রেমিট্যান্সে ১৮ বছর শীর্ষে ইসলামী ব্যাংক
সংবাদ বিজ্ঞপ্তি
প্রকাশ: ১১ জানুয়ারি ২০২৬, ০৯:৪৫
চ্যালেঞ্জকে সম্ভাবনায় রূপান্তর করে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি ২০২৫ সালে দেশের ব্যাংকিং খাতে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত ব্যাংকের মোট আমানতের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৮৩ হাজার কোটি টাকা, যা এক বছরে বেড়েছে ২২ হাজার কোটি টাকা।
শনিবার (১০ জানুয়ারি) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে শুরু হওয়া ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি-এর দুই দিনব্যাপী ব্যবসায় উন্নয়ন সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়। সম্মেলনে জানানো হয়, ইসলামী ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে সংগৃহীত আমানত বর্তমানে ২২ হাজার কোটি টাকা, যা গত বছরের তুলনায় ৫ হাজার কোটি টাকা বেশি। প্রবাসীদের আস্থা ও ভালোবাসায় রেমিট্যান্স আহরণে ব্যাংকটি টানা ১৮ বছর ধরে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে। গত এক বছরে ইসলামী ব্যাংকের মাধ্যমে রেমিট্যান্স এসেছে ৭৬ হাজার কোটি টাকা।
২০২৫ সালে ইসলামী ব্যাংকের মাধ্যমে আমদানি ও রফতানি বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল যথাক্রমে ৫৯ হাজার ৬১৪ কোটি টাকা এবং ৩১ হাজার ৫০৪ কোটি টাকা। বর্তমানে ব্যাংকের মোট গ্রাহকসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩ কোটিতে, যা এক বছরে বেড়েছে ৫০ লাখ। সারা দেশে ৪০০টি শাখা, ২৭১টি উপশাখা, ২ হাজার ৭৮৮টি এজেন্ট আউটলেট এবং ৩ হাজার ৪০টি এটিএম ও সিআরএম বুথের মাধ্যমে ব্যাংকটি গ্রাহকদের সেবা দিচ্ছে। সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্যাংকের বোর্ড অব ডাইরেক্টরসের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. এম. জুবায়দুর রহমান। তিনি বলেন, ইসলামী ব্যাংক দেশের সবচেয়ে বড় ব্যাংক এবং এর ওপর দেশের অর্থনীতি অনেকাংশে নির্ভরশীল।এ ব্যাংকের ক্ষতি হলে দেশের অর্থনীতিও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। ইসলামী ব্যাংককে পূর্বের অবস্থানে ফিরিয়ে আনতে সবাইকে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাতে হবে। তিনি আরও বলেন, নতুন বাংলাদেশে ইসলামী ব্যাংক ঘুরে দাঁড়িয়েছে এবং এটিকে আরও এগিয়ে নিতে নতুন ভাবনা ও সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস ধরে রাখতে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইসলামী ব্যাংকের ম্যানেজিং ডাইরেক্টর মো. ওমর ফারুক খাঁন। তিনি বলেন, দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ইসলামী ব্যাংকের অবদান অবিস্মরণীয়। জুলাই বিপ্লব-পরবর্তী পরিবর্তিত ব্যাংকিং বাস্তবতায় গ্রাহকদের আস্থা ফিরে এসেছে। নানা চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করে ২০২৫ সালে ইসলামী ব্যাংক দেশের ব্যাংকিং খাতে সর্বোচ্চ ডিপোজিট সংগ্রহ এবং সর্বাধিক রেমিট্যান্স আহরণ করে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
তিনি আরও বলেন, একটি শক্তিশালী, শরিয়াহসম্মত, প্রযুক্তিনির্ভর ও পরিপালনভিত্তিক আধুনিক ইসলামী ব্যাংক গড়ে তুলতে কাজ করছে ব্যাংকটি। ‘ইনোভেশন অ্যান্ড ডিজিটাইজেশন ড্রাইভিং ট্রান্সফরমেশন’ স্লোগানকে সামনে রেখে ব্যাংকের সব সেবায় প্রযুক্তির সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ব্যাংকের এক্সিকিউটিভ কমিটির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ খুরশীদ ওয়াহাব, অডিট কমিটির চেয়ারম্যান মো. আবদুস সালাম, এফসিএ, এফসিএস, রিস্ক ম্যানেজমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. এম মাসুদ রহমান এবং স্বতন্ত্র পরিচালক মো. আবদুল জলিল। এছাড়া বক্তব্য দেন অ্যাডিশনাল ম্যানেজিং ডাইরেক্টর মো. আলতাফ হুসাইন, ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন মজুমদার ও ড. এম কামাল উদ্দীন জসিম। সম্মেলনে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন নির্বাহী, ১৬টি জোনের জোনপ্রধান এবং দেশের ৪০০টি শাখার ব্যবস্থাপকরা অংশ নেন।

logo-2-1757314069.png)
