চাঁদা না দেওয়ায় সেচ পাম্পের সংযোগ বিচ্ছিন্ন
হুমকিতে শতাধিক বিঘা জমির বোরো আবাদ
শাওন মোল্লা, জামালপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৭:১৭
জামালপুরের মেলান্দহে চাঁদা না দেওয়ায় তিনটি সেচ পাম্পের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কয়েকজনের বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা।
এর আগে গত সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) উপজেলার ৫নং চর এলাকায় রাত আনুমানিক ৯টার দিকে তারাবির নামাজ চলাকালে অগোচরে তিনটি সেচ পাম্পের বিদ্যুৎ লাইনের তার কেটে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়। অভিযুক্তরা হলেন , ওই এলাকার আব্দুল হাইয়ের ছেলে বেনজির (২৭) মৃত ফকিরের ছেলে ফজলু, ঘরি মিয়ার ছেলে জিয়াউল হক, আসাদুল রিপনসহ আরও কয়েকজন। এদিকে সেচ পাম্পের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করায় তিন সেচ পাম্প মালিকসহ কয়েকজন কৃষকের অন্তত দেড় শতাধিক বিঘা জমির বোরো আবাদ পানির অভাবে ফাটল ধরেছে। এতে হুমকির মুখে পড়েছে ফসলি আবাদ।
ভুক্তভোগীরা জানান, তারা প্রায় তিন বছর ধরে সরকারি নিয়মে বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়ে সেচ কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিলেন। তবে কয়েকদিন আগে অভিযুক্তরা সেচ পাম্প চালু রাখতে পাম্প প্রতি ৫০ হাজার টাকা করে দেড় লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় তাদের অগোচরে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছে বলে অভিযোগ তাদের। এছাড়া বিদ্যুৎ সংযোগের বিষয়ে জানতে গেলে লিটন নামের এক কৃষককে মারধরও করেন অভিযুক্তরা। সেচ পাম্প মালিক কৃষক আব্দুর রাজ্জাক বলেন, তার নিজের প্রায় ২০ বিঘা জমিসহ পাম্পের আওতায় থাকা প্রায় ৫০ বিঘা জমিতে বর্তমানে সেচ কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। পানির অভাবে জমিতে ফাটল দেখা দিয়েছে এবং ধানক্ষেত শুকিয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।
পাশ্ববর্তী কৃষক বাবুল হাসান বলেন, বোরো ধান রোপণের জন্য জমি প্রস্তুত করে রেখেছিলেন তিনি। কিন্তু পানি না থাকায় এখন চারা রোপণ করতে পারছেন না। এতে বীজ নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি বড় ধরনের লোকসানের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। একই পরিস্থিতিতে রয়েছেন কৃষক আসাবউদ্দিনসহ আরও অনেকে।
এ ব্যাপারে জামালপুর (পিডিবি) বিদ্যুৎ অফিসের এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার মাহবুব আজাদ রুবেল জানান, বৈধ গ্রাহকের সংযোগ অন্য কেও বিচ্ছিন্ন করতে পারে না। আইনের দৃষ্টিতে এটি অপরাধ। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।
বেনজির নামে আরেক অভিযুক্ত বলেন, আমদের এলাকায় বিদ্যুৎতের ভোল্টেজ কম। এখানকার সেচ পাম্পই চলেনা তাই এলাকাবাসী মিলে লাইন কেটে দিয়েছি। এসব নিয়ে মারামারি কিছুই হয়নি৷ এ বিষয়ে মেলান্দহ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ওবায়দুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় ভুক্তভোগী কৃষকরা থানায় লিখিত দেওয়ার পর ঘটনাস্থলে ফোর্স পাঠিয়েছি। বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ঘটনায় অভিযুক্ত ফজলুল সেচ পাম্পের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার বিষয়টি স্বীকার করলেও চাঁদা দাবি ও মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করেন।

logo-2-1757314069.png)
