Logo
×

জেলার খবর

লালমনিরহাট কারাগারে হাজতিকে পিটিয়ে আহতের অভিযোগ, জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ

Icon

লালমনিরহাট প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২০ এপ্রিল ২০২৬, ১৯:৩৮

লালমনিরহাট কারাগারে হাজতিকে পিটিয়ে আহতের অভিযোগ, জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ

লালমনিরহাট জেলা কারাগারে হাজতি বন্দীর ওপর অমানবিক নির্যাতনের অভিযোগ এনে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন এক ভুক্তভোগীর পরিবার। অভিযোগে কারারক্ষীর বিরুদ্ধে গুরুতর নির্যাতনের পাশাপাশি কারাগারে অনিয়ম ও মাদক বাণিজ্যের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।


সোমবার (২০ এপ্রিল) লালমনিরহাট জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীর পরিবার।


অভিযোগকারী মোছাঃ সালমা বেগম জানান, তার ভাই সুমন (হাজতি নং: ৩-২০২৬) বর্তমানে লালমনিরহাট জেলা কারাগারে আটক রয়েছেন। গত ১৫ এপ্রিল সন্ধ্যায় কারারক্ষী তৌফিকুল ইসলাম তৌফিক কারাগারের তিন নম্বর ওয়ার্ড থেকে সুমনসহ হাজতি রাসেল ও হাফিজুলকে লকআপ থেকে বের করে বেধড়ক মারধর করেন।


অভিযোগে বলা হয়, একপর্যায়ে সুমনের বুকে ও গলায় পা দিয়ে শ্বাসরোধের চেষ্টা করা হয়, এতে তিনি গুরুতর আহত হন এবং বর্তমানে কারা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।


তিনি আরও জানান, ১৮ এপ্রিল পরিবারের সদস্যরা কারাগারে গিয়ে দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পর সুমনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে সক্ষম হন। এ সময় সুমন অভিযোগ করেন, কোনো কারণ ছাড়াই তাকে মারধর করা হয়েছে এবং বিষয়টি কাউকে না জানাতে হুমকি দেওয়া হয়েছে। শুরুতে পরিবারের সদস্যদের সাক্ষাৎ দিতেও বাধা দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।


লিখিত অভিযোগে আরও বলা হয়, কারাগারের ভেতরে কিছু অসাধু কারারক্ষী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির মাধ্যমে মাদক প্রবেশ করানো হয় এবং অর্থের বিনিময়ে বন্দীদের বিশেষ সুবিধা দেওয়া হয়। টাকা দিতে ব্যর্থ হলে বন্দীদের ওপর শারীরিক নির্যাতন চালানো হয় বলেও দাবি করা হয়েছে। এছাড়া নিম্নমানের খাবার উচ্চমূল্যে বিক্রি এবং হাজতিদের দিয়ে বেআইনিভাবে কাজ করানোর অভিযোগও তোলা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়, এসব কার্যক্রম কারাগারকে সংশোধনাগারের পরিবর্তে নির্যাতন কেন্দ্রে পরিণত করছে, যা মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন।


লালমনিরহাট জেলা কারাগারের জেল সুপার এমরান হোসেন ভূঁইয়া বলেন, “ঘটনাটি যাচাই করে দেখা হচ্ছে, তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”


বিভাগীয় কারা উপপরিদর্শক কামাল হোসেন বলেন, “এ ধরনের অভিযোগ গুরুতর। আপনার কাছে তথ্য প্রমাণ থাকলে নিউজ করতে পারেন।বিষয়টি আমি খতিয়ে দেখা হবে।”


এ বিষয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও দ্রুত তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে। একইসঙ্গে নির্যাতনের শিকার বন্দীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।