আচার ব্যবসায় সাফল্য: মাসে লাখ টাকা আয় তছলিমার
মো. নাজমুল হুদা, নীলফামারী প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ২২:২৭
চাকরির নিরাপদ গণ্ডি ছেড়ে নিজস্ব উদ্যোগে সফলতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন নীলফামারীর সৈয়দপুরের নারী উদ্যোক্তা উম্মে তছলিমা আকতারি। শুরুটা ছিল সীমিত পরিসরে, তবে এখন তার প্রতিষ্ঠিত ‘প্রিমি ফার্ম’ নামের কারখানায় উৎপাদিত বিভিন্ন ধরনের আচার দেশের বিভিন্ন জেলায় বিক্রি হচ্ছে। মাসিক আয়ও পৌঁছেছে প্রায় এক লাখ টাকায়।
তছলিমা আকতারি সৈয়দপুর উপজেলার কামারপুকুর ইউনিয়নের বকসাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। পড়াশোনা শেষে কিছুদিন চাকরির সঙ্গে যুক্ত থাকলেও, নিজের কিছু করার আগ্রহ থেকেই উদ্যোক্তা হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। প্রথমদিকে কয়েকটি উদ্যোগে ব্যর্থতা এলেও হাল ছাড়েননি। অবশেষে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে বাড়িতে গরুর মাংসের আচার তৈরি করে যাত্রা শুরু করেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে প্রচারের মাধ্যমে তার পণ্যের পরিচিতি বাড়তে থাকে। ক্রেতাদের আগ্রহ ও চাহিদা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে তিনি ব্যবসার পরিধি বাড়ান। গরুর মাংসের আচারের পাশাপাশি জলপাই, তেঁতুল, চালতা, রসুন ও টমেটোসহ বিভিন্ন ধরনের আচার উৎপাদন শুরু করেন।
বর্তমানে তার ‘প্রিমি ফার্ম’ কারখানায় প্রায় ২৫ জন শ্রমিক কাজ করছেন। শ্রমিকরা মাসে ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত বেতন পাচ্ছেন, যা তাদের পরিবারের আর্থিক স্বচ্ছলতা আনতে সহায়ক হয়েছে।
পণ্যের গুণগত মান নিশ্চিত করতে তছলিমা বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন স্বাস্থ্যবিধি মেনে উৎপাদনে। নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় পশু জবাইয়ের আগে ভেটেরিনারি চিকিৎসকের মাধ্যমে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়। এরপর নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় খাঁটি সরিষার তেল ও প্রয়োজনীয় মসলা ব্যবহার করে আচার তৈরি করা হয়। তার উৎপাদিত পণ্য বিসিএসআইআর ল্যাবের অনুমোদনও পেয়েছে।
উম্মে তছলিমা আকতারি বলেন, শুরুতে পথটা সহজ ছিল না। তবে নিজের লক্ষ্য থেকে সরে আসিনি। ধীরে ধীরে ক্রেতাদের আস্থা অর্জন করতে পেরেছি। এখন দেশজুড়ে পণ্য সরবরাহ করছি। ভবিষ্যতে বিদেশে রপ্তানির পরিকল্পনা রয়েছে।
কারখানার শ্রমিকরা জানান, এখানে কাজ করে তারা নিয়মিত আয় করতে পারছেন, যা তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে সহায়তা করছে।
স্থানীয় নারী সংগঠকরা মনে করছেন, তছলিমার এই উদ্যোগ অন্য নারীদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হতে পারে। তারা বলছেন, সামাজিক প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও নারীরা চাইলে উদ্যোক্তা হিসেবে সফল হতে পারেন।
উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তাও জানিয়েছেন, এমন উদ্যোগকে এগিয়ে নিতে প্রয়োজনীয় সহায়তার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।
সবমিলিয়ে, আত্মবিশ্বাস ও পরিশ্রমের মাধ্যমে তছলিমা আকতারির এই সাফল্য কেবল ব্যক্তিগত অর্জন নয়; বরং স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে।

logo-2-1757314069.png)
