করছে নতুন সম্ভাবনা। আসন্ন কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে নীলফামারীর সৈয়দপুরে গড়ে উঠেছে এমনই একটি ব্যতিক্রমী খামার, যা ইতোমধ্যে স্থানীয় কৃষি অর্থনীতিতে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।


সৈয়দপুর উপজেলার বোতলাগাড়ী ইউনিয়নের কাঠারিপাড়া গ্রামে তরুণ উদ্যোক্তা রবিউল ইসলাম কাজল নিজ বাড়িতেই গড়ে তুলেছেন তুর্কি জাতের দুম্বার খামার। শখের বশে মাত্র দুটি দুম্বা দিয়ে শুরু করা এই উদ্যোগ আজ বিস্তৃত হয়ে দাঁড়িয়েছে ৪৫টি দুম্বার একটি বাণিজ্যিক খামারে।


খামার সংশ্লিষ্টরা জানান, স্থানীয় আবহাওয়া ও পরিবেশের সঙ্গে দুম্বাগুলো দ্রুত খাপ খাইয়ে নিয়েছে। তুলনামূলকভাবে রোগবালাই কম হওয়ায় পরিচর্যার ঝামেলাও কম। ফলে উৎপাদন খরচ সীমিত রেখে লাভজনক হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বর্তমানে প্রতিটি দুম্বার ওজন ৫০ থেকে ১০০ কেজির মধ্যে, আর বাজারে দাম উঠছে দেড় লাখ থেকে আড়াই লাখ টাকা পর্যন্ত। সব মিলিয়ে খামারের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় এক কোটি টাকা।


উদ্যোক্তা কাজল জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও দেখে দুম্বা পালনের প্রতি আগ্রহ তৈরি হয় তাঁর। পরে প্রবাসী বড় ভাইয়ের পরামর্শে প্রায় ১২ লাখ টাকা বিনিয়োগ করে ৮টি তুর্কি জাতের দুম্বা দিয়ে যাত্রা শুরু করেন। মাত্র ছয় মাসের মধ্যেই সেগুলো বাচ্চা দেওয়া শুরু করে। দুই বছরের ব্যবধানে খামারটি সম্প্রসারিত হয়ে বর্তমান অবস্থানে এসেছে।


তিনি আরও বলেন, দুম্বা পালনে খরচ তুলনামূলক কম, কিন্তু বাজারমূল্য বেশি। সঠিক পরিকল্পনা ও যত্ন নিলে এটি লাভজনক খাতে পরিণত হতে পারে। ভবিষ্যতে খামার আরও বড় করার পরিকল্পনা রয়েছে।


খামারটি ঘিরে ইতোমধ্যে কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে স্থানীয়দের মধ্যে। প্রতিদিন দূরদূরান্ত থেকে মানুষ খামারটি দেখতে আসছেন, অনেকেই নতুন করে বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করছেন।


সৈয়দপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. হেমন্ত কুমার রায় বলেন, দেশে দুম্বা পালনের সম্ভাবনা উজ্জ্বল। সরকারিভাবে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও কারিগরি সহায়তা দেওয়া হলে এই খাত দ্রুত সম্প্রসারিত হতে পারে। এতে একদিকে যেমন নতুন উদ্যোক্তা তৈরি হবে, অন্যদিকে কর্মসংস্থানের সুযোগও বাড়বে।


সংশ্লিষ্টদের মতে, পরিকল্পিতভাবে দুম্বা পালন সম্প্রসারণ করা গেলে তা দেশের পশুপালন খাতে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে। মরুর এই প্রাণী এখন উত্তরাঞ্চলের কৃষি অর্থনীতিতে সম্ভাবনার এক নতুন নাম হয়ে উঠছে।