Logo
×

জেলার খবর

১৫ দিন যাবৎ হাসপাতালে নাম-পরিচয়হীন কন্যাশিশু

Icon

জামালপুর প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ১৯:১০

১৫ দিন যাবৎ হাসপাতালে নাম-পরিচয়হীন কন্যাশিশু

জন্মের কয়েকদিনের মধ্যেই যেন পৃথিবীর সব পরিচয় হারিয়ে ফেলেছিল ছোট্ট এক কন্যাশিশু। কে তার বাবা-মা, কোথায় তার ঘর কেউ জানে না। তবে অজানা এই শিশুটির জন্য এখন আশ্রয় হয়ে উঠেছে হাসপাতালের ১৮ নং বেড, আর পরিবার হয়ে উঠেছেন সেখানকার চিকিৎসক-নার্স-স্টাফরা।


হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, জামালপুর ব্রিজের নিচ থেকে একটি দোকানের পাশ থেকে ভেসে আসে শিশুর কান্না। স্থানীয় এক ব্যক্তি সেই কান্নার আওয়াজ শুনে এগিয়ে যান, ঝুপের আড়াল থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। কিন্তু ভর্তি করেই তিনি সেখান থেকে চলে যান,  তবে হাসপাতাল রেখে যাননি তার কোনো পরিচয়।


ভর্তির সময় শিশুটির অবস্থা ছিল সংকটাপন্ন। দুর্বলতা এতটাই ছিল যে সে স্বাভাবিকভাবে নড়াচড়াও করতে পারছিল না। চিকিৎসকদের নিবিড় পরিচর্যা আর হাসপাতালের কর্মীদের যত্নে ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠেন।


প্রতিদিন শিশুটির খাওয়ার দায়িত্ব নেন হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডের দায়িত্ব থাকা আয়া মনিরা বেগম। এসময় কথা হয় তার সাথে। তিনি বলেন, আমার নিজেরও দেড় বছরের ছোট বাচ্চা আছে। বাচ্চা কে দেখে আমার খুব খারাপ লাগে, ডাক্তাররা বলার পর আমি গত কয়েকদিন ধরে এই শিশুটিকে দুধ খাওয়াচ্ছি। শুরুতে খুব খারাপ অবস্থায় ছিল, এখন অনেকটাই ভালো। আমি যখন আমার ডিউটি শেষ করে বাসায় চলে যাই তখন দায়িত্ব থাকা অন্য সিষ্টাররা ওর দেখাশোনা করেন। আমরা চাই শিশুটি ভালো হয়ে একটা পরিবারের কাছে যাক।


দায়িত্বে থাকা নার্স হাবিবা আক্তার বলেন, হাসপাতালে ৮ তারিখে শিশুটিকে ভর্তি করা হয়। তখন তার কোনো স্বজন ছিল না। শুরুতে শিশুটির খুব সিরিয়াস অবস্থা ছিলো, চিকিৎসার পর এখন অবস্থার উন্নতি হয়েছে। মানুষ এমন হতে পারে ১ দিনের বাচ্চা কে রাস্তায় ফেলে চলে যায়। আমরা তাকে দেখভাল করছি। 


মানবাধিকার কর্মী জাহাঙ্গীর সেলিম বলেন, আমি জানার পরে হাসপাতালে গিয়ে শিশুটিকে দেখে এসেছি। বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক, এখন পর্যন্ত তার পরিবারের কাওকে পাওয়া যায়নি, চেষ্টা করছি পরিবার কে খোঁজার। যদি না পাওয়া যায়, আমরা উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে তার জন্য একটা ভালো পরিবারের কাছে দায়িত্ব দিবো।


এদিকে পাশের বেডে থাকা অন্য শিশুদের কান্না থামাতে যখন ছুটে আসেন তাদের স্বজনরা, ঠিক তখনই একই সুরে কেঁদে ওঠা এই কন্যাশিশুটির পাশে দাঁড়ানোর মতো থাকে না কোনো আপনজন,তার কান্না যেন নিঃশব্দেই হারিয়ে যায় হাসপাতালের দেয়ালজুড়ে।


১৪ দিন যাবৎ হাসপাতালে ১৮ নাম্বার বেড়ে নাম-পরিচয়হীন এই নবজাতক সবার স্নেহে বড় হচ্ছে। তার কান্না আর নিঃসঙ্গতার জায়গা দখল করে নিয়েছে মানুষের ভালোবাসায়। চিকিৎসক ও সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠবে শিশুটি। এরপর কোনো একদিন হয়তো সে খুঁজে পাবে নিজের একটি নাম, একটি ঠিকানা,আর ভালোবাসায় ভরা একটি নতুন পরিবার।