Logo
×

জেলার খবর

ইবি শিক্ষিকা রুনা হত্যার বিচারের দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ

Icon

নাজমুস সাকিব, ইবি প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০২ এপ্রিল ২০২৬, ১৭:৪৭

ইবি শিক্ষিকা রুনা হত্যার বিচারের দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনা হত্যার দ্রুত বিচার ও হত্যাকারীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে কুষ্টিয়া মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে শিক্ষার্থীরা।


বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১০টায় কুষ্টিয়া শহরের মজমপুর গেট এলাকায় জেলা ট্রাফিক অফিসের সামনে বিভাগের শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে এ কর্মসূচি শুরু হয়। পরে তারা রেলগেটে অবস্থান নিয়ে কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ মহাসড়ক অবরোধ করেন। এসময় নিহতের স্বামী ইমতিয়াজ সুলতান ও তার চার শিশু সন্তানসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ও বর্তমান শতাধিক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।


আন্দোলনকারীরা বলেন, আসামি বিশ্বজিৎ ও শ্যাম সুন্দর হাইকোর্টে ঘোরাফেরা করছে, কিন্তু প্রশাসন এখনো তাদের গ্রেপ্তার করতে পারেনি। বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন সহকারী অধ্যাপকের ন্যূনতম নিরাপত্তাও ছিল না। তার চারটি অবুঝ সন্তান, এই সন্তানদের মুখের দিকে তাকিয়ে হলেও প্রশাসনের এতদিনে তাদের গ্রেপ্তার করা উচিত ছিল।


তারা আরও বলেন, এখন পর্যন্ত তাদের কেউ গ্রেপ্তার হয়নি। তাদের কাউকে আদৌ জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। তাহলে বিচারহীনতার যে সংস্কৃতি চলছে, সেটিই কি অব্যাহত থাকবে? দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষকের যদি নিরাপত্তা না থাকে, সেখানে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়?


নিহতের স্বামী ইমতিয়াজ সুলতান জানান, তার স্ত্রী জীবদ্দশায় যে ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছেন, মৃত্যুর পরও সেই ষড়যন্ত্র চলমান রয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, ঘটনাটিকে এককভাবে ফজলুর রহমানের ওপর দায় চাপিয়ে পরিকল্পিতভাবে বিষয়টি ভিন্নখাতে নেওয়ার চেষ্টা চলছে। এছাড়া বিশ্বজিৎ, শ্যাম সরকারসহ যাদের বিরুদ্ধে বিভাগের অর্থ তছরূপের বিষয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন, সে বিষয়ে এখন পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি বলেও জানান তিনি।


এদিকে, এক ঘণ্টা সড়ক অবরোধ শেষে কুষ্টিয়া পুলিশ সুপারের কার্যালয় ঘেরাও করেন বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। এ সময় রুনার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে তারা প্রশাসন ও অর্থ বিভাগের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শওকত মো. হাসান ইমামের সঙ্গে বৈঠক করেন।


বৈঠক শেষে প্রতিনিধিরা জানান, রুনা হত্যার এক মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো কোনো আসামি গ্রেপ্তার হয়নি। এ ব্যাপারে অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের সাথে কথা বললে, মূল আসামিকে রিমান্ডে নিয়ে অন্যান্য আসামিদের সংশ্লিষ্টতা যাচাই করে ঘটনার রহস্য উদঘাটন করা হবে বলে তাদের আশ্বস্ত করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছ থেকে প্রত্যাশিত সহযোগিতা এখনো পাওয়া যায়নি। ভবিষ্যতেও সহযোগিতা না পেলে ভিসি কার্যালয় ঘেরাও করা হবে বলেও জানান তারা।


উল্লেখ্য, গত ৪ মার্চ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ বিভাগের নিজ কক্ষে কর্মচারীর ছুরিকাঘাতে হত্যাকাণ্ডের শিকার হন বিভাগের সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনা। এ ঘটনায় ৫ মার্চ নিহতের স্বামী ইমতিয়াজ সুলতান চারজনকে আসামি করে ইবি থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। পরদিনই মামলার প্রধান আসামি ফজলুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। বর্তমানে তিনি কারাগারে রয়েছেন। মামলার অন্য আসামিরা হলেন– বিভাগের সাবেক কর্মচারী ও উম্মুল মু’মিনীন আয়েশা সিদ্দিকা হলের সহকারী রেজিস্ট্রার বিশ্বজিৎ কুমার বিশ্বাস, সমাজকল্যাণ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শ্যাম সুন্দর সরকার এবং সহকারী অধ্যাপক হাবিবুর রহমান।