কুড়িগ্রামের হত্যা মামলার দুই আসামিকে গাজীপুর থেকে গ্রেফতার করেছে র্যাব
মোঃ মিজানুর রহমান, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০১ মে ২০২৬, ০৯:২৬
কুড়িগ্রামের হত্যা মামলার দুই আসামিকে গাজীপুর থেকে গ্রেফতার করেছে র্যাব।
বাংলাদেশ আমার অহংকার'- এই মূলমন্ত্রকে ধারণ করে এলিট ফোর্স র্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন চাঞ্চল্যকর হত্যা, অপহরণ, ধর্ষণ, রাহাজানি, যৌতুকসহ মারাত্মক সব সামাজিক অপরাধের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে আসছে।

সুনির্দিষ্ট তথ্য ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-১৩, সদর কোম্পানী, রংপুর এবং র্যাব-১, সিপিসি-১, উত্তরা ক্যাম্পের একটি যৌথ আভিযানিক দল গতকাল বুধবার ( ২৯ শে এপ্রিল) বিকালে গাজীপুর এর বাসন থানাধীন কলম্বিয়া রোড, মোগরখাল ১৭নং ওয়ার্ডস্থ মোঃ জাহাঙ্গীর আলম এর বাড়ীতে অভিযান পরিচালনা করেন।
এসময় কুড়িগ্রাম জেলার ভুরুঙ্গামারী থানার হত্যা মামলার পলাতক আসামি মোঃ মিজানুর রহমান ও জেসমিন খাতুনকে গ্রেফতার করেন।
মামলার এজাহার সুএে জানা যায় ভুরুঙ্গামারী সদর উপজেলার ৮ নং ওয়ার্ডের মাহিগঞ্জ চান্দুনিয়া গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল জলিল তরফদারের পুএ আক্তারুজ্জামানের সাথে একই গ্রামের জুলহাসের মেয়ে জেসমিন খাতুনের ৫ বছর আগে বিবাহ সম্পন্ন হয়।
বিবাহের পর থেকেই আক্তারুজ্জাম ও জেসমিনের মধ্যে সাংসারিক ছোট খাটো বিভিন্ন বিষয় নিয়ে প্রায় ঝগড়া বিবাদ হতে থাকত।
এক পর্যায়ে জেসমিন খাতুন গত ১৭ ই এপ্রিল স্বামীর সাথে ঝগড়া করে তার বাবার বাড়িতে চলে যায়। কিছুদিন পরে আক্তারুজ্জামান তাঁর স্ত্রীকে নেওয়ার জন্য গেলে শশুর বাড়িতে যায়।আক্তারুজ্জামান শশুর বাড়িতে পৌছামাএ জেসমিন ও তাঁর ভাই মিজানুর রহমানসহ আরো অনেকে দলবদ্ধ হয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে তাদের হাতে থাকা বাঁশের লাঠি, লোহার রড, কাঠের টুকরা দিয়ে এলোপাতারি মারপিট করে। এতে আক্তারুজ্জামান মাথার ও ঘাড়ের হাড় ভাঙ্গে গুরুতর রক্তাক্ত জখম হয়।
ভুক্তভোগীর চিৎকারে এলাকার লোকজনে এসে আহত গুরুতর অবস্থা থেকে উদ্ধার করে ভুরুঙ্গামারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন। ভুক্তভোগী চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ২৪ শে এপ্রিল রাতে মৃত্যুবরণ করেন।
পরে আক্তারুজ্জামানের পিতা আব্দুল জালিল উক্ত ঘটনায় বাদী হয়ে কুড়িগ্রাম জেলার ভুরুঙ্গামারী থানায় পেনাল কোডের ১৪৩/৩০২/৫০৬/১১৪/৩৪ ধারায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। যার মামলা নং-২৫।
র্্যাব-১৩ রংপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সিনিয়র সহকারী পরিচালক বিপ্লব কুমার গোস্বামী জানান পরবর্তী আইনানুগ কার্যক্রমের জন্য গ্রেফতারকৃত আসামিদের সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এছাড়া প্রতিটি অপহরণ, হত্যা, ধর্ষণসহ সকল অপরাধ প্রতিরোধে র্যাবের প্রতিটি সদস্য দৃঢ়প্রত্যয়ের সাথে কাজ করছে এবং চলমান এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।

logo-2-1757314069.png)
