ফরিদপুরের ভাঙ্গায় বাস-পিকআপের মুখোমুখি সংঘর্ষে বাস উল্টে খাদে পড়ে দুইজন নিহত হয়েছেন। এতে অন্তত ৩০ জন বাসের যাত্রী আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। খবর পেয়ে ভাঙ্গা হাইওয়ে থানা ও ফায়ারসার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান চালায়। আহতদের ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠায়। সোমবার (১৩ এপ্রিল) সকালে ফরিদপুর-ভাঙ্গা-বরিশাল মহাসড়কের বাবলাতলা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে যাত্রীবাহী বাসটি সড়ক থেকে ছিটকে ৩০ ফিট গভীর খাদে পড়ে উল্টে যায়।
নিহতরা হলেন- ভাঙ্গা পৌরসভার কৈডুবী সদরদী গ্ৰামের সেকেন মোল্লার ছেলে ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর মোল্লা (৪০) ও একই গ্রামের আলমগীর শেখ (৪২)। তিনি নেছার উদ্দিন শেখের ছেলে। এছাড়াও গুরুতর আহতদের মধ্যে প্রায় ১৫ জনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
আহত কয়েকজন যাত্রী জানান, তারা ফরিদপুর থেকে বরিশালের উদ্দেশ্য যাচ্ছিলেন। হঠাৎ দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছালে বিকট আওয়াজ হয়। মুহূর্তেই বাসটি খাদে পড়ে যায়। পরে অজ্ঞান হয়ে পড়ে থাকেন বাসের ভেতর। এক পর্যায়ে ভাঙ্গা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসার পর তাদের জ্ঞান ফিরলে দেখেন তাদের চিকিৎসা চলছে। বাসে থাকা আহত যাত্রী এক দম্পতি (স্বামী-স্ত্রী) জানান, তারা বরিশাল যাচ্ছিলেন। দুর্ঘটনায় মাথায় ও পায়ে গুরুতর আঘাত পেয়েছেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করে হাইওয়ে থানার উপ-পরিদর্শক মোহাম্মদ মামুন মিয়া জানান, ফরিদপুর থেকে ছেড়ে আসা শাহ ফরিদ পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে ভাঙ্গার বাবলাতলা ব্রিজের উপরে আসলে বিপরীত দিকথেকে আসা একটি পিকআপের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ৩০ ফিট গভীর খাদে পড়ে উল্টে যায়। এতে ঘটনাস্থলে একজন ও ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে ঢাকায় নেয়ার পথে আরও একজনের মৃত্যু হয়। আহত হয় বেশকিছু যাত্রী। খবর পেয়ে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহত যাত্রীদের উদ্ধার করে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রেরণ করি। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
ভাঙ্গা ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন ম্যানেজার আবু জাফর জানান, সকাল ৯টার দিকে দুর্ঘটনার খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে গুরুতর আহত প্রায় ২৫ জনকে উদ্ধার করে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রেরণ করি। বর্তমানে উদ্ধার অভিযান চলছে।

logo-2-1757314069.png)
