Logo
×

জেলার খবর

বরিশালে সিলিন্ডার বিস্ফোরণে বাবা-ছেলে দ্বগ্ধ

Icon

মো. ফিরোজ গাজী, বরিশাল প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ২০:৩১

বরিশালে সিলিন্ডার বিস্ফোরণে বাবা-ছেলে দ্বগ্ধ

বরিশাল নগরীতে ঘরের মধ্যে থাকা সিলিন্ডারের গ্যাস লিক করে বের হয়ে বিস্ফোরনে বাবা ও ছেলে আহত হয়েছে। বুধবার ভোর রাতে নগরীর ২৩ নম্বর ওয়ার্ড দরগা বাড়ী মসজিদের পাশের তালুকদার ভিলা নামের তিনতলা ভবনের নিচতলায় এ ঘটনা ঘটে বলে ফায়ার সার্ভিসের ষ্টেশন অফিসার রবিউল আল আমিন জানিয়েছেন। 


গুরুতর অগ্নিদগ্ধ বাবা মানিক চন্দ্র শীলকে (৬০) ঢাকা পাঠানো হয়েছে। এছাড়াও ছেলে মৃদুল চন্দ্র শীলকে বরিশাল শেরই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। 


বরিশাল সদর ফায়ার সার্ভিসের জ্যেষ্ঠ ষ্টেশন অফিসার রবিউল আল আমিন আহত ছেলে মৃদুলের বরাতে বলেন, পরিবার নিয়ে থাকতো তারা। গত রাতে বাবা ও ছেলে বাসায় ছিলো। ওইরাতে নতুন একটি গ্যাস সিলিন্ডার এনেছিলো। সিলিন্ডার চুলার সাথে সংযোগ দেয়ার পর শব্দ হয়। তখন বাবা মানিক সংযোগ সিলিন্ডারের সাথে ভালো করে আটকে দিয়েছে। কিন্তু এরপরেও মনে লিকেজ ছিলো। এতে সিলিন্ডার থেকে গ্যাস ঘরে ছড়িয়ে পড়েছে। সকাল ৬টার দিকে মানিক চন্দ্র শীল রান্না করার জন্য চুলা জ্বালাতে গেলে বিস্ফোরন হয়। এতে ঘরে দরজা জানালা উড়ে গিয়েছে। এছাড়াও আগুনে পুড়ে দ্বগ্ধ হয়েছে বাবা ও ছেলে। তাদের উদ্ধার করে স্থানীয়রা বরিশাল শেরই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। 


বরিশাল শেরই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল ডা.  একেএম মশিউল মুনীর বলেন, মানিক চন্দ্র শীলের শরীরে ৭০ ভাগ পুড়ে গেছে। তার অবস্থা আশংকাজনক। তাকে ঢাকায় জাতীয় বার্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ছেলের শরীরে ৫ ভাগের মতো পুড়েছে। তাকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। 


বরিশাল মহানগর পুলিশের কোতয়ালী মডেল থানার ওসি আল মামুন উল ইসলাম বলেন, তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সন্দেহজনক কিছু পাননি। প্রাথমিকভাবে ধারনা করা হচ্ছে বিষয়টি গ্যাস লিকেজের কারনে হয়েছে। তবুও তদন্ত করা হচ্ছে। কোন নাশকতার বিষয় পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।


ঘরের মধ্যে গ্যাসের সিলিন্ডার দুইটি অক্ষত থাকায় প্রতিবেশিরা সন্দেহ প্রকাশ করেছে। বিস্ফোরনে নিচতলার সহ আশে-পাশের ভবন অনেক ক্ষতি হয়েছে। এ বিস্ফোরনের রহস্য রয়েছে। 


ফায়ার সার্ভিসের ষ্টেশনের অফিসার বলেন, গ্যাস লিকেজ হলে আগুন পেলে বিস্ফোরিত হয়। তখন অক্সিজেনের দুর্বল জায়গা পেলে সেই স্থান নিয়ে বের হয়ে যায়। এখানেও সেই ঘটনা ঘটেছে।  বিস্ফোরণে ভবনের নীচ তলার তিনটি ককের দরজা, জানালা ও থাইগ্লাসসহ ব্যবহৃত আসবাবপত্রের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এছাড়াও ওই ভবনের দ্বিতীয় তলা ও পাশের একটি ভবন ক্ষতি হয়েছে।