কুড়িগ্রামে পুলিশকে অবরুদ্ধ করে ‘মব’ সৃষ্টি, ভিডিও ভাইরাল
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ মার্চ ২০২৬, ০৩:১৭
কুড়িগ্রামের
উলিপুরে হামলা মামলার আসামি ধরতে যাওয়ায় পুলিশকে
অবরুদ্ধ করে ‘মব’ সৃষ্টির
অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার একটি
ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। রোববার ( ১৫ মার্চ) উপজেলার
দুর্গাপুর ইউনিয়নের গোড়াই রঘুরায় ঝাকুয়াপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে।
১
মিনিট ১০ সেকেন্ডের ভিডিওতে
দেখা যায়, ওসি সাঈদ
ইবনে সিদ্দিকের নেতৃত্বে পুলিশ ওই এলাকায় গেলে
তাদের অবরুদ্ধ করে রেখে মব
সৃষ্টি করা হয়। এ
সময় একদল নারী-পুরুষ
পুলিশের ওপর চড়াও হয়ে
হট্টগোল শুরু করেন। পরে
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পুলিশ
ঘটনাস্থল থেকে ফিরে আসে।
অভিযোগ
সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার
দুর্গাপুর ইউনিয়নের গোড়াই রঘুরায় ঝাকুয়াপাড়া এলাকার মাহাবুবার রহমানের (৪৫) সাথে প্রতিবেশী
বীর মুক্তিযোদ্ধা আজিজ সরকারের (৭০)
দীর্ঘদিন থেকে জমিজমাসহ বিভিন্ন
বিষয় নিয়ে বিরোধ চলে
আসছিল। বিরোধের কারণে একাধিক মামলা আদালতে চলমান রয়েছে।
অপরদিকে
১০ মার্চ মাহাবুবার রহমান ও তার ভাই
মিজানুর রহমানের (৩০) নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধার
বাড়িতে গিয়ে হামলা ও
ভাঙচুর চালানো হয়। এ সময়
আসামিরা বাড়িতে মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী সামছুন্নাহার বেগম, মেয়ে আফ্রিদা আজিজ
সাথীকে মারধর ও শ্লীলতাহানি করে
এবং বসতঘরে থাকা আসবাব ভেঙে
টাকা চুরি করে।
এ
ঘটনায় মুক্তিযোদ্ধার পুত্রবধূ হাজেরা খাতুন বাদী হয়ে থানায়
একটি অভিযোগ দেন। এরপর থানা-পুলিশ তদন্তে ঘটনার সত্যতা পেলে রোববার মামলা
গ্রহণ করা হয়।
বাদী
হাজেরা খাতুন বলেন, মাহাবুবার রহমান ও তার লোকজনের
বিরুদ্ধে আদালতে চলমান মামলা তুলে নেওয়ার জন্য
হুমকি-ধমকি দিয়ে আসছে।
আমার শ্বশুর স্ট্রোকের রোগী হওয়ায় চলাফেরা
করতে পারেন না। এছাড়া স্বামী
চাকরির সুবাদে বাইরে থাকায় বাড়িতে কোনো পুরুষ মানুষ
থাকে না। এ সুযোগে
তারা বাড়িতে থাকা মহিলাদের সব
সময় ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে
আসছে। হামলার ঘটনায় মাহাবুবার রহমানসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করি।
বিষয়টি
জানতে অভিযুক্ত মাহাবুবার রহমান মোবাইল ফোনে তার বাড়িতে
পুলিশ আসার কথা স্বীকার
করে বলেন, মুক্তিযোদ্ধার বাড়িতে কোনো ঘটনা ঘটেনি।
আমরা কারও বাড়িতে আক্রমণ
করিনি। পুলিশ কোনো তদন্ত ছাড়াই
মিথ্যা মামলা নিয়েছে। পরপর দুবার পুলিশ
এসেছিল। পুলিশ মামলার কোনো কাগজপত্র দেখাতে
পারেনি। তারা আইনজীবীর মাধ্যমে
মামলার তথ্যর ব্যাপারে থানায় ডাকে।
পুলিশকে
অবরুদ্ধ করে মব সৃষ্টির
বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, মামলা
মিথ্যা হওয়ায় প্রতিবেশীরা জড়ো হয়ে প্রতিবাদ
করেছে।
এ
বিষয়ে উলিপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত
কর্মকর্তা (ওসি) সাঈদ ইবনে
সিদ্দিক বলেন, মুক্তিযোদ্ধার বাড়িতে হামলায় তার পুত্রবধূ ১১
মার্চ থানায় অভিযোগ করেন। এরপর বিষয়টি তদন্ত
করে ঘটনার সত্যতা পাওয়া যায়। এ ঘটনায়
রোববার থানায় মামলা হয়। পরবর্তীকালে পুলিশ
অভিযানে গেলে আসামিরা নারী
ও ভাড়াটিয়া লোক দিয়ে এলাকায়
মব সৃষ্টি করে। একপর্যায়ে পুলিশ
সেখান থেকে চলে আসে।
পরে আমি আজ রোববার
সকাল ১০টায় ঘটনাস্থলে গেলে তারা পুনরায়
মব সৃষ্টি করে আমাকেও অবরুদ্ধ
করে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে।

logo-2-1757314069.png)
