পটুয়াখালী কারাগারে সাবেক ছাত্রলীগ নেতার মৃত্যু
মো: ফিরোজ গাজী, বরিশাল প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৮:৪১
পটুয়াখালী জেলা কারাগারে বন্দী অবস্থায় সাবেক এক ছাত্রলীগ নেতার মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয়।
নিহত শফিকুল ইসলাম খান (৩৮) দুমকী উপজেলার শ্রীরামপুর গ্রামের মৃত হাবিবুর রহমান খানের ছেলে। তিনি ২০১৮ সালে দুমকী উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন। বর্তমানে ছাত্রলীগকে সরকার নিষিদ্ধ ঘোষণা করলেও তিনি সাবেক নেতা হিসেবে এলাকায় পরিচিত ছিলেন।
কারাগার ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার বিকেলে কারাগারে থাকা অবস্থায় শফিকুল হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাৎক্ষণিকভাবে তাঁকে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে বিকেল ৫টার দিকে চিকিৎসকেরা তাঁকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরের (রেফার্ড) পরামর্শ দেন। তবে বরিশালে পৌঁছানোর আগেই পথে তাঁর মৃত্যু হয়।
পটুয়াখালী কারাগারের জেলার আব্দুর রব মিয়া বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, অসুস্থতাজনিত কারণে উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠানোর পথেই ওই বন্দীর মৃত্যু হয়েছে। বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মুহাম্মদ মঞ্জুর হোসেন জানিয়েছেন, আজ শনিবার আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
এদিকে শফিকুলের মৃত্যুতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তাঁর ছোট ভাই জাহিদুল ইসলাম। তিনি দাবি করেন, শফিকুলকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে একের পর এক মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে কারাগারে রাখা হয়েছিল। জাহিদুল বলেন, “আমার ভাই কোনো মামলারই এজাহারভুক্ত আসামি ছিলেন না। একটি মামলায় জামিন পেলে তাঁকে আরেকটি রাজনৈতিক মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হতো।
এই মানসিক ও শারীরিক চাপ সইতে না পেরেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে।” আদালত ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ১১ আগস্ট ‘ডেভিল হান্ট’ অভিযানের সময় দুমকী থানা পুলিশ শফিকুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে।
ওই মামলায় উচ্চ আদালত থেকে জামিন পাওয়ার পর তাঁকে জেলা বিএনপির কার্যালয় ভাঙচুর ও আরেকটি রাজনৈতিক মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে পুনরায় কারাগারে পাঠানো হয়। পরিবারের দাবি, কোনো ঘটনাতেই তিনি সরাসরি জড়িত ছিলেন না।

logo-2-1757314069.png)
