বিশ্ব আজ এক অদৃশ্য কিন্তু ভয়াবহ শত্রুর মুখোমুখি—সন্ত্রাসবাদ। এর নির্মমতা শুধু নিরীহ মানুষের প্রাণ কেড়ে নেয় না, বরং ধ্বংস করে মানবিক মূল্যবোধ, গণতন্ত্র এবং বৈশ্বিক শান্তির ভিত্তিকে। সাম্প্রতিক ঘটনাবলি আবারও প্রমাণ করেছে, সন্ত্রাসবাদ শুধু একটি আঞ্চলিক সমস্যা নয়; এটি এখন বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য এক গভীর সংকট।
জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগামে সংঘটিত সাম্প্রতিক গণহত্যা এই বাস্তবতাকে আরও স্পষ্ট করে তোলে। পাকিস্তান-সমর্থিত জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তৈবার শাখা ‘দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট’ (TRF) ধর্মীয় পরিচয় আলাদা করে একজন বিদেশি নাগরিকসহ ২৬ জন নিরীহ পর্যটককে নৃশংসভাবে হত্যা করে। এই ঘটনা শুধু একটি সন্ত্রাসী হামলা নয়; এটি মানবতার ওপর সরাসরি আঘাত। আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও এই সংগঠনকে ইতোমধ্যে বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রার পথে এমন হামলা একটি সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত দেয়। জম্মু ও কাশ্মীর যখন সফল নির্বাচন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল, তখনই সাধারণ মানুষের মনে আতঙ্ক সৃষ্টি করতে এই বর্বর হামলা চালানো হয়। উদ্দেশ্য স্পষ্ট—শান্তি ও স্থিতিশীলতাকে নস্যাৎ করা।
২০২৫ সালের জুলাই মাসে পহেলগাম হত্যাকাণ্ডে জড়িত তিন পাকিস্তানি সন্ত্রাসীকে নির্মূল করা হলে তাদের কাছ থেকে প্রাপ্ত পরিচয়পত্রে পাকিস্তানি সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ মেলে। এই তথ্য আন্তর্জাতিকভাবে দীর্ঘদিনের অভিযোগকে আরও দৃঢ় করে—অ-রাষ্ট্রীয় শক্তিকে ব্যবহার করে সন্ত্রাস ছড়ানোর কৌশল এখনো বন্ধ হয়নি।
বর্তমানে সন্ত্রাসবাদের রূপও বদলেছে। অর্থায়নের ক্ষেত্রে ডিজিটাল ওয়ালেট ও ক্রিপ্টোকারেন্সির মতো এনক্রিপ্টেড মাধ্যম ব্যবহৃত হচ্ছে, যা গোয়েন্দা নজরদারিকে জটিল করে তুলেছে। ফলে সন্ত্রাস মোকাবিলা এখন শুধু সামরিক নয়, প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জও হয়ে দাঁড়িয়েছে।
উগ্রবাদের বিস্তারও উদ্বেগজনক। নিষিদ্ধ সংগঠনগুলো নতুন নামে, নতুন কৌশলে সক্রিয় হচ্ছে। জৈশ-ই-মোহাম্মদ নারী শাখা গঠন করছে, আর লস্কর-ই-তৈবা সমুদ্রপথে হামলার জন্য বিশেষ ইউনিট তৈরি করছে। এসব কার্যক্রম প্রমাণ করে যে, সন্ত্রাসবাদ শুধু টিকে নেই—বরং নিজেকে নতুনভাবে সাজাচ্ছে।
আন্তর্জাতিক পর্যায়েও এর প্রভাব ভয়াবহ। যুক্তরাষ্ট্র, দক্ষিণ কোরিয়া কিংবা নিউইয়র্ক—বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে পাকিস্তান-সংশ্লিষ্ট বা প্রভাবিত সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এসব ঘটনা দেখায়, সন্ত্রাসবাদ এখন সীমান্ত মানে না; এটি এক বৈশ্বিক মহামারি।
সবশেষে বলা যায়, সন্ত্রাসবাদ আজ মানবসভ্যতার অন্যতম বড় হুমকি। এটি শুধু একটি দেশের সমস্যা নয়; এটি সমগ্র বিশ্বের সমস্যা। তাই এর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে প্রয়োজন আন্তর্জাতিক ঐক্য, সচেতনতা এবং দৃঢ় রাজনৈতিক সদিচ্ছা। মানবতার পক্ষে দাঁড়িয়ে এই অমানবিকতার বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়াই এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি।

logo-2-1757314069.png)
