বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে ভিক্ষা করতে এসে একটু হেঁটে আবার একটু বসে হাঁপিয়ে উঠে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন শতবর্ষী এক বৃদ্ধ। লাঠিটা হাতে থাকলেও থরথর করে কাঁপছিলেন। কাছে গিয়ে সালাম দিয়ে কেমন আছেন জানতে চাইলে ‘আল্লায় রাখছে’ বলে শুকরিয়া আদায় করেন। আপনি কি সরকারি ভাতা পান না? এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘আছিন,
দুই বছর পাইছি।
পরে বন্ধ অয়ে গেছে। কেরলাইগ্যা (কেন) পাই না এইডা তো জানি না। তয় কেউ কেউ কইছে ভাতার নাহি (নাকি) মেয়াদ গেছেগা।’
মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সকালে ওই বৃদ্ধকে ভিক্ষা করতে দেখা যায় ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার চণ্ডীপাশা নতুন বাজার এলাকায়।
জানা যায়, ওই বৃদ্ধর বাড়ি ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার মাইজবাগ ইউনিয়নের দত্তগ্রাম এলাকায়। নাম তার হোসেন আলী। নিজের বয়স ১১০ বছর বলে দাবি করেন তিনি। দুই মেয়েকে বিয়ে দেওয়ার পরে স্ত্রীকে নিয়ে বসবাস করেন তিনি।
দীর্ঘদিন ধরে স্ত্রী নুরজাহান নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে শয্যাসায়ী। প্রয়োজনীয় ওষুধের অভাবে তার শারীরিক অবস্থা দিনকে দিন খারাপের দিকে যাচ্ছে। বয়সে নুব্জ বৃদ্ধ হোসেন আলীর চলাফেরা কষ্ট সাধ্য হলেও জীবন বাঁচার তাগিদে ভিক্ষা বৃত্তি করে আসছেন।
হোসেন আলী জানান, খাওয়ার পাশপাশি স্ত্রীর ওষুধপাতি জোগাড় করতে নিজের ভিক্ষার আয় ছাড়া বিকল্প কোনো পথ নেই। এবারের ঈদে কেউ তাদের খবর নেয়নি।
এর মধ্যে তার ভাতাটিও নাই। এমন এক অবস্থায় তিনি এখন ভিক্ষার আয়ের ওপর নির্ভরশীল। জীবন আর চলে না। সরা দিনে যা আয় হয় তা দিয়েই জীবন চলছে। এ অবস্থায় তার ভাতার ব্যবস্থাটি করে দেওয়ার জন্য জোর দাবি জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘একটু পুইত্য (শুয়ে) থাকতে ইচ্ছা অয়-কিন্তু বাঁচবাম কিবায়?’
ঈশ্বরগঞ্জ সমাজ সেবা কর্মকর্তা হাসান কিবরিয়া জানান, বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। ভাতার মেয়াদ শেষ হয় বলে কোনো কথা নেই। অচীরেই ওই বৃদ্ধর খোঁজ নিয়ে পুনরায় ভাতার ব্যবস্থা করে দেওয়া হবে।

logo-2-1757314069.png)
