জবি কেন্দ্রীয় মসজিদ বিষয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য স্পষ্টিকরণে সংবাদ সম্মেলন
জবি প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২১ এপ্রিল ২০২৬, ২১:৪৫
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং বিভিন্ন প্রিন্ট মিডিয়ায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ বিষয়ে যে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচারিত হয়েছে তা স্পষ্ট করতে মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কার্যালয়ের কনফারেন্স রুমে এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন।
সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে উপাচার্য উপস্থিত সাংবাদিকদের স্বাগত জানিয়ে বলেন, সম্প্রতি কেন্দ্রীয় মসজিদ বন্ধ রাখা সংক্রান্ত যে তথ্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও বিভিন্ন প্রিন্ট মিডিয়ায় প্রচারিত হয়েছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। তিনি স্পষ্ট করে জানান, এ ধরনের কোনো নির্দেশনা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে প্রদান করা হয়নি। প্রশাসনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার উদ্দেশ্যে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এ ধরনের বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
মসজিদের পবিত্রতা রক্ষা কিংবা সাশ্রয়ী ব্যবস্থাপনার কথা উল্লেখ করে মসজিদ তালাবদ্ধ করা, কিংবা নির্দিষ্ট সময়—যেমন সাড়ে বারোটা পর্যন্ত সীমাবদ্ধ রাখার যে বিষয়গুলো প্রচারিত হয়েছে, সেগুলোর সাথেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। বিষয়টি সবার কাছে পরিষ্কার করার জন্য আমি জোর দিয়ে বলতে চাই—এ ধরনের কোনো সিদ্ধান্ত বা নির্দেশনা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়নি। যদি কেউ অতি উৎসাহী হয়ে এমন কোনো পদক্ষেপ নিয়ে থাকে, তবে তা সম্পূর্ণরূপে প্রশাসনের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে করা হয়েছে।
আমি সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আহ্বান জানাই, ভবিষ্যতে কেউ যেন এ ধরনের অতি উৎসাহী কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে না পড়েন। কোনো বিষয়ে বিভ্রান্তি বা প্রশ্ন তৈরি হলে তা সরাসরি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করে যাচাই-বাছাই করা উচিত। যাচাই ছাড়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বা গণমাধ্যমে কোনো তথ্য প্রচার করা থেকে আমাদের সবাইকে বিরত থাকতে হবে।
আমরা সবাই মিলে এই বিশ্ববিদ্যালয়কে এগিয়ে নিতে চাই। তাই পারস্পরিক সহযোগিতা, শ্রদ্ধাবোধ এবং ইতিবাচক মনোভাব অত্যন্ত জরুরি। কেউ যেন কারো বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগ বা চরিত্রহননের চেষ্টা না করেন—এ ব্যাপারে আমি বিশেষভাবে গুরুত্বারোপ করছি। আমি বিশ্বাস করি, আমরা যদি অপ্রয়োজনীয় বিরোধিতা ও নেতিবাচক সমালোচনার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে পারি, তবে একটি উন্নত, সুসংগঠিত ও কাঙ্ক্ষিত জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
সবশেষে বলতে চাই, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কোনো ত্রুটি বা সীমাবদ্ধতা যদি কারো দৃষ্টিগোচর হয়, তাহলে আমার কার্যালয় সবার জন্য উন্মুক্ত। তথ্য যাচাই না করে বিভ্রান্তি সৃষ্টি না করে, গঠনমূলক সহযোগিতার মাধ্যমে আমরা সবাই একসঙ্গে এগিয়ে যাব—এই প্রত্যাশা ব্যক্ত করছি।
সংবাদ সম্মেলনের একপর্যায়ে উপস্থিত সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন উপাচার্য। এ সময় কেন্দ্রীয় মসজিদের সিনিয়র পেশ ইমাম মোঃ ছালাহ্ উদ্দিন জানান, মসজিদে নোটিশ টানানো, তালাবদ্ধ করা বা সময় নির্ধারণের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কিংবা মসজিদ কমিটির আহ্বায়কের পক্ষ থেকে কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি।
সংবাদ সম্মেলনে বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমীন, রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. শেখ গিয়াস উদ্দিন, শিক্ষক সমিতির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মঞ্জুর মুর্শেদ ভূঁইয়া, সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. ইমরানুল হক, প্রক্টর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন এবং কেন্দ্রীয় মসজিদ কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. শেখ রফিকুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

logo-2-1757314069.png)
