Logo
×

জেলার খবর

সৈয়দপুরে চিনি মসজিদ ও খ্রিস্টান কবরস্থান: সম্প্রীতির অনন্য নজির

Icon

মো. নাজমুল হুদা, নীলফামারী প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ১৮:৪৪

সৈয়দপুরে চিনি মসজিদ ও খ্রিস্টান কবরস্থান: সম্প্রীতির অনন্য নজির

নীলফামারীর সৈয়দপুর শহরে ধর্মীয় সম্প্রীতির এক বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করে দাঁড়িয়ে আছে চিনি মসজিদ ও এর সংলগ্ন খ্রিস্টান কবরস্থান। ভিন্ন ধর্মের দুটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা পাশাপাশি অবস্থান করলেও এখানে নেই কোনো বিভেদ কিংবা সংঘাত; বরং দৃশ্যমান পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহমর্মিতা ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান।


ঐতিহাসিকভাবে চিনি মসজিদ সৈয়দপুরের অন্যতম প্রাচীন ও দৃষ্টিনন্দন স্থাপনা হিসেবে পরিচিত। নান্দনিক কারুকাজ, পরিপাটি পরিবেশ এবং ধর্মীয় আবহ প্রতিদিন বহু দর্শনার্থীকে আকর্ষণ করে। ঠিক পাশেই অবস্থিত খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের কবরস্থান, যেখানে নীরবতার মাঝে লুকিয়ে থাকে অসংখ্য মানুষের স্মৃতি ও জীবনের গল্প।


স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে এই দুটি স্থাপনা পাশাপাশি থাকলেও কখনো কোনো ধরনের বিরোধ বা উত্তেজনার সৃষ্টি হয়নি। ধর্মীয় উৎসব বা বিশেষ দিনে উভয় সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে সহযোগিতা ও সহানুভূতির নজিরও লক্ষ্য করা যায়। মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ যেমন কবরস্থানের পবিত্রতা রক্ষায় সচেতন, তেমনি খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের লোকজনও মসজিদের প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করে থাকেন।


এই কবরস্থানের দেখভালের দায়িত্বে রয়েছেন মুসলিম ধর্মাবলম্বী মো. আবু সাঈদ। পারিবারিকভাবে তারাও এই দায়িত্ব পালন করে আসছেন। কবরস্থানের এক পাশে তাদের বসবাসের ব্যবস্থাও করা হয়েছে। দায়িত্ব সম্পর্কে আবু সাঈদ বলেন, “ধর্ম ভিন্ন হতে পারে, কিন্তু আমরা সবাই মানুষ। কবরস্থান একটি পবিত্র স্থান। এখানে শায়িত মানুষের কবর পরিষ্কার রাখা, গাছ লাগানো—এসব কাজ করতে আমার ভালো লাগে।


অন্যদিকে, কবর জিয়ারত করতে আসা খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী আঞ্জেলো মন্ডল কবরস্থানের কিছু সমস্যা তুলে ধরেন। তিনি জানান, প্রধান ফটকের সামনে স্থাপিত ডাস্টবিন থেকে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। এছাড়া পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা না থাকায় রাতে দাফন কার্যক্রমে সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। তার মতে, অন্তত ১০টি বৈদ্যুতিক বাতির ব্যবস্থা জরুরি।


তিনি আরও অভিযোগ করেন, কবরস্থানের সামনের কিছু জায়গা দখল করে রেখেছে একটি প্রভাবশালী মহল। এসব সমস্যা দ্রুত সমাধানে তিনি জেলা প্রশাসক ও সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।


সমাজ বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান বিশ্বে যখন ধর্মীয় বিভাজন প্রায়ই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠছে, তখন সৈয়দপুরের এই সহাবস্থান একটি অনুসরণযোগ্য উদাহরণ। এটি প্রমাণ করে—সম্প্রীতি, সহনশীলতা এবং মানবিক মূল্যবোধই একটি সমাজকে এগিয়ে নিতে পারে।


সব মিলিয়ে, চিনি মসজিদ ও খ্রিস্টান কবরস্থানের এই সহাবস্থান কেবল দুটি স্থাপনার অবস্থান নয়; এটি একটি জীবন্ত বার্তা—ধর্ম নয়, মানুষই সর্বাগ্রে।