নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের দাবিতে সিলেটে কর্মচারীদের দ্বিতীয় দিনের বিক্ষোভ
গোলাম হাফিজ সুফিয়ান, সিলেট প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২২:৫৭
বৈষম্যমুক্ত নবম পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ ও বাস্তবায়নের দাবিতে সিলেট বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের কর্মচারীরা টানা আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) দ্বিতীয় দিনের মতো তারা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের সামনে দুই ঘণ্টার অবস্থান ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন। সকাল ৯টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত এ কর্মসূচি চলে। এর আগে রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি) একই কর্মসূচি পালন করা হয়। আন্দোলনকারীরা জানান, মঙ্গলবারও একই কর্মসূচি পালন করা হবে।
বিক্ষোভকারী কর্মচারীরা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে শান্তিপূর্ণভাবে পে-স্কেল বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে আসছেন তারা। কর্মচারীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে অন্তর্বর্তী সরকার একটি পে কমিশন গঠন করে, যা ইতোমধ্যে প্রধান উপদেষ্টার কাছে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। তবে সম্প্রতি এক উপদেষ্টার ‘অন্তর্বর্তী সরকার পে-স্কেল বাস্তবায়ন করবে না’ মন্তব্যে কর্মচারীদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা তৈরি হয়েছে।
তারা আরও বলেন, বর্তমানে ১১ থেকে ২০ গ্রেডের একজন সরকারি কর্মচারীর বেতনে পরিবারের মৌলিক চাহিদা পূরণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। শিক্ষা, চিকিৎসা, বাসাভাড়া ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের খরচ বেড়েছে, কিন্তু বেতন সেই অনুপাতে বাড়েনি। গত ১০ বছর ধরে নতুন পে-স্কেলের অপেক্ষায় থাকলেও ন্যূনতম ও সম্মানজনক বেতন-ভাতা না পাওয়ায় বাধ্য হয়ে তারা আন্দোলনে নেমেছেন বলে জানান।
মো. মুর্তজ আলীর সভাপতিত্বে ও দিলীপ কুমার রায়ের সঞ্চালনায় অবস্থান ও বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য দেন মো. জয়নাল আবেদীন, সুযোগ চন্দ্র চন্দ, শহীদুল ইসলাম, মুনতাসির মামুন, মনির হোসেন, স্বপন মজুমদার, মো. নূরুজ জামান, আবুল বাশার, মো. মুছাব্বির আলী, মো. অলি মিয়া, মো. নাহিদ ও শরিফা আক্তার।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী দাবি আদায় ঐক্য পরিষদের কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে ১ থেকে ৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রতিদিন দুই ঘণ্টা করে নিজ নিজ দপ্তরে অবস্থান ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। দাবি আদায় না হলে আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে মহাসমাবেশ এবং প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনা অভিমুখে ভুখা মিছিল করার ঘোষণা দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।

logo-2-1757314069.png)
