Logo
×

জেলার খবর

রামেক হাসপাতালে আইসিইউ না পেয়ে চিকিৎসাধীন ৪৪ শিশুর মৃত্যু

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২৯ মার্চ ২০২৬, ১১:২০

রামেক হাসপাতালে আইসিইউ না পেয়ে চিকিৎসাধীন ৪৪ শিশুর মৃত্যু

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) তীব্র সংকটের কারণে শিশুমৃত্যু উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। গত দুই সপ্তাহে আইসিইউ সুবিধা না পেয়ে চিকিৎসাধীন ৪৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। শুক্রবার (২৭ মার্চ) সকালেও শিশুদের ওয়ার্ডগুলোতে ৪১ জন শিশু আইসিইউ বেডের জন্য অপেক্ষা করছিল।

রামেক হাসপাতালে বর্তমানে ৪০ শয্যার একটি আইসিইউ ওয়ার্ড রয়েছে। এর মধ্যে ১২টি শয্যা প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য এবং ১৬টি শয্যা বয়স্ক রোগীদের জন্য নির্ধারিত। শিশুদের জন্য নির্ধারিত রয়েছে ১২টি শয্যা। তবে কোনো দাপ্তরিক অনুমোদন ছাড়াই হাসপাতালের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় এই আইসিইউ চালু রয়েছে। সেই আইসিইউর একটি শয্যার জন্য অপেক্ষায় থাকেন মুমূর্ষু শিশুদের স্বজনরা। টানা কয়েকদিন অপেক্ষার পরও শয্যা মেলে না।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, রাজশাহী ছাড়াও খুলনা ও রংপুর বিভাগ থেকেও বহু শিশু উন্নত চিকিৎসার জন্য এই হাসপাতালে আসে। কিন্তু প্রয়োজন হলেও অনেক শিশুকে আইসিইউতে একটি শয্যা দেওয়া যায় না। ফলে সাধারণ ওয়ার্ডেই অনেক শিশুর মৃত্যু হয়ে থাকে। হাসপাতালের আইসিইউ বিভাগের ইনচার্জ ডা. আবু হেনা মোস্তফা কামাল জানান, চলতি মাসের ১০ মার্চ থেকে ২৬ মার্চ পর্যন্ত আইসিইউতে ভর্তির সুযোগ না পেয়ে ৪৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এসব শিশুর স্বজনরা আইসিইউতে ভর্তির জন্য সিরিয়াল দিয়েছিলেন। পরে যখন সিরিয়াল আসে, তখন আইসিইউ থেকে ফোন করে ডাকা হলে জানানো হয় তাদের শিশু আর বেঁচে নেই।

তিনি আরও জানান, সব সময় প্রায় অর্ধশত শিশুকে আইসিইউর জন্য অপেক্ষায় থাকতে হয়। শুক্রবার সকালে চারজন শিশুকে আইসিইউ থেকে বের করে সাধারণ ওয়ার্ডে দেওয়া হয়েছে। এরপর চারজন শিশুকে আইসিইউতে নেওয়া হয়েছে। কিন্তু তখনও অপেক্ষায় ছিল আরও ৪১ জন শিশু। রাজশাহীতে শিশুদের চিকিৎসার উন্নয়নে নগরের টিবি পুকুর এলাকায় প্রায় অর্ধকোটি টাকা ব্যয়ে ‘রাজশাহী শিশু হাসপাতাল’ নির্মাণ করা হয়েছে। এখানে ২শ’টি শয্যা থাকবে। এর মধ্যে শিশুদের জন্য ১২টি আইসিইউ শয্যাও থাকার কথা। ভবন নির্মিত হলেও কয়েক বছর ধরে হাসপাতালটি চালু হয়নি প্রয়োজনীয় জনবল ও যন্ত্রপাতির অভাবে। রামেক হাসপাতালেও ২০ শয্যার একটি শিশু আইসিইউ চালুর কথা। সেখানে ২০টি শয্যাও এসেছে। কিন্তু প্রয়োজনীয় অন্যান্য যন্ত্রপাতি ও জনবলের অভাবে সেটিও দুই বছর ধরে পড়ে আছে।

ডা. মোস্তফা কামাল বলেন, শিশু হাসপাতালটি চালু হলে রামেক হাসপাতালে শিশু রোগীর চাপ অনেক কমে যেত। সেখানে ১২টি আইসিইউ শয্যায় শিশুদের চিকিৎসা হতো। পাশাপাশি রামেক হাসপাতালের ২০ শয্যার আইসিইউ চালু হলে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া যেত। এ দুই উপায়ে আইসিইউ সংকট অনেকটাই কমানো সম্ভব এবং অকাল মৃত্যু থেকেও অনেক শিশুকে রক্ষা করা সম্ভব। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ উদ্যোগী হবে বলে তিনি আশা করেন। রামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পি কে এম মাসুদ উল ইসলাম বলেন, উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের বিপুলসংখ্যক রোগীর চাপ সামলাতে গিয়ে হাসপাতালকে সক্ষমতার কয়েকগুণ বেশি সেবা দিতে হচ্ছে। তারা তাদের সামর্থ্য অনুযায়ী চেষ্টা করে যাচ্ছেন। তিনি জানান, হাসপাতালের দুটি শিশু ইউনিটে রোগী ভর্তি থাকে প্রায় ৭৫০ জন, যেখানে শয্যা রয়েছে মাত্র ১৬০টি। এই বিপুল সংখ্যক রোগীর মধ্যে অন্তত ৫ শতাংশের আইসিইউ প্রয়োজন হলে প্রতিদিন ৩৫ থেকে ৪০ জন শিশুকে নিবিড় পরিচর্যায় নিতে হয়।