ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) পরিবেশবাদী সংগঠন অভয়ারণ্যের উদ্যোগে দুই দিনব্যাপী ‘বাংলাদেশী উৎসব-১৪৩৩’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (৫ মে) বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলা প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ উৎসব বুধবার (৬ মে) নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে সমাপ্ত হয়। শেষ দিনেও দর্শনার্থীদের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।
বাঙালির ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতি এবং দেশের ৬৪টি জেলার সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য একযোগে শিক্ষার্থীদের মাঝে তুলে ধরার লক্ষ্যে আয়োজিত উৎসবে বিশ্ববিদ্যালয়ের জেলা ছাত্রকল্যাণ সংগঠনগুলো অংশগ্রহণ করেন। রসমালাই ও ইলিশের বাড়ি, চমচমের দেশ রাজবাড়ী, হামাকে নওগাঁ, ম-এ ময়মনসিংহ, ম-এ মন্ডা, বনলতার বাড়ী, ভৈরব তীরের মিষ্টিমুখ, গৌড়ের রসনা, পাবনার জামাই আদর, নীলচাষী, ভাওয়াইয়া সুরে, চরের স্বাদে ও ঐতিহ্যের কুড়িগ্রাম, ঢাকাইয়া হাট, যমুনা, সুন্দরবন, লোকসংস্কৃতির নেত্রকোণা, সুগন্ধা এক্সপ্রেস, বগুড়ার দইঘরসহ বিভিন্ন নামের ৩৩টি স্টলে শিক্ষার্থীরা তাদের জেলার বিখ্যাত পণ্যগুলো তুলে ধরেন। পাশাপাশি রম্য বিতর্ক, আবৃত্তি ও পালাগানের আসর, লোকসংগীত, পাহাড়ি সংগীত ও নৃত্য পরিবেশনাসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক আয়োজন করা হয়। এছাড়া দর্শনার্থীদের বিনোদনের জন্য নাগরদোলাসহ অন্যান্য আয়োজনও ছিল।
আয়োজক সংগঠন অভয়ারণ্যের সভাপতি নাইমুল ফারাবী বলেন, বাংলাদেশের প্রতিটি জেলার নিজস্ব বৈশিষ্ট্য, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য রয়েছে, যা সবার সামনে তুলে ধরার লক্ষ্যেই ‘বাংলাদেশী উৎসব’ আয়োজন করা হয়েছে। এ ভিন্নধর্মী উদ্যোগের মাধ্যমে উদ্দেশ্য ছিল বিভিন্ন জেলার জিআই পণ্য ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সামনে উপস্থাপন এবং তাদের এসব পণ্যের সঙ্গে পরিচিত করানো।
তিনি আরও বলেন, দেশের অধিকাংশ জিআই পণ্য খাদ্যভিত্তিক হওয়ায় অনেক সময় সরাসরি বিভিন্ন জেলায় গিয়ে সেগুলোর স্বাদ নেওয়া সম্ভব হয় না। সেই সীমাবদ্ধতা দূর করে ক্যাম্পাসেই বিভিন্ন জেলার স্বতন্ত্র পণ্যের স্বাদ গ্রহণের সুযোগ তৈরি করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয় এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন জেলা ছাত্রকল্যাণ সংগঠনের সমন্বয়ে এটি বাস্তবায়ন করা হয়েছে।
সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক তুষার মালাকার বলেন, “অভয়ারণ্যের উদ্যোগে আমরা একটি ব্যতিক্রমধর্মী ‘বাংলাদেশী উৎসব’ আয়োজন করেছি। এতে দেশের ৩৩টি জেলার অংশগ্রহণে নিজ নিজ জেলার ঐতিহ্যবাহী খাবার, জিআই পণ্য ও সংস্কৃতি উপস্থাপন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের সমৃদ্ধ ঐতিহ্য ও বৈচিত্র্য একসঙ্গে তুলে ধরা সম্ভব হয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “উৎসবে শিক্ষার্থীদের ব্যাপক অংশগ্রহণ ও উৎসাহ আমাদের অনুপ্রাণিত করেছে। আমাদের দীর্ঘ পরিশ্রম সফল হয়েছে বলে আমরা মনে করছি।”

logo-2-1757314069.png)
