Logo
×

জেলার খবর

সুন্দরগঞ্জে বিরোধীয় জমির ধান কর্তন, হয়রানির অভিযোগ

Icon

গাইবান্ধা প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৬ মে ২০২৬, ২১:৪১

সুন্দরগঞ্জে বিরোধীয় জমির ধান কর্তন, হয়রানির অভিযোগ

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে বিরোধীয় পৈত্রিক জমিতে রোপণ করা ইরি ধান কাটাকে কেন্দ্র করে একাব্বর হোসেন (৬০) নামে এক ব্যক্তিকে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি উপজেলার শান্তিরাম ইউনিয়নের মধ্য পরান গ্রামে ঘটেছে।


ভুক্তভোগী মো. একাব্বর হোসেন একই গ্রামের মৃত বাবর উদ্দিন ব্যাপারীর ছেলে। অভিযুক্তরা হলেন মৃত জয়েক উদ্দিন ব্যাপারীর ছেলে শফিউল ইসলাম (৬৫) ও আশরাফ আলী (৭০)। তারা সম্পর্কে ভাগী-শরিক।


স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পরান মৌজার অন্তর্ভুক্ত বিভিন্ন দাগ ও খতিয়ানের প্রায় ১০ একর ৯৬ শতক জমি নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। জমির মালিকানা সমান ভাগে থাকলেও দখল ও চাষাবাদ নিয়ে একাধিকবার বিরোধ সৃষ্টি হয়। এ নিয়ে আদালতে বাটোয়ারা মামলাসহ একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে।


অভিযোগ রয়েছে, চলতি ইরি মৌসুমে শফিউল ইসলাম গং প্রায় ৫ একর ১০ শতক জমি জোরপূর্বক দখল করে ধান রোপণ করেন। অন্যদিকে একাব্বর হোসেন অবশিষ্ট ৩৮ শতক জমিতে ধান চাষ করেন। ধান পাকার পর গত ৩ মে তিনি নিজের জমির ধান কেটে বাড়িতে নিয়ে যান। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষ তার বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করে।


ভুক্তভোগী একাব্বর হোসেন বলেন, ‘নিজেদের খরচে ধান রোপণ ও কেটে ঘরে তুলেছি। এখন সেটি অন্যের হেফাজতে দিতে বলা হচ্ছে, যা অন্যায়। ধান কাটার পর থেকেই আমাকে নানা ধরনের চাপ ও হুমকি দেওয়া হচ্ছে।’


তিনি আরও জানান, ধান কেটে নেওয়ার আশঙ্কায় এর আগেই গত ২৩ এপ্রিল তিনি থানায় লিখিত অভিযোগ করেছিলেন।


তবে এ ঘটনায় অভিযুক্ত শফিউল ইসলাম ও আশরাফ আলীর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।


এ বিষয়ে ইউপি সদস্য আশরাফুল ইসলাম বলেন, ‘ধান কাটাকে কেন্দ্র করে থানায় অভিযোগ হলে ওসি স্যার ধান মাড়াই করে শুকিয়ে আমার হেফাজতে রাখতে বলেন। পরে কাগজপত্র অনুযায়ী যার জমি প্রমাণিত হবে, তাকে ধান বুঝিয়ে দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু একাব্বর হোসেন তা মানেননি।’


সুন্দরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিন মোহাম্মদ আমানুল্লাহ বলেন, ‘অভিযোগের পর নিরপেক্ষতার স্বার্থে ধান ইউপি সদস্যের জিম্মায় রাখতে বলা হয়েছিল। কাগজপত্র অনুযায়ী প্রকৃত মালিক নির্ধারণ করে ধান হস্তান্তর করা হবে। বিষয়টি দ্রুত নিষ্পত্তির চেষ্টা চলছে।’