Logo
×

জেলার খবর

১৬ বছর ধরে সংস্কারবঞ্চিত সৈয়দপুর মহিলা ডিগ্রি কলেজের খালেদা জিয়া ছাত্রী নিবাস

Icon

নাজমুল হুদা, নীলফামারী প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১২ এপ্রিল ২০২৬, ১৯:২৫

১৬ বছর ধরে সংস্কারবঞ্চিত সৈয়দপুর মহিলা ডিগ্রি কলেজের খালেদা জিয়া ছাত্রী নিবাস

শুধুমাত্র নামের কারণে দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে উন্নয়ন সংস্কারবঞ্চিত নীলফামারীর সৈয়দপুর মহিলা ডিগ্রি কলেজের ছাত্রী নিবাস।বেগম খালেদা জিয়া ছাত্রী নিবাসনামে পরিচিত চারতলা এই ভবনটি বর্তমানে নানা সমস্যায় জর্জরিত হয়ে পড়েছে।

 

কলেজ সূত্রে জানা যায়, নারী শিক্ষার প্রসারে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আমলের শেষ দিকে প্রতিষ্ঠিত হয় সৈয়দপুর মহিলা ডিগ্রি কলেজ। পরবর্তীতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়তে থাকায় দূর-দূরান্ত থেকে আসা ছাত্রীদের আবাসনের জন্য একটি হোস্টেল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

 

১৯৯৫ সালে তৎকালীন সংসদ সদস্য অধ্যাপক আব্দুল হাফিজের হাত ধরে ছাত্রী নিবাসের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। ওই সময় দেশের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন খালেদা জিয়া। পরবর্তীতে সরকার পরিবর্তনের ফলে নির্মাণকাজ কিছুটা বাধাগ্রস্ত হলেও ২০০১ সালে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর কাজ পুনরায় শুরু হয়। চারতলা ভবনের নির্মাণকাজ শেষে ২০০৩ সালে এটি উদ্বোধন করা হয়।

 

এরপর দীর্ঘ সময় ধরে ভবনটির তেমন কোনো সংস্কার হয়নি। কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. শাহীদ শাহাব জানান, প্রায় ১৬ বছর ধরে অর্থের অভাবে কোনো সংস্কার কাজ করা সম্ভব হয়নি। ৮৪ জন ছাত্রীর আবাসনের ব্যবস্থা থাকলেও বর্তমানে সেখানে থাকছে মাত্র ৩২ জন।

 

তিনি আরও জানান, হোস্টেলের আসবাবপত্র নড়বড়ে হয়ে গেছে, বাথরুমের ফিটিংস নষ্ট, দরজা-জানালা ভাঙাচোরা এবং ফ্লোর ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিন চুনকাম না হওয়ায় ভবনের পলেস্তরা খসে পড়ছে। রান্নাঘর ডাইনিং ব্যবস্থাও দুর্বল হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি মেট্রন, রাঁধুনি পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের বেতনের জন্য কোনো সরকারি বরাদ্দ নেই।

 

অধ্যক্ষের দাবি, বিগত শেখ হাসিনা সরকারের আমলে সংস্কারের জন্য ২০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হলেও শুধুমাত্র ছাত্রী নিবাসটির নামবেগম খালেদা জিয়াহওয়ায় সেই অর্থ ছাড় করা হয়নি। ফলে পুরো সময়জুড়েই সংস্কার কাজ থমকে ছিল।

 

বর্তমানে ছাত্রী নিবাসে ভর্তি ফি ,৫০০ টাকা এবং মাসিক সিট ভাড়া ৮০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া খাবারের জন্য প্রতিদিন তিন বেলার বিপরীতে নেওয়া হয় ১০০ টাকা। কিন্তু আবাসিক ছাত্রীর সংখ্যা কমে যাওয়ায় আয় কমে গেছে, যা দিয়ে ব্যয় মেটানো কঠিন হয়ে পড়েছে।

 

জরুরি ভিত্তিতে সংস্কার কাজ সম্পন্ন করা হলে ছাত্রী নিবাসটি পূর্ণ সক্ষমতায় চালু করা সম্ভব হবে এবং এতে শিক্ষার্থীদের আবাসন সমস্যাও অনেকাংশে দূর হবে বলে জানিয়েছে কলেজ কর্তৃপক্ষ।

 

বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন কলেজ কর্তৃপক্ষ স্থানীয়রা।