লাখো মুসল্লির ‘আমিন’ ধ্বনিতে শেষ হলো চরমোনাই মাহফিল
মো. ফিরোজ গাজী, বরিশাল প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৪ এপ্রিল ২০২৬, ১৯:১৬
লাখো মুসল্লির অশ্রুসিক্ত নয়ন আর ‘আমিন’ ধ্বনিতে আখেরি মোনাজাতের মাধ্যমে বরিশালের ঐতিহাসিক চরমোনাই মাদ্রাসা ময়দানে আয়োজিত তিন দিনব্যাপী ফাল্গুনের মাহফিলের সমাপ্তি হয়েছে। শনিবার সকাল সাড়ে ৮টায় সমাপনী অধিবেশন ও আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে মুসল্লিদের এই বিশাল আধ্যাত্মিক মিলনমেলার পর্দা নামে।
গত ১ এপ্রিল বুধবার বাদ জোহর ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীমের উদ্বোধনী বয়ানের মধ্য দিয়ে এই মাহফিল শুরু হয়েছিল। সমাপনী দিনে চরমোনাই পীর সাহেব পাপাচার ছেড়ে আত্মশুদ্ধি এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের মাধ্যমে কবরের জীবনের প্রস্তুতি নেওয়ার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
সমাপনী বয়ানে পীর সাহেব চরমোনাই বলেন যে, মানুষ আজ আল্লাহকে ভুলে নানা নাফরমানিতে লিপ্ত হচ্ছে। একজন মুমিনকে সবসময় মৃত্যুর কথা স্মরণ রেখে আল্লাহর ভয় অর্জন করতে হবে।
তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, যার অন্তরে আল্লাহর ভয় নেই, সে ব্যক্তি বড় আলেম বা পীর হলেও তার কোনো প্রকৃত মূল্য নেই। পীর সাহেব উপস্থিত মুসল্লিদের প্রতি হিংসা-বিদ্বেষ ও অহংকার ত্যাগ করে নিজেকে ছোট মনে করার নসিহত প্রদান করেন। সেই সাথে গিবত থেকে বেঁচে থাকা, নিয়মিত জিকির করা এবং পরিবারে দ্বীনি শিক্ষা ও পর্দা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।মোনাজাতের সময় এক আবেগঘন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
আখেরি মোনাজাতে ফিলিস্তিন, কাশ্মীর, মায়ানমার, সিরিয়া ও লেবাননসহ বিশ্বের নির্যাতিত মুসলমানদের নিরাপত্তা এবং মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকট নিরসনের জন্য বিশেষ দোয়া করা হয়। এছাড়া সমগ্র মুসলিম উম্মাহর শান্তি এবং গত অগ্রহায়ণ মাহফিল থেকে এ পর্যন্ত মৃত্যুবরণকারী চরমোনাইয়ের প্রায় দেড় হাজার মুরিদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করা হয়। মাহফিলে আগত প্রশাসনের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতা ও ওলামায়ে কেরামসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে মাহফিল সফল করার জন্য মোবারকবাদ জানান পীর সাহেব।
এবারের মাহফিলে মোট সাতটি মূল বয়ানের পাশাপাশি দেশবরেণ্য ওলামায়ে কেরাম ও পীর মাশায়েখগণ গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা পেশ করেন। তবে এবারের মিলনমেলায় দুই মুসল্লির মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। নরসিংদীর এমদাদুল হাসান এবং টাঙ্গাইলের মো. তালহা হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মৃত্যুবরণ করেন।
মাহফিল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে অ্যাম্বুলেন্স যোগে তাঁদের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এছাড়া মাহফিল হাসপাতালে প্রায় দুই সহস্রাধিক মুসল্লি চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করেন। মাহফিলের অন্য এক বিশেষ মুহূর্তে দুজন অমুসলিম চরমোনাই পীরের হাতে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন যা উপস্থিত মুসল্লিদের মাঝে আনন্দ ও উদ্দীপনা তৈরি করে।

logo-2-1757314069.png)
