বরিশালে গাছে গাছে দুলছে আমের মুকুল, সৌরভে ভরে উঠছে প্রকৃতি
মো. ফিরোজ গাজী, বরিশাল প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৯:৩৭
বিদায়ের পথে শীত, আর তারই ফাঁকে আগাম বসন্তের বার্তা নিয়ে বরিশালের বিভিন্ন এলাকায় গাছে গাছে ফুটতে শুরু করেছে আমের মুকুল। মাঘের শেষ ভাগেই ব্যক্তি উদ্যোগে লাগানো আমগাছ ও বাগানজুড়ে দেখা মিলছে সোনালি-হলুদ রঙের মুকুলের। বসন্তের অন্যান্য ফুলের সঙ্গে আমের মুকুলের ঘ্রাণে মৌ মৌ করছে চারপাশের পরিবেশ।
বরিশাল নগরীর বিভিন্ন সড়ক, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রাঙ্গণ ও আবাসিক এলাকার আঙিনায় এখন আমের মুকুলের সমারোহ। বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছে মুকুলের মিষ্টি সুবাস। গাছে গাছে মৌমাছির গুনগুন শব্দ আর ছোট পাখির আনাগোনায় প্রকৃতিতে যোগ হয়েছে বাড়তি প্রাণচাঞ্চল্য। প্রকৃতির এই রূপ স্থানীয়দের মন কাড়ছে, অনেকেই থেমে উপভোগ করছেন ঋতু পরিবর্তনের এই দৃশ্য।
সরেজমিনে দেখা গেছে, নগরীর বগুড়া রোড, সার্কিট হাউস এলাকা, প্রেসক্লাব মাঠ, অক্সফোর্ড মিশন স্কুল সংলগ্ন সড়ক ও ব্রাউন কম্পাউন্ড এলাকাসহ বিভিন্ন ওয়ার্ডের বাড়ির আঙিনা ও পুকুরপাড়ের আমগাছে ইতোমধ্যে মুকুল ধরেছে। অনেকে বলছেন, এ বছর তুলনামূলক আগেই মুকুল এসেছে, যা ভালো ফলনের সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
কৃষিবিদরা বলছেন, এ সময়টি আমগাছের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মুকুল আসার পর সঠিক পরিচর্যা না হলে পোকামাকড়ের আক্রমণে ফলন ব্যাহত হতে পারে। এ বিষয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের পক্ষ থেকে পরামর্শ হিসেবে বলা হয়েছে, গাছে মুকুল আসার ১৫ থেকে ২০ দিন আগে পুরো গাছে অনুমোদিত কীটনাশক ও প্রতিরোধমূলক স্প্রে প্রয়োগ করলে হপার ও শোষকজাতীয় পোকার আক্রমণ কমানো সম্ভব। সময়মতো দমন ব্যবস্থা না নিলে মুকুল ঝরে যাওয়া এবং ফলন কমে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। প্রকৃতির এই মৌসুমি পরিবর্তনকে ঘিরে এখনই মধুমাসের আগমনী বার্তা অনুভব করছেন।

logo-2-1757314069.png)
