জামালপুরে অর্ধেকের বেশি ভোটকেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ
শাওন মোল্লা, জামালপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৬:৫৩
আসন্ন সংসদ নির্বাচনে জামালপুর জেলায় ভোটের প্রস্তুতির পাশাপাশি চলছে প্রার্থীদের শেষ সময়ের প্রচার-প্রচারণা। এরই মধ্যে রিটার্নিং কর্মকর্তা, সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা, বিভিন্ন বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যের ভিত্তিতে বিভিন্ন কেন্দ্রের পরিবেশ বিবেচনা করে ঝুঁকিপূর্ণ, অধিক ঝুঁকিপূর্ণ ও সাধারন কেন্দ্র চিহ্নিত করা হয়েছে।
জামালপুর জেলার ৭টি উপজেলা, ৮টি পৌরসভা ও ৬৮টি ইউনিয়নে মোট ভোটকেন্দ্র রয়েছে ৬২৩টি। এর মধ্যে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ ১২২টি, ঝুঁকিপূর্ণ ২১২টি এবং সাধারণ কেন্দ্র ২৮৯টি। সব মিলিয়ে জেলার ৫৩.৬ শতাংশ ভোটকেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
ভোটকেন্দ্রের সংখ্যার দিক থেকে এগিয়ে রয়েছে জামালপুর সদর-৫ আসন। এই আসনে মোট ভোটকেন্দ্র ১৬১টি, যার মধ্যে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ ৫৫টি এবং ঝুঁকিপূর্ণ ৭৫টি। অপরদিকে সবচেয়ে কম ভোটকেন্দ্র রয়েছে জামালপুর-৪ (সরিষাবাড়ী), যেখানে মোট কেন্দ্র ৮৮টি। ঝুঁকির দিক থেকেও এগিয়ে জামালপুর সদর আসন।
ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের সংখ্যা নিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রার্থীদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ উঠেছে। রাজনৈতিক নেতাদের দাবি, ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ অংশ না নিলেও দলটির নেতা-কর্মীদের অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার না হওয়ায় নিরাপত্তা শঙ্কাও তৈরি হয়েছে, যার ফলে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে।
জামালপুর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও বিএনপির প্রার্থী (জামালপুর-৫) ওয়ারেছ আলী মামুন বলেন-'আমরা সবসময় একটি কথা বলে থাকি। জামায়াতে ইসলাম একসময় গুপ্ত রাজনীতি করেছে। তাদের যদি গুপ্ত কোনো পরিকল্পনা থাকে। সেক্ষেত্রে নির্বাচনে শঙ্কিত বা শঙ্কা থাকতে পারে। তাই ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের সংখ্যা বেশি।'
অন্যদিকে জামালপুর জেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি ও সরিষাবাড়ী-৪ আসনের প্রার্থী মো. আব্দুল আওয়াল বলেন-' নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ হলে বিএনপির পরাজয় যে নিশ্চিত এটা তারা নিজেরা উপলব্ধি করতে পারছে। কাজেই এই পরাজয়ের ঘ্লানি সহ্য করার মতো ধৈর্য শক্তি তাদের মধ্যে নাই। তার কারনে অতীতে যারা একই কাজ করেছেন ফ্যাসিবাদী কায়দায়। ওই একই কাজ আমাদের বন্ধু প্রতিম সংগঠন করার চেষ্টা করছে একই কায়দায়। এটি খুবই বেদনাদায়ক ও দুঃখজনক। তাই ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের সংখ্যা বেশি।'
নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্নের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহনের কথা জানিয়ে জেলা পুলিশ সুপার ড. চৌধুরী মো. যাবের সাদেক বলেন-'
এবার একটা জিনিস ভেরি লাওড এন্ড ক্লিয়ার। এবার যে অস্ত্রবাজি করা, কেন্দ্র দখল করা। এগুলো আমাদের ভুলে যেতে হবে। একদম সুজা হিসাব এ ধরনের কেও যদি চিন্তা ভাবনা করে। এটা তার বাজে চিন্তা এটা দূর স্বপ্ন। আমরা এই চ্যালেঞ্জ নিতে প্রস্তুত আছি।'
জামালপুর জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মো. ইউসুফ আলী জানান- 'কেন্দ্রভিত্তিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করে ভোটাররা যেন নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারেন, সে কার্যক্রম ইতোমধ্যেই আমরা শুরু করেছি। মাঠে পর্যাপ্ত পরিমানে সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ, ব্যাটিলিয়ান, আনসারসহ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটগন উপস্থিত থাকবেন। আমরা মনে করি এর মাধ্যমে জামালপুর সুষ্ঠ সুন্দর নির্বাচন হবে।'
জামালপুরে বিএনপি, জামায়াত, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও স্বতন্ত্রসহ কয়েকটি দলের ৩১ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দিতা করছেন। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি এই প্রার্থীদের ভোট দিবেন ২১ লাখ ১২ হাজার ১৮৭ জন ভোটার।

logo-2-1757314069.png)
