Logo
×

বিবিধ

ইবিতে অনুষ্ঠিত হলো তিন দিনব্যাপী ‘বৈশাখীয়ানা উৎসব’

Icon

ইবি প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২২ এপ্রিল ২০২৬, ১৩:১১

ইবিতে অনুষ্ঠিত হলো তিন দিনব্যাপী ‘বৈশাখীয়ানা উৎসব’

বাংলা নববর্ষকে ঘিরে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন স্বপ্নবিতানের উদ্যোগে তিন দিনব্যাপী ‘বৈশাখীয়ানা উৎসব-১৪৩৩’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার (১৯ এপ্রিল) শুরু হয়ে মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলা প্রাঙ্গণে এ উৎসবের সমাপ্তি ঘটে। শেষ দিনেও দর্শনার্থীদের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।


বাঙালির ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতি তুলে ধরা এবং সংস্কৃতির মাধ্যমে দেশপ্রেমের বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে আয়োজিত মেলার সাজসজ্জায় ব্যবহার করা হয়েছে মাটির আসবাবপত্র এবং গামছার মতো দেশীয় ও ঐতিহ্যবাহী উপকরণ।


তিন দিনব্যাপী উৎসবটি উদ্যোক্তা মেলা, লোকগানের উৎসব, লোকসংস্কৃতির প্রদর্শনী ও কনসার্ট—এই চারটি আয়োজনে বিভক্ত ছিল। এর মধ্যে ২০ এপ্রিল অনুষ্ঠিত সাংস্কৃতিক পর্বের উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নসিম মোহাম্মদ নাসরুল্লাহ। ল্যাবরেটরি স্কুলের শিক্ষার্থীদের জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। দিনব্যাপী লোকসংগীত, লোকনৃত্যসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিবেশনা দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করে। 


উৎসবের অংশ হিসেবে আয়োজিত উদ্যোক্তা মেলায় মোট ৩২টি স্টল বসে। স্টলগুলোতে পোশাক, কারুপণ্য, লোকশিল্প, শিশু-কিশোরদের খেলনা, নারীদের সাজসজ্জার সামগ্রী এবং বিভিন্ন লোকজ খাদ্যদ্রব্য ও মিষ্টান্ন বিক্রি হয়। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী খাবারের মধ্যে টাঙ্গাইলের চমচম, ফরিদপুরের ভেলপুরি ও রসগোল্লা বিশেষভাবে দর্শনার্থীদের আকর্ষণ করে। পাশাপাশি পাহাড়ি সংস্কৃতির বৈচিত্র্যময় উপস্থিতিও ছিল চোখে পড়ার মতো। বিনোদনের জন্য নাগরদোলাসহ নানা আয়োজন যুক্ত করা হয়।


আয়োজন কমিটির আহ্বায়ক সিনথিয়া সরকার দিনা বলেন, স্বপ্নবিতান প্রতিষ্ঠার পর থেকেই সংগঠনটি বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতি সংরক্ষণে কাজ করে যাচ্ছে। আধুনিকতার প্রভাবে গ্রামীণ সংস্কৃতির চিরচেনা আবহ হারিয়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে নতুন প্রজন্মকে সেই ঐতিহ্যের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতেই ‘বৈশাখীয়ানা’ উৎসবের সূচনা করা হয়েছে।


তিনি আরও জানান, প্রথম দিন গ্রামীণ মেলার আদলে আয়োজন করা হয়। দ্বিতীয় দিনে সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মাধ্যমে ফোক ঘরানার বিশেষ উপস্থাপনা যুক্ত করা হয়, যা দর্শকদের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পায়। শেষ দিনে আধুনিক গান ও নৃত্য পরিবেশনার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে ব্যান্ড ‘নীল’-এর পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হয়।


স্বপ্নবিতানের সভাপতি সায়েম আহমেদ বলেন, নতুন বছরকে বছর বরণ করে নেয়ার জন্য স্বপ্নবিতান দ্বিতীয়বারের মতো আয়োজন করেছিলো 'বৈশাখীয়ানা উৎসব-১৪৩৩। বাংলাদেশের সংস্কৃতিকে তুলে ধরার জন্য আমাদের অবিরত প্রচেষ্টা অব্যহত রয়েছে। আমাদের আছে সংস্কৃতিক অঙ্গন– যার মধ্য দিয়ে  সংস্কৃতির মাধ্যমে দেশপ্রেমকে জাগ্রত করা হয়। 


তিনি আরও বলেন, এ উৎসব উপলক্ষে আমরা উদ্যোক্তাদের জন্য মেলা এবং সেই সাথে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছি। এখানে লোকগান, লোকসংস্কৃতির আয়োজন ও কনসার্টের আয়োজন ছিলো। ক্যাম্পাস ও আশপাশের সবাই আমাদের অনুষ্ঠানটি উপভোগ করেছে।