মামলা করায় বাদীর পরিবারে হামলা, কুপিয়ে জখম ৭
নীলফামারী প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ১৯:০৫
নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলায় আদালতে মামলা দায়েরের জেরে বাদী ও তাঁর পরিবারের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে নারীসহ অন্তত সাতজন আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছে চিকিৎসকরা।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) রাত সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার সদর ইউনিয়নের গরুহাটি বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তিস্তা সেচ ক্যানেলের সড়ক নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ তুলে গত ১৭ মার্চ মানববন্ধন করেন এলাকাবাসী।
এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারপক্ষ ও অভিযুক্তরা মানববন্ধনে অংশ নেওয়া সোনাবাবুকে (২৪) বিভিন্নভাবে হুমকি দিতে থাকেন। পরবর্তীতে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগে তিনি আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন।
মামলার পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ রয়েছে, বৃহস্পতিবার রাতে অভিযুক্ত দুলু মিয়া, ফজলু মিয়া, নুরনবী ও নজরুল ইসলাম ব্যালসহ কয়েকজন সোনাবাবুর ভাই বাদল ইসলামের দোকানে হামলা চালায়। এ সময় দোকান ভাঙচুর ও বাদল ইসলামকে মারধর করা হয়।
পরে আহত বাদল ইসলামকে স্থানীয়রা হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানেও হামলার ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ ওঠে। হাসপাতালে অবস্থানরত সোনাবাবুর পরিবারের সদস্যদের ওপর আবারও হামলা চালানো হয় এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করা হয়। এতে নারীসহ কয়েকজন গুরুতর আহত হন।
আহতদের মধ্যে দুজনের শারীরিক অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাঁদের রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
ভুক্তভোগী সোনাবাবু বলেন, অনিয়মের প্রতিবাদ করায় তাঁদের ওপর পরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হয়েছে। মামলা দায়েরের পর থেকেই অভিযুক্তরা বেপরোয়া হয়ে ওঠে।
আহত বাদল ইসলাম অভিযোগ করেন, হামলাকারীরা তাঁর দোকান ভাঙচুরের পাশাপাশি তাঁকে মারধর করে গুরুতর আহত করে। পরে হাসপাতালে নিয়েও পরিবারের সদস্যরা হামলার শিকার হন। এতে তাঁরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
এদিকে বাদলের স্ত্রী হিয়া আক্তার অভিযোগ করেন, হাসপাতালে গিয়ে স্বামীর খোঁজ নিতে গেলে তাকেও মারধর করা হয় এবং শ্লীলতাহানির শিকার হতে হয়।
ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তবে এখন পর্যন্ত লিখিত অভিযোগ না পাওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ।
কিশোরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লুৎফর রহমান বলেন, ঘটনার বিষয়ে আমরা অবগত আছি। লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

logo-2-1757314069.png)
