বরিশালে রাতের আতঙ্ক দলবদ্ধ বেওয়ারিশ কুকুর
মো. ফিরোজ গাজী, বরিশাল প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১১ মার্চ ২০২৬, ১৮:৩৩
বরিশাল নগরীতে রাত নামলেই বেওয়ারিশ কুকুরের উপদ্রব ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। নগরীর প্রধান সড়ক থেকে শুরু করে বিভিন্ন অলি-গলিতে দলবদ্ধ কুকুরের বিচরণে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন নগরবাসী। বিশেষ করে রাতের বেলায় পথচারী, মোটরসাইকেল চালক, অটোরিকশা ও রিকশা চালকদের চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
নগরবাসী জানান, সন্ধ্যার পর থেকেই নগরীর বিভিন্ন এলাকায় বেওয়ারিশ কুকুরের সংখ্যা বাড়তে থাকে। রাত গভীর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ৮ থেকে ১৫টি কুকুরের দল একত্র হয়ে বিভিন্ন সড়কে অবস্থান নেয়। কোনো মোটরসাইকেল, অটোরিকশা, রিকশা কিংবা পথচারী দেখলেই তারা ঘেউ ঘেউ করতে করতে তাড়া করে। এতে অনেক সময় চালকরা আতঙ্কে যানবাহনের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন এবং দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়।
নগরীর আমতলা, সদর রোড, বগুড়া রোড, বাংলা বাজার, কালীবাড়ী রোড, ফকিরবাড়ী রোড, গোরস্তান রোড, কলেজ রোড, কলেজ এভিনিউ ও নবগ্রাম রোডসহ বিভিন্ন এলাকায় রাতের বেলায় কুকুরের দলবদ্ধ উপস্থিতি বেশি দেখা যায় বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। এসব এলাকায় প্রায়ই গভীর রাতে কুকুরের ঘেউ ঘেউ শব্দে নগরবাসীর ঘুমও ব্যাহত হচ্ছে।
নগরীর কাঠপট্টি এলাকার বাসিন্দা মো. রাকিব হোসেন বলেন, রাতে বাসা থেকে বের হওয়াটা এখন অনেকটা ভয়ের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কয়েকটি কুকুর একসঙ্গে ঘিরে ধরে ঘেউ ঘেউ করতে থাকে এবং তাড়া দেয়। অনেক সময় মোটরসাইকেল নিয়ে যাওয়ার সময় হঠাৎ সামনে এসে পড়ে। এতে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা থাকে।
নাজির মহল্লা এলাকার বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম বলেন, রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কুকুরের দলও বড় হয়। তারা দলবদ্ধ হয়ে সড়কে অবস্থান নেয় এবং পথচারী দেখলেই তাড়া করে। বিশেষ করে শিশু, নারী ও বৃদ্ধদের জন্য এটি বড় ধরনের আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
কাউনিয়া এলাকার বাসিন্দা মো. মাহফুজুর রহমান বলেন, নগরীর বিভিন্ন স্থানে যেখানে-সেখানে ময়লা-আবর্জনা ফেলে রাখার কারণে সেখানে খাবারের সন্ধানে কুকুর জড়ো হয়। পরে তারা দলবদ্ধ হয়ে আশপাশের এলাকায় ঘোরাফেরা করে এবং পথচারীদের তাড়া করে। এতে করে রাতের বেলায় নগরবাসী আতঙ্কের মধ্যে থাকেন।
এ বিষয়ে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, বেওয়ারিশ কুকুরের কামড়ে জলাতঙ্কের ঝুঁকি থাকে, যা অত্যন্ত মারাত্মক একটি রোগ। সময়মতো চিকিৎসা না নিলে এটি প্রাণঘাতী হতে পারে। তাই কুকুরের কামড় বা আঁচড় লাগলে দ্রুত ক্ষতস্থান সাবান ও পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুয়ে নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে গিয়ে টিকা নিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, কুকুরের উপদ্রব বাড়লে দুর্ঘটনা এবং কামড়ের ঘটনাও বেড়ে যেতে পারে। তাই জননিরাপত্তার স্বার্থে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
নগরবাসীর অভিযোগ, বেওয়ারিশ কুকুর নিয়ন্ত্রণে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ চোখে পড়ছে না। দীর্ঘদিন ধরে সমস্যাটি থাকলেও স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় দিন দিন পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে। তাই দ্রুত এই সমস্যা সমাধানে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসনিক কর্মকর্তা স্বপন কুমার বলেন, নগরীতে বেওয়ারিশ কুকুরের বিষয়টি আমাদের নজরে রয়েছে। কুকুর নিয়ন্ত্রণে সিটি কর্পোরেশন প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার পরিকল্পনা করছে। কুকুরগুলোর টিকাদান এবং জন্মনিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম পর্যায়ক্রমে পরিচালনা করা হবে।
তিনি আরও বলেন, নগরবাসীকেও এ বিষয়ে সচেতন হতে হবে। যেখানে-সেখানে ময়লা ফেলে রাখলে সেখানে কুকুরসহ বিভিন্ন প্রাণী জড়ো হয়। তাই নির্দিষ্ট স্থানে ময়লা ফেলার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। সবার সম্মিলিত উদ্যোগেই এ সমস্যার সমাধান সম্ভব।
সচেতন মহলের মতে, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে ভবিষ্যতে বেওয়ারিশ কুকুরের উপদ্রব আরও বাড়তে পারে। এতে পথচারী ও যানবাহন চালকদের ঝুঁকি বাড়বে। তাই নগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

logo-2-1757314069.png)
