Logo
×

জেলার খবর

সরকারি কলেজ ফাঁকি দিয়ে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস, ডাক্তারদের উদাহরণ টানলেন ইমরান

Icon

শাওন মোল্লা, জামালপুর প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২৩:২৬

সরকারি কলেজ ফাঁকি দিয়ে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস, ডাক্তারদের উদাহরণ টানলেন ইমরান

জামালপুরের সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজের বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. ইমরান হোসেনের বিরুদ্ধে নিজ প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালনে গাফিলতি করে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠদানের অভিযোগ উঠেছে। তবে অভিযোগের জবাবে তিনি বিষয়টিকে স্বাভাবিক বলে দাবি করেছেন এবং ডাক্তারদের উদাহরণ টেনে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, কলেজের নির্ধারিত কর্মঘণ্টার মধ্যেই তিনি শহরের ফৌজদারি মোড়ে অবস্থিত ব্রহ্মপুত্র ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে সপ্তাহে তিনদিন ক্লাস নেন। রবিবার সকাল ৯টা থেকে ১০টা এবং সোমবার ও বুধবার বেলা ১২টা থেকে ১টা পর্যন্ত আইন বিভাগের শিক্ষার্থীদের বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিষয়ে পাঠদান করেন। এতে সরকারি কলেজের শিক্ষার্থীরা নিয়মিত ক্লাস থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এমন অভিযোগ উঠেছে।

কলেজের একাধিক শিক্ষার্থী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, নির্ধারিত সময়ে শিক্ষককে না পাওয়ায় তাদের পাঠক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এক শিক্ষার্থী বলেন, আমরা নিয়মিত ক্লাসের আশায় ভর্তি হয়েছি। কিন্তু শিক্ষক যদি বাইরে ব্যস্ত থাকেন, তাহলে আমাদের ক্ষতি হয়।

সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা, ১৯৭৯ অনুযায়ী পূর্বানুমতি ছাড়া কোনো সরকারি কর্মকর্তা বা কর্মচারী লাভজনক কাজে যুক্ত হতে পারেন না। এ ক্ষেত্রে কোনো আনুষ্ঠানিক অনুমতি নেওয়া হয়েছে কি না—তা স্পষ্ট নয় বলে কলেজ সূত্রে জানা গেছে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সহকারী অধ্যাপক ইমরান হোসেন বলেন, ডাক্তাররা যেমন হাসপাতালের বাইরে রোগী দেখেন, তেমনি প্রয়োজন অনুযায়ী বাইরে ক্লাস নেওয়া হয়। বিধিমালায় শর্ত আছে।

তার এমন বক্তব্যে দায়িত্ববোধ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে শিক্ষাঙ্গনে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকারি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের স্বার্থ উপেক্ষিত হলে তা গুরুতর বিষয়।

ব্রহ্মপুত্র ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ট্রেজারার জাওয়াদুল হক বলেন, তিনি আমাদের স্থায়ী শিক্ষক নন। নির্দিষ্ট কয়েকটি ক্লাস নেন এবং সম্মানী পান।

এ বিষয়ে আশেক মাহমুদ কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. শওকত আলম মীর জানান, আগের অধ্যক্ষ কোনো অনুমতি দিয়েছেন কি না জানা নেই। কলেজ খুললে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অভিযোগের সত্যতা যাচাই ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় এখন কলেজের শিক্ষার্থীরা।