Logo
×

জেলার খবর

প্রভাবশালী চক্রের দাপট, নদী কেটে বালু লুট—নীরব প্রশাসন

Icon

নীলফামারী প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ১৫:২৩

প্রভাবশালী চক্রের দাপট, নদী কেটে বালু লুট—নীরব প্রশাসন

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ ও সদর উপজেলার সংযোগস্থল দিয়ে প্রবাহিত চাড়ালকাটা নদীর তীর কেটে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে একটি প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে। এতে হুমকির মুখে পড়েছে আশপাশের বিস্তীর্ণ আবাদি জমি, ভিটেবাড়ি ও গ্রামীণ অবকাঠামো। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এ কার্যক্রম চললেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।


বুধবার ও বৃহস্পতিবার সরেজমিনে দেখা যায়, কিশোরগঞ্জ উপজেলার নিতাই ইউনিয়নের গাংবের এলাকায় নদীর তীর ঘেঁষে ভেকু দিয়ে বালু কেটে ট্রলিতে করে পরিবহন করা হচ্ছে। ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলা এ কার্যক্রমে নদীতীর ক্রমেই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। স্থানীয়দের দাবি, সাংবাদিক বা বহিরাগতদের প্রবেশ ঠেকাতে বিভিন্ন স্থানে পাহারার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।


একই চিত্র দেখা গেছে বাহাগিলী ইউনিয়নের দক্ষিণ দুরাকুটি ময়দানপাড়া ও কালুরঘাট ব্রিজসংলগ্ন এলাকায়। বালুবাহী ট্রলির অবাধ চলাচলে গ্রামীণ সড়কগুলো ভেঙে পড়েছে, চলাচল দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে সাধারণ মানুষের জন্য।


স্থানীয়দের অভিযোগ, একটি প্রভাবশালী মহল বালুর লট ইজারার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে নদীর তীর কেটে বালু বিক্রি করছে। এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনকে একাধিকবার লিখিতভাবে জানানো হলেও দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ভয়ে অনেকেই প্রকাশ্যে কথা বলতে চান না বলেও জানান তারা।


গাংবের এলাকার বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, নদীর তীর কেটে বালু নেওয়ায় আমাদের ফসলি জমি হুমকিতে পড়েছে। প্রতিবাদ করলে নানা ধরনের ভয়ভীতি দেখানো হয়। আরেক বাসিন্দা রিপন মিয়া বলেন, ‘রাতভর ট্রলির শব্দে ঘুমানো যায় না। রাস্তার অবস্থা এত খারাপ হয়েছে যে চলাচলই কঠিন হয়ে পড়েছে।


অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের দাবি, তারা ইজারাকৃত বালু উত্তোলনে বাধার মুখে পড়ে বিকল্প হিসেবে নিজস্ব জমির বালু বিক্রি করছেন। তবে এ ধরনের উত্তোলনের জন্য কোনো অনুমোদন নেওয়া হয়নি বলে স্বীকার করেন তারা।


এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরিফুর রহমান বলেন, অবৈধভাবে নদীর তীর কেটে বালু উত্তোলনের বিষয়টি জেনেছি। দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


স্থানীয়দের আশঙ্কা, বর্ষা মৌসুমে এভাবে নদীতীর কেটে বালু উত্তোলন চলতে থাকলে ব্যাপক ভাঙন দেখা দিতে পারে, যার ফলে ফসলি জমি ও বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।