Logo
×

জেলার খবর

মৌলভীবাজারে পর্যটকদের ঢল, লাউয়াছড়ায় তিন দিনে আয় ৫ লাখেরও বেশি

Icon

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৩ মার্চ ২০২৬, ২০:৪২

মৌলভীবাজারে পর্যটকদের ঢল, লাউয়াছড়ায় তিন দিনে আয় ৫ লাখেরও বেশি

ঈদকে সামনে রেখে ছুটির আমেজে সিলেট বিভাগের পর্যটন জেলা মৌলভীবাজারে দর্শনার্থীদের ব্যাপক ভিড় দেখা যাচ্ছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা পর্যটকদের পদচারণায় জেলার দর্শনীয় স্থানগুলোতে ফিরে এসেছে প্রাণচাঞ্চল্য। এতে বেড়েছে পর্যটন খাতের আয়ও।


বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, জেলার অন্যতম আকর্ষণ লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান-এ গত তিন দিনে রাজস্ব আয় হয়েছে ৫ লাখ ২৮ হাজার ৫০৯ টাকা। সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে এটি উল্লেখযোগ্য আয় হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রতিদিনই এই সংরক্ষিত বনাঞ্চলে ভিড় করছেন শত শত দর্শনার্থী।


কমলগঞ্জ  উপজেলার এ উদ্যানটি দেশের গুরুত্বপূর্ণ সংরক্ষিত বনভূমিগুলোর একটি। এখানে নানা প্রজাতির বন্য প্রাণী রয়েছে। বিশেষ করে হুলোক গিবনের জন্য এটি পরিচিত। প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছে স্থানটি বেশ জনপ্রিয়।


এ ছাড়া মাধবকুণ্ড  জলপ্রপাত-এও পর্যটকদের উপস্থিতি লক্ষণীয়।  এ জলপ্রপাত দেশের অন্যতম বৃহৎ প্রাকৃতিক জলধারা হিসেবে পরিচিত। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগে প্রতিদিনই এখানে ভিড় করছেন পর্যটকেরা।


অ্যাডভেঞ্চারপ্রেমীদের আকর্ষণের কেন্দ্র হামহাম জলপ্রপাত-এ যাতায়াতও বেড়েছে। দুর্গম পাহাড়ি পথ অতিক্রম করে সেখানে পৌঁছাতে হয়, যা ভ্রমণকে করে তোলে ভিন্নধর্মী অভিজ্ঞতা।


এদিকে শ্রীমঙ্গল চা বাগান এলাকায় বিস্তীর্ণ সবুজ চা-বাগান পর্যটকদের টানছে। ‘চায়ের রাজধানী’ হিসেবে পরিচিত এই অঞ্চলে ছবি তোলা ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগে ভিড় বাড়ছে।


মাধবপুর এলাকায় অবস্থিত বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান স্মৃতিসৌধ-এও দর্শনার্থীদের উপস্থিতি রয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত এ স্থানটি দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করে বলে জানান দর্শনার্থীরা।


এ ছাড়া জেলার অন্যান্য দর্শনীয় স্থানের মধ্যে রয়েছে মাধবপুর লেক, হাইল হাওর, সাতগাঁও চা বাগান, বাউল শাহ মাজার, নীলকণ্ঠ টি কেবিন (সাত রঙা চায়ের জন্য পরিচিত) এবং কুলাউড়ার আমানীপুর পার্ক। এসব স্থানেও পর্যটকদের ভিড় চোখে পড়ছে।


জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, পর্যটকদের নিরাপত্তা ও সেবার মান নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছেন।


স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পর্যটন-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন,পর্যটকদের উপচেপড়া ভিড়ে তীব্র যানজট তৈরী হয়েছে পুরো জেলার গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে,তবে পর্যটকের এ ধারা অব্যাহত থাকলে জেলার অর্থনীতি আরও গতিশীল হবে এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে।